আমাদের কথা

যোগাযোগের জন্য

ফন্ট ডাউনলোড

সদস্য হতে
Akk Banner
Home Education Literature Audio Book Sports 1971
Home     >   Education     >   Essay (Bangla)     > 
  1. বাংলাদেশের ফসল/শস্য
  2. বাংলাদেশের পাখি
  3. বাংলাদেশের শীতকাল
  4. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
  5. আমার প্রিয় শিক্ষক
  6. আমাদের খাদ্য সমস্যা
  7. বাংলাদেশের কৃষক
  8. আমার মা
  9. আমাদের জাতীয় ফল / কাঠাল
  10. বাণিজ্য মেলা
  11. বঙ্গবন্ধু সেতু / বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু
  12. এ, কে, ফজলুল হক
  13. একজন মহৎ লোকের জীবনী / হযরত মুহাম্মদ (সঃ)
  14. একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন
  15. বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা
  16. আমাদের দেশ
  17. বাংলাদেশের ঘুর্নিঝড়
  18. আমাদের স্কুল গ্রন্থাগার
  19. বাংলাদেশের বন্যা
  20. ঢাকা শহর
  21. বাংলাদেশের বসন্তকাল
  22. বাংলাদেশের বর্ষাকাল
  23. বাংলাদেশের ফল
  24. বাংলাদেশের ফুল
  25. ডাক পিয়ন
  26. তোমার প্রিয় কবি
  27. মজার যে লোকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল
  28. গ্রাম্য ডাক্তার
  29. রেল ভ্রমণ
  30. নৌকা ভ্রমণ
  31. আমার প্রেয় খেলা
  32. স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
  33. ক্রিকেট
  34. হা-ডু-ডু
  35. আমার দেখা একটি ফুটবল খেলা
  36. একটি ধর্মিয় উৎসব/ ঈদুল ফিতর
  37. মে দিবস
  38. একুশে ফেব্রুয়ারি/ শহীদ দিবস
  39. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
  40. বিজয় দিবস
  41. আমার জীবনের লক্ষ্য/ উদ্দেশ্য
  42. আমার দৈনন্দিন জীবন
  43. ছাত্র জীবন
  44. শৃংখলা
  45. সংবাদপত্র
  46. শারীরিক ব্যায়াম
  47. শখ
  48. নিয়মানুবর্তিতা

  1. সময়ের মূল্য
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. স্বদেশ প্রেম
  4. আমার বাল্যকাল
  5. মাতা পিতার প্রতি আনুগত্য
  6. বিজ্ঞানের মূল্য
  7. সিনেমা
  8. ডিশ এন্টেনা
  9. নারী শিক্ষা
  10. বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা
  11. সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা / সততা
  12. স্বাস্থ্যই সম্পদ /স্বাস্থ্য
  13. কারীগরী শিক্ষা
  14. উপজেলা প্রশাসন
  15. খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা
  16. বাংলাদেশের পল্লী বিদ্যুতায়ন
  17. সার্ক
  18. শান্তি চু্ক্তি
  19. নিরক্ষরতা
  20. অধিক খাদ্য ফলাও
  21. যানযট
  22. মাদকাসক্তি একটি অভিশাপ
  23. সন্ত্রাস
  24. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
  25. প্রাত্যাহিক জীবনে বিজ্ঞান /বিজ্ঞানের আশীর্বাদ
  26. গনশিক্ষা
  27. সংবাদপত্র পাঠ
  28. তোমার স্কুলের প্রথম দিন
  29. পরিবার পরিকল্পনা
  30. বৃক্ষ রোপন
  31. গরু
  32. আমার পোষা প্রাণী / আমাদের গৃহপালিত পোষা
  33. আমাদের বিদ্যালয় / তোমাদের বিদ্যালয়
  34. তোমার গ্রাম /  তোমার নিজ গ্রাম
  35. চাউল / ভাত
  36. পাট / বাংলাদেশের সোনালী আঁশ
  37. চা / বাংলাদেশের জনপ্রিয় পানীয়
  38. একটি গ্রাম্য মেলা
  39. একটি গ্রাম্য বাজার
  40. কাগজ
  41. বেতার যন্ত্র (রেডিও)
  42. টেলিভিশন
  43. তোমার প্রতিবেশী
  44. আমাদের জাতীয় পতাকা
  45. বাংলাদেশের জাতীয় ফুল / শাপলা
  46. বাঘ / বাংলাদেশের জাতীয় পশু
  47. বাংলাদেশের গ্রহপালিত প্রাণী
  48. আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল
বাংলাদেশের ফসল/শস্য
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ ফুল, ফল এবং ফসলের দেশ। সারা বছরব্যাপি এদেশের জনগণ তাদের জমিতে বিচিত্র ফসল ফলিয়ে থাকে। ধান, গম, মরিচ, ডাল, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, বিচিত্রফল, পাট, চা, তুলা, তামাক, বাঁশ, ইক্ষু, রাবার ইত্যাদি হলো গুরুত্বপূর্ণ।
 
ফসলের শ্রেণী বিভাগঃ ধান, গম, ডাল, মরিচ, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ ইত্যাদি হলো খাদ্য শস্য এবং পাট, চা, তামাক,তুলা, বাঁশ, রাবার ইত্যাদি হলো অর্থকরী ফসল বা শস্য। খাদ্য শস্য খাওয়া হয় এবং অর্থকরী ফসল যোগান দেয়।
 
খাদ্য শস্যঃ সকল খাদ্য শস্যের মধ্যে ধান হলো আসল। বাংলাদেশীদের প্রধান খাদ্য হলো ধান। ধান চার ধরণের যেমন-আমন, আউস, বোরো এবং ইরি। ধান বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্মে থাকে। আজকাল প্রচুর গম উৎপাদন করা হয়। এগুলো ছাড়া, মরিচ, বালি, যোয়ার এবং বাজরাও আমাদের দেশে উৎপন্ন হয়।
 
অর্থকরী ফসলঃ অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট, চা, তুলা, রাবার, এবং তৈল বীজই হলো গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পৃথিবীর ৮৫% পাট উৎপাদন করে থাকে। পাট এদেশের জেলাতেই জন্মে । এর পরে গুরুত্ব ফসল হলো চা। চা সিলেট ও চট্রগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। তুলা , রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। এগুলো আমাদের নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
 
ফসলাদিঃ বিভিন্ন রকমের ফল-আম, আনারস,কাঁঠাল, কমলা, কলা এবং নারিকেল আমাদের দেশে উৎপন্ন হয়। কলা আর নারিকেল সারা বছর ধরে আমরা পেয়ে থাকি।
 
ফসলের অর্থনৈতিক মূল্যঃ  আমাদের দেশের অর্থনীতি ফসলের উপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশে অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে যাতে দেশের আভ্যান্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে অর্থ আয় হয়। বেশি করে পাটকল, তুলাকল, চা - কারখানা, তামাক - কারখানা এবং চামড়া কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে যাতে দেশে উৎপাদিত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে।
 
উপসংহারঃ বাংলাদেশ ফসল বা শস্যের দেশ। আমাদেরকে অধিক পরিমাণ শস্য উৎপাদন করতে হবে যাতে আমরা  এদেশকে পৃথিবীতে ধনী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।
বাংলাদেশের পাখি
 
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বংলাদেশকে বিভিন্ন প্রজাপতির পাখির আবাস স্থলে পরিনত হতে সাহায্য করেছে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে এখানে বিভিন্ন আকৃতির, রঙের এবং গঠনের পখির বিচরণ দেখা যায়।
 
নানা জাতের পাখিঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে দোয়েল, কাক, মাছরাঙা, চড়ুই, চিল, সারস, কবুতর, বৌ-কথাকও, ময়না, কোকিল প্রভৃতি।
 
বর্ণনাঃ দেয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। এটি দেখতে  খুব সুন্দর। এটি আকৃতিতে ছোট। ইহার দেহ কাল এবং সাদা রঙের পালকে আবৃত । বাংলাদেশের সর্বত্র এ পাখিটি দেখা যায়। কাক কালো এবং কদাকার পাখি। এটি তিন জাতের, দাড়কাক, পাতি কাক এবং কৃঞ্চ কাক।
ইহার লম্বা এবং শক্ত ঠোঁট আছে। উচু গাছে ইহা তাদের বাসা বাঁধে। ইহা কীটপতঙ্গ, ভাত এবং শস্য খায়।
 
বাংলাদেশের একটি সুন্দর পাখি হচ্ছে মাছরাঙা। এটি আকারে ছোট। ইহার নম্বা ঠোঁট আছে এবং মাথা বাদামী বর্ণের। ইহা ছোট মাছ খায়। পুকুর অথবা নদীর কিনারায় এটি বাস করে। চিল বাংলাদেশের আরেকটি কদাকার পাখি। এটি আকাশের উঁচুতে উড়ে। ইহার দৃষ্টি শক্তি খুব তীক্ষ্ণ। ইহা ছোঁ মেরে নীচে এসে ব্যাঙ এবং মাছ ধরে । মাঝে মাঝে ইহা মুরগীর বাচ্চা চুরি করে। উঁচু গাছে ইহারা তাদের বাসা তৈরী করে।
 
সারস পাখির লম্বা গলা এবং শক্ত ঠোঁট আছে। এটি জলাশয় বা নদীর ধারে বাস করে। মাছ খেয়ে ইহা জীবন ধারণ করে। কবুতর একটি ছোট পোষা পাখি। ইহার দেহ  ছোট এবং নরম পালকে আবৃত। ইহা চাল, শস্যাদি এবং পোকামাকড় খায়। বৌ-কথাকও বাংলাদেশের কোন বিশেষ সময়ের একটি পাখি। এটি সাধরনতঃ বসন্তকালে দেখা যায়। বাংলাদেশের আরেকটি সুন্দর পাখি ময়না । বাদামী বর্ণের এ পাখিটির ঠোঁট হলুদ। এর পাগুলোও হলুদ। ইহা একটি পোষা পাখি। এটি অতি সহজেই অন্যের কন্ঠ অনুকরণ করতে পারে। অনেক লোক এটাকে পোষা পাখি হিসেবে পালন করে। মাছ এবং শস্য খেয়ে ইহা জীবন ধারন করে।
 
উপসংহারঃ বাংলাদেশে আরো বিভিন্ন প্রজাপতির পাখি আছে। এগুলো বর্ণে,ম আকারে এবং গঠনে বিভিন্ন ধরণের। এই পখিগুলো ব্যপকভাবে বাংলাদেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। 
বাংলাদেশের শীতকাল
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ ষড় ঋতুর দেশ। শীতকাল তাদের অন্যতম। হেমন্তের পরেই শীতের আর্বর্ভাব। পৌষ এবং মাঘ মাস নিয়ে শীতকাল। ইহা গ্রীষ্মের বিপরীত। সারা দেশকে শীত কাঁপিয়ে তোলে। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে শীত ততটা যন্ত্রনাদয়ক নয়।
 
প্রধান বৈশিষ্ট্যঃ শীতকার কুয়াশাচ্ছন্ন হয়। শীতকালে রাতে এবং সকালে সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কুয়াশা পড়ে। গাছের পাতার উপরে অথবা ঘাসের ডগায় কুয়াশা জড়ো হয়ে ফোটায় পরিনত হয়। ভোরের সূর্যের  রশ্মিতে যখন এগুলোর ফোটা চকচক করে তখন এগুলোকে হীরকের মতো মনে হয়।
 
সবিধাঃ শীতকাল সম্পূর্ণরূপে অভিশাপ নয়। বিভিন্ন ক্রিয়া কর্মের জন্য শীতকাল একটা সুন্দর সময়। শীতকালে খেজুর গাছ থেকে রস পাওয়া যায়। এই দিয়ে গুড়, মিছরি এবং চিনি তৈরী হয়। তাই এই ঋতুতে গৃহকত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরী করে থাকেন। শীতকারে শাকসবজি এবং ফলমুল যেমন- বাধাকপি, ফুলকপি, পিয়াঁজ এবং কমলা প্রচুর পরিমাণে জন্মে।
 
অসুবিধাঃ শীতকালে রাত, দিন অপেক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়। উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বায়ু প্রবাহিত হয়। ধনী লোকেরা শীতকালে দিনের বেলায় গরম গরম কাপড় পরিধান করে এবং রাতে লেপের দ্বারা আবৃত হয়ে থাকে। কিন্তু শীতকাল গরীবদের জন্য অসহীয় কষ্টদায়ক কারণ তারা কাপড় কিনতে পারে না।
 
উপসংহারঃ শীতকালে প্রকৃতিকে বিষন্ন মনে হয়। এ সময় গাছপালা পাতাশূন্য হয়ে পড়ে । এ ঋতুতে পাখিরা বিভিন্ন দেশে বেড়াতে যায়।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

 
সূচনাঃ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। যাঁরা বিশ্ব প্রকৃতির অনন্ত বিচিত্রির মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেতে চায়, তাঁদের পক্ষে এদেশের নির্মল আকাশ, নদী-কান্তার, পুষ্প-পল্লব, বটকৃক্ষ ছায়া এবং সুশীতল পল্লী বীথিকায় আছে এক অপূর্ব আবেদন।
 
ভূমির সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশের আয়তন প্রায় ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার। এর সমগ্র ভূমিই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বিরাট এলাকা জুড়ে রয়েছে এর সমতল ভূমি, যা দেখেতে খুবই সুন্দর। অন্যদিকে সিলেট, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রামে রয়েছে উঁচু উঁচু পাহাড়। এছাড়াও এখানে আছে ঘন বন। যার মধ্যে খুলনা সন্দর বন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার এ সুন্দর বনেই বাস করে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যাবলী শুধুমাত্র এদেশের মানুষের জন্যেই নয়: বরং সমগ্র বিশ্বের পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয়।
 
নদন-নদীর সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশ একটি নদীর দেশ। পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা বাংলাদেশরে বড় নদী। সমতল ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি মাটিকে গাছপালা বৃদ্ধির জন্য উর্বর করে তোলে। এ নদীগুলোর অবদানের ফলেই বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাগান বলে অভিহিত করা যায়।
 
বিভিন্ন ঋতুর সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশে বার মাস ধরেই চলে ষড় ঋতুর বৈচিত্রাবলী। গ্রীষ্মকাল সূর্য উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং মাটিতে আনে তীব্র আঘাত। সূর্যের এই দগ্ধ তাপে মানুষ হয়ে উঠে ক্লান্ত । কিন্তু গ্রীষ্মকালীন আম, কাঁঠাল এবং  লিচু অবসন্নত দূর করে দেয়। এর পরই আকাশ হয়ে উঠে মেঘাচ্ছন্ন। আর প্রবল বৃষ্টিতে প্রকৃতি ঠান্ডা হয়ে হয়ে যায়। বর্ষাকালের বিদায়লগ্নেই অগমন হয় শরতের। হেমন্ত হচ্ছে শরতের অগ্রদূত। এ ঋতু আমাদের দেশের কৃষকদের জন্য খুবই আনন্দের কারণ তখন তারা ধান কেটে বাড়ি নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকে। কনকনে ঠান্ডা  নিয়ে আসে শীতকাল। প্রকৃতিকে নির্জীব এবং নিরলস দেখা যায়। শীতের পর পরেই আসে ঋতুরাজ বসন্ত। গাছে গাছে ফুল ফোটে, আর আমাদের দেয় মিষ্টি গন্ধ।
 
উপসংহারঃ বাংলাদেশের বুকে সারা বছরই সীমাহীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিরাজ করে। মানুষের মন ও চরিত্রের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ সম্পদ।
আমার প্রিয় শিক্ষক
 
সূচনাঃ শিক্ষকরা হলেন আমাদের পথ প্রদর্শক, দার্শনিক এবং বন্ধু । আমি আমার সকল শিক্ষককে পছন্দ করি এবং সম্মান করি। প্রত্যেক শিক্ষকের নিজস্ব একটা যোগ্যতা আছে তারা আমার জন্য যাহা করেছেন তার জন্য আমি তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমার প্রিয় শিক্ষক হচ্ছেন জনাব নজুরুল ইসলাম যিনি আমাদের ইংরেজী পড়ান।
 
তার শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ জনাব নজরুর ইসলাম হলেন ইংরেজীতে এম. এ.এম.এড। আমি শুনেছি যে তিনি খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
 
কেন আমি তাকে অধিক পছন্দ করিঃ আমি তাকে অনেক কারণে সর্বাপেক্ষা বেশী পছন্দ করি। তিনি আমাদের ইংরেজী সাহিত্য পড়ান এবং যে কেউ দেখতে পাবেন যে তিনি তার বিষয়কে শ্রদ্ধা করেন। আমার প্রিয় শিক্ষকের কন্ঠস্বর সুন্দর। যখন তিনি কথা বলেন তখন সবাইকে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। যখন তিনি কিছু বলেন আমি তাহা মনোযোগ দিয়ে শুনি। তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক। তাহার মহৎ চরিত্র, কথা বলার কৌশল এবং শিক্ষাদান পদ্ধতি আমাকে খুব মুগ্ধ করে। তিনি অতিরিক্ত কথা বলেন না। তাহার কথা বলার বাচন ভঙ্গি সাদাসিদে, স্বতন্ত্র এবং বেগবান। তিনি আমাদের ক্লাসের নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলেন। তিনি দৈহিক শাস্তি প্রদান করেন না। তাহার হাসিমুখ মিশ্রিত উপদেশ এবং নির্দেশনা আমাদের সকলের মনে ছাপ ফেলে। তিনি আমাদের সুখ দুঃখে অংশীদার হন। সকল সম্ভাব্য উপায়ে তিনি আমাদের পথ নির্দেশনা দেন। গরীব ছাত্রদের তিনি বাধা দেন এবং পুনরায় সুন্দর করে গড়ে তোলেন। এ সকল কারণে আমি তাকে সর্বাধিক পছন্দ করি।
 
উপসংহারঃ জনাব নজুরুল ইসলাম হলেন যথোপযুক্ত রুচিসম্পন্ন এক মহৎ লোক । স্বভাবে তিনি পরিস্কার এবং পরিচ্ছন্ন । তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন। তার মতো একজন শিক্ষক যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্ব। অন্যদের মতো আমি তাকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে দেখেছি। 
আমাদের খাদ্য সমস্যা
 
সূচনাঃ এক সময় বাংলাদেশ ছিল শস্যের ভান্ডার। কিন্তু সেই সুখের দিন আজ চলে গেছে। এখন আমরা প্রকট খাদ্যের অভাবে ভূগছি। ইহা আমাদের অস্তিত্তের হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।
 
সমস্যার বর্তমান অবস্থাঃ খাদ্য সমস্যা অনেকাংশে শস্যের উৎপাদন এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। আমাদের কৃষকেরা এখন তাদের প্রাপ্ত ফসলের সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যদি তারা এ সকল সবিধা পেত তাহলে হয়ত বা তারা সচ্ছল হতে পারত।
 
সমস্যার কারণঃ বাংলাদেশে খাদ্য সমস্যার অনেক কারণ আছে। আমাদের চাষাবাদ পদ্ধতি এবং খাদ্য  উৎপাদনের অন্যান্য পন্থাগুলো ক্রুটিপূর্ণ এবং অবৈজ্ঞানিক। প্রধানতঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, ঘুর্নিঝড়, খরা এবং কীটপতঙ্গ প্রতি বছর আমাদের উৎপন্ন ফসলের ক্ষতি করে। পক্ষান্তরে অজ্ঞতার কারণে কৃষকেরা কাঙ্খিত খাদ্য উৎপন্ন করতে পারে না। আর এ কারণে আমাদের খাদ্য সমস্যা।
 
সরকারের ভূমিকাঃ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা অধিক মুনাফার লোভে খাদ্যকে গুদামজাত করে কৃত্তিম সমস্যার সৃষ্টি করেন । এক্ষেত্রে সরকারকে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করা দরকার। অবশ্যই তাৎক্ষনিকভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে আটক করা এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া উচিৎ। সরকারের উচিৎ একান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী যেমন চাল, চিনি, লবন, মসলা এবং পিয়াজ আমদানী করা । এমনকি সরকারের উচিৎ পুলিশ বাহিনী দ্বারা কালোবাজারীদের প্রতিরোধ করা।
 
সমাধানঃ এ সমস্যা সমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং সমবায় সমিতির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতির প্রবর্তন করা উচিৎ। সরকার কর্তৃক কৃষকদের উন্নত বীজ, সার, ধান প্রভৃতি সরবরাহ করা উচিৎ।  সরকার কর্তৃক শুষ্ক মৌসুমে কৃত্রিম পানি সেচের যন্ত্রপাতিরও সংশোধন করা উচিৎ। সর্বোপরি, সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দুরীকরণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ যাতে কৃষকেরা অতি সহজে যান্ত্রিক চাষাবাদ এবং উপযুক্ত সময়ে কীটনাশক ঔষধ এবং সার প্রয়োগের ব্যবহার বিধি শিখতে হবে।
 
উপসংহারঃ পরিশেষে আমরা বলতে পরি খাদ্য সমস্যা হল প্রকৃতি এবং মানুষ উভয় কর্তৃক সৃষ্ট সমস্যা। আমাদের উচিৎ এ সমস্যাগুলো দূরীভূত করার জন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টা এবং দক্ষতার সক্রিয় প্রয়োগ এবং বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে তোলা।
বাংলাদেশের কৃষক
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ প্রধানত একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি হল এদেশের অর্থনীতিরি ভিত্তি। যে সকল লোক জমি চাষ করে তাদেরকে কৃষক বলা হয়। কৃষকেরা ফসল জন্মায় যা আমাদের মৌলিক প্রয়োজনে অতীব গুরুত্বপূণ। তারা আমাদের দেশের মেরুদন্ড।
 
কৃষকদের বৈশিষ্ট্যঃ আমাদের দেশে তিন শ্রেণীর কৃষক আছে। ধনী উচ্চ শ্রেণীর কৃষক, মধ্য শ্রেণীর কৃষক এবং ভূমিহীন কৃষক। মধ্য শ্রেণীর কৃষকসহ আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকেরা সাধারনত নিজেদের ষাঁড়  দিয়ে জমি চাষ করে এবং কোন রকমে তার নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য জন্মাতে পারে। ধনী শ্রেণীর কৃষকের সংখ্যা খুবই কম এবং তারা তাদের সাধারন জীবনযাপনের পরেও জমি থেকে অনেক সম্পদ পায়। ভূমিহীন কৃষকেরা অন্যের  জমি  চাষাবাদ করে এবং জমির মালিকের কাছ থেকে তারা ফসলের সামান্য অংশ পায়।
 
চাষাবাদ পদ্ধতিঃ আমাদের দেশের চাষাবাদ পদ্ধতি খুবই অপ্রচলিত। কৃষকদের অধিকাংশই গরীব এবং মূর্খ। চাষাবাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মতো সামর্থ্য তাদের নেই। তারা বলদ দিয়ে তাদের জমি চাষ করে এবং ফসল কাঁটতে কাস্তে ব্যবহার করে। তার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি চাষ করার নিয়মো জানে না। যার ফলে চাষাবাদের জমি থেকে আমরা ভাল উৎপাদন পাই না।
 
কৃষকদের অবস্থাঃ আমাদের কৃষকদের জীবনমান খুবই নিম্ন। এমনকি তাদেরকে জীবনধারনের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবেও  কষ্ট ভোগ করতে হয়। তার হতভাগ্য, তাদের প্রতি মন্দ আচরণ করা হয় এবং তারা আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত । তারা কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু উপযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। যার ফলে তারা বিভিন্ন রোগে ভোগে। তাদের ছেরে মেয়েরা ভাল শিক্ষা পায় না এবং তারা পূর্ব পুরুষদের পথ অনুসরণ করে।
 
গৃহীত পদক্ষেপ সমূহঃ আমাদের কৃষকদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতিকল্পে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। তাদেরকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া উচিৎ। তাদের হাইব্রিড বীজ, সঠিক কীটনাশক ঔষধ এবং উপযুক্ত পরিমাণে সার দিতে হবে যাতে করে তারা অধিক খাদ্য জন্মাতে পারে। কৃষিজাত দ্রব্যের ন্যায় সংগত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে যাতে কৃষকেরা তাদর ফসলের সঠিক মূল্য পেতে পারে। সেচ ব্যবস্থার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের কম সূদে ধান সুবিধা দিতে হবে।
 
উপসংহারঃ আমাদের দেশের উন্নতি প্রধানত আমাদের কৃষির উন্নতির উপর নির্ভরশীল। আমাদের কৃষকদের অবহেলা করা উচিৎ নয় এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের সকল সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।
আমার মা
 
সূচনাঃ 'মা' শব্দটি আমার কাছে খূবই প্রিয়। এই পৃথিবীতে আগমনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি আমাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। যখন আমি কেবল শিশু ছিলাম তখন তিনি আমাকে স্তন্য পান করিয়েছেন এবং এভাবে আমি বড় হয়ে উঠেছি। আমি কখনও আমার মাকে ভুলতে পারি না। আমার সকল স্বপ্ন তাকে  নিয়ে। আমি পাগল হয়ে যাই যখন আমি তাকে দেখতে না পাই। যে কোন বিপদে তিনি আমার আশ্রয়স্থান।
 
মায়ের ধর্মীয় মর্যদাঃ পরিবারে মায়ের স্থান অনেক উপরে। ইসলাম ধর্মে বর্নিত আছে "মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত।" আল্লাহ নির্দেশ করেছেন, তোমরা আমার ব্যতীত যদি অন্য কাউকে সেবা করতে চাও তাহলে তোমাদের পিতা মাতার সেবা কর। সকল ধর্মেই মায়ের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে।
 
আমার ব্যস্ততম মাঃ আমার মা একজন গৃহীনি। আমাদের সাত সদস্যবিশিষ্ট সংসারের যাবতীয় গৃহস্থালীর কাজ কর্ম তাকে করতে হয়। তিনি আমাদের সেবা যত্ন করেন এবং পিতাকেও বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন। তিনি নিজেই আমাদের পোশাক তৈরী করে দেন। তিনি আমাদের দেখা শুনা, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিস্কার প্রভৃতি কাজ করে থাকেন। সংসার রক্ষনাবেক্ষনের ব্যাপারে তার ভুমিকা খুবই প্রশংসনীয়। কাজ করতে তিনি ক্লান্তি বোধ করেন না। আমি অবাক হয়ে যাই যে তিনি খুব সকাল থেকে কাজ শুরু করেন এবং অবিরাম কাজ করতে থাকেন। আমাদের পরিবারের সাবাই তার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান সম্পর্কে তিনি খুবই সচেতন। আমরা যখন আসুস্থ্ হই তখন তিনি আমাদের সেবা করেন। আমি আমার মাকে নিয়ে খুব গর্বিত।
 
আমার বিষন্ন মাঃ আমার মা একজন স্নাতক ড্রিগ্রীধারিনী। এমনকি তখন থেকেই তিনি স্পষ্টত একজন গৃহিনী । তিনি যে কোন মর্যাদাপূর্ণ চাকুরী করতে সক্ষম। কিন্তু আমার পিতা তাকে বাহিরের কাজ কর্ম করা থেকে বিরত রেখেছেন। পিতার রক্ষনশীল মনোভাবের জন্য মা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তার পক্ষে কিছুই করার ছিল না। এমনকি আজও আমার মা পিতার অবিচারের কথা ভূলতে পারে নাই।
 
উপসংহারঃ মা এবং মাতৃভূমি স্বর্গ থেকেও উত্তম। আমার মা-ই হচ্ছে আমার জীবন। আমি আমার মাকে ছাড়া কিছু চিন্তা করতে পারি না। আমি আমার জীবনের চেয়ে মাকে বেশী ভালবাসি।
আমাদের জাতীয় ফল / কাঠাল
 
সূচনাঃ কাঁঠাল আমদের জাতীয় ফল । ইহা সকল ফলের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। ইহা খুব সুস্বাদু  ফল এবং প্রায় সকলেই ইহাকে পছন্দ করে। আমাদের দেশের সর্বত্রই এ ফলটি অহরহ পওয়া যায়।
 
কোথায় জন্মেঃ আমাদের দেশের সব জায়গাতে কাঁঠাল জন্মে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে উঁচু জায়গা যেখানে  প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, সেখানটাতে কাঁঠাল চাষের জন্য উপযুক্ত। টাংগাইল, মধুপুর, ভওয়াল গড়, যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং সাভারে প্রচুর কাঁঠাল জন্মে।
 
বর্ণনাঃ কাঁঠাল খুব বড় আকৃতির ফল। ইহার ওজন ৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। ইহার আবরণ কাঁটা ভরা এবং দেখতে হলুদ কিংবা কাল বর্ণের । ইহাতে প্রচুর পরিমানে কোষ থাকে যেগলো দেখতে হলুদ বর্ণের। পত্যেক কোষে একটি বীচি থাকে । আমরা শুধু  কোষ খাই। এই কোষ থেকে আমরা রসও পাই । যখন ইহাকে নিষ্পেষিত করা হয়। কাঁঠাল গাছ খুব বড় হতে পারে। সাধারণতঃ খুব বড় গাছগুলোতে কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায় । স্বভাবত কাঁঠাল গাছের মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ছোট গাছগুলোতে কাঁঠাল ধরতে দেখা যায়। বৈশাখ থেকে আষাঢ় হচ্ছে কাঁঠাল ফলের মৌসুম। কাঁঠাল পাকতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে।
 
খাদ্যমানঃ কাঁঠাল অধিক ক্যালরীযুক্ত ফল্ ইহাতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন আছে। বিশেষ করে ভিটামিন এ।  আমাদের চোখের জন্য ভিটামিন এ খুবই অপরিহার্য। এ ফলের রস বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈর করতে ব্যবহৃত হয়। মুড়ির সাথে কাঁঠালের কোষ গ্রাম্য লোকদের কাছে খুবই প্রিয়। কোষের মধ্যস্থিত বীচিগুলোও খুব ভাল খাবার। কাঁচা কাঁঠাল খুব সুন্দরভাবে রান্না করা হয়ে থাকে। এই বীচিগুলো যদি গবাদিপশু খেয়ে না ফেলে তাহলে ইহা অনুরূপ খাদ্য হিসেবে রান্না হয়ে থাকে।
 
অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ বেদেশীদের কাছে কাঁঠাল খুবই প্রিয়। কাজেই ইহা বিক্রি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। অবশ্য কাঁঠাল গাছও খুব উপকারী। কাঁঠাল গাছের কাঠের রং খুব চমৎকার এবং ইহা দীর্ঘ দিন টিকে । বিভিন্ন ধরনের আসবাব পত্র তৈরী করতে এই কাঠ ব্যবহৃত হয়। এ গাছের পাতাও খুব উপকারী। এই পাতা ছাগলে খায় এবং ইহা খাদ্য রান্নার কাজে জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
 
উপসংহারঃ কাঁঠাল অতি উপকারী ফল এবং আমদের দেশের আবহাওয়া ভাল কাঁঠাল চাষের জন্য উপযুক্ত। কাজেই আমাদের অধিক কাঁঠাল জন্মানো উচিৎ এ ফল যাতে সারা বছর সহজে পাওয়া যায় তার জন্য ইহা সংরক্ষণের জন্য সকল সম্ভাব্য পন্থা নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা করা উচিৎ।
বাণিজ্য মেলা
 
সুচনাঃ বানিজ্য মেলা বলতে সচরাচর ঘেরা করা কোন নির্দিষ্ট স্থানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উৎপন্ন দ্রব্যের প্রর্দশণীকে বুঝায় ঐ সকল লোক যারা ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত বিশেষ করে শিল্পপতিবৃন্দ কর্তৃক এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জিনিস সর্ম্পকে লোকজনের ধারণা দেয়ার জন্য ইহা একটি উত্তম মাধ্যম।
 
স্থান এবং সময়কালঃ বানিজ্য মেলা সচরাচর ঐ ধরণের স্থানে অনুষ্ঠিত হয় যেখান থেকে শহরের প্রতিটি অঙশের সাথে যোগাযোগ  ব্যবস্থা সুবিধাজনক। বানিজ্য মেলা প্রধানতঃ শহরাঞ্চলে লক্ষ্যনীয়, গ্রামাঞ্চলে নয়। ইহার স্থায়ীত্ব সাধারণতঃ ১৫ দিন থেকে ১ মাস। ইহা বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়।
 
সংগঠন/প্রতিষ্ঠানঃ বানিজ্য মেলা সাধারণত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হয়ে থাকে। এ মেলা আয়োজনের জন্য সরকারী এবং বেসরকারীভাবে একটি যৌথ কমিটি গঠণ করা হয়। ইহার রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ভার বিক্রিত টিকিটের মূল্য বা প্রবেশমূল্য এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র  দোকান এবঙ তাবু থেকে গৃহীত অর্থ দিয়ে মেটানো হয়।
 
বাণিজ্য মেলার বর্ণনাঃ মেলার স্থানটি প্রবেশ দরজা এবঙ বর্হিগমন দরজাযুক্ত শক্ত বেষ্টনি দ্বারা ঘেরাও করা থাকে। বেষ্টন করা জায়গাটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে বিভক্ত থাকে। প্রবেশদ্বারে মেলার বিভিন্ন অবস্থান সম্বলিত একটি গ্রাফিক চার্ট স্থাপন করা হয়। অস্থায়ী ক্ষুদ্র দোকানগুলো  প্রত্যেক খন্ডে সারিবদ্ধভাবে নির্শাণ করা হয়। লোকজনের দৃষ্টি আর্কষনের জন্য দোকান মালিকরা তাদের দোকানগুলো বিভিন্ন রংগের আলো দিয়ে সুসজ্জিত করেন। মেলার আয়োজকরা মেলার নির্ধারিত স্থানটি সুসজ্জিত এবং আলোকিত কনরন। সেখানে গাড়ী রাখার জন্য  নিদিষ্ট স্থান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, প্রার্থনা এবং অন্য সকল ধরণের আরাম এবং আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা আছে। মেলাতে চায়ের দোকান, দ্রুত খাদ্য সরবরাহের দোকান, রেস্তোরা এবং পানীয় জলের ভ্রাম্যমান গাড়ী সহজলভ্য।
 
উপকারিতাঃ বাণিজ্য মেলার গুরুত্ব অপরির্হায। ইহা শুধু জনসাধারণকে তাদের নিজ ভাগ্যোন্নয়নে সক্ষম করে না বরঙ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতেও সহায়তা করে। শিক্ষার দিক থেকেও এর গুরুত্ব অনেক। মেলার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দেশেরর জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারি এবং একই সাথে আমরা ও আমাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতিকে তাদের সামনে তুলে ধরতে পারি। ইহা চিত্ত বিনোদন এবঙ নব উদ্দ্যমের মাধ্যমও বটে।
 
উপসংহারঃ বিজ্ঞাপনের জন্য বাণিজ্য মেলা সঙবাদপত্রের চেয়ে একটি ভাল মাধ্যম। নিঃসন্দেহে কোন জিনিসের সরাসরি প্রদর্শন ঐ জিনিসটিকে অধিক চিত্তাকর্ষক করে তুলে। কাজেই দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মংগলের জন্য প্রতিবছর বানিজ্য মেলার আয়োজন করা উচিত।
বঙ্গবন্ধু সেতু
বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ একটি নদীর দেশ। বাংলাদেশের সর্বত্র শত শত নদী জালের মত ছড়িয়ে আছে। নদীগুলো বিভিন্ন পথে বাংলাদেশের বিভিন্ন মঙ্গল সাধন করে থাকে। নদীগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে যমুনা এবং বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে এটা একটা মাইল ফলক হিসেবে সেবা করেছে।
 
সেতুর নামকরণঃ সর্ব প্রথমে এর নামকরণ করা হয় যমুনা বহুমুখী সেতু। তবে ১৯৯৭ সনে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক এর নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু সেতু।  
 
সেতুর প্রয়োজনীয়তাঃ বাংলাদেশ যমুনা নদী কর্তৃক পূর্ববঙ্গ ও উত্তর বঙ্গ নামে দুটি অংশে বিভক্ত। পরিবহন ও যোগাযোগ পদ্ধতির ক্ষেত্রে শক্তিশালী যমুনা নদী একটি বৃহৎ প্রতিবন্ধকরূপে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এই নদী দেশব্যাপী পরিবহনের সম্ভাব্য উন্নতির ঐক্যরূপকে ব্যহত করেছে। তাই দীর্ঘ দিন ধরে যমুনা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবী জনগনের নিকট থেকে আসছিল তার তাই বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ জাতীভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
 
সেতুর বিভিন্ন পদক্ষেপঃ এই সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথম দাবি উথ্থাপিত হয় ১৯৬৩ সনে। ১৯৯৬ সনের জুলাই মাসে এই বিষয়ে একটি বিল উথ্থাপিত হয়। এই বিলে বলা হয়েছিল যে যমুনা নদীর উপর একটি সেতু অবশ্যই নির্মাণ করতে হবে। এই সূত্র ধরে বিদেশী বিশেষজ্ঞগণ একে একে ১৯৬৯, ১৯৭৬, এবঙ ১৯৮২ সনে জরিপ কাজ চালায়। যাই হউক,১৯৮৫ সনে এক অধ্যাদেশ বলে সেতুর নির্মাণের জন্য একটি কার্যকরি কমিটি গঠিত হয়। ১৯৯১ সনে বাংলাদেশ সরকার সেতু নির্মাণের জন্য একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তিন বছর পর এশিয়া উন্নয়ণ ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকার ১৯৯৪ সনের অক্টোবর মাসে নির্শাণ কাজ বাস্তবে রুপদান শুরু করে। ইহা ১৯৯৮ সনের জুন মাসে সম্পন্ন হয়।
 
সেতুর আকৃতিঃ সেতুটি৪.৮ কিলোমিটার লম্বা এবং মূল সেতুটি  ১৮.৫ মিটার চওড়া। পুলটিতে ৪৯ টি খুঁটি আছে। মোট পিলারের সংখ্যা ১২১ টি । পাইলের গড় দৈর্ঘ্য ৪৮ মিটার। পূর্ব তীরের সংযোগ সড়ক ১৬.৯২ কিলোমিটার এবং পশ্চিম তীরে ১৬.৯৪ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে ব্যয়ঃ সেতুটির ব্যয় খুব বেশি। এতে ব্যয় হয় ৯৬২ মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপান প্রত্যেকে ২০০ মার্কিন ডলার দান করে আর অবশিষ্ট ৩৬২ মার্কিন ডলার বাংলাদেশ সরকার বহন করে।
 
সেতুটির উদ্বোধনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সনের তরা জুন তারিখে সেতুটি শুভ উদ্বোধন করেন।
 
উপসংহাঃ সেতুটি বাংলাদেশের একটি বিরাট অর্জন। আমরা আশা করছি, সেতুটি দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
এ, কে, ফজলুল হক
 
সুচনাঃ প্রত্যেক বাঙলাদেশীর কাছে এ. কে. ফজলুল হক নামটি পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন মহৎলোক এবং একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি শের-ই-বাংলা নামে পরিচিত। ’শের’ বলতে বোঝায় বাঘ। প্রকৃত পক্ষে তিনি ছিলেন এ দেশের বাঘ।
 
জন্মঃ এ. কে. ফজলুল হক বরিশালের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার চিতার নাম ছিল মুহম্মাদ ওয়াজেদ আলী। জনাব ওয়াজেদ আলী ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজ্ঞ। এ. কে. ফজলুল হক বাড়ীতে বসে আরবী এবঙ ফার্সি ভাষা শিখেছিলেন। মাত্র । চৌদ্দ বৎসর বয়সে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা কৃতিত্বের সাথে শেষ করেছিলেন। ১৮৯৩ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এ. কে. ফজলুল হক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন।
 
সরকারী কাজঃ এ. কে. ফজলুল হক প্রথমে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট পদে চাকুরী নেন। এ চাকুরী তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাই তিনি এ চাকুরী ছেড়ে দেন এবঙ কলকাতা হই কোর্টের আইনজ্ঞ হন। কৃষক এবঙ গরীবদের দুঃখ র্দূদশাগ্রস্থ অবস্থা তার দৃষ্টিকে আর্কৃষ্ট করেছিল। তিনি তাদের ভাগ্যের উন্নতি সাধন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।
 
রাজনৈতিক জীবনঃ ফজলুর হকের রাজনৈতিক জীবন ছিল খুব সফলতাপূর্ণ। তিনি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতা সিটি কর্পেরেশেনের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি পর্যায়ক্রমে ছিলেন প্রধান অবিভক্তা, প্রধানমন্ত্রী এবং পূর্ব বাংলার গর্ভণর। ১৯৩১ সালে তিনি লন্ডনে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে অংশ গ্রহন করেন। সংক্ষেপে বলা বাহুল্য যে, এ. কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক অগ্নিঝড়া নক্ষত্র। তিনি রৃণ সালিশি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি কলকাতা ইসলামী কলেজ এবং আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
 
উপসংহারঃ এ. কে. ফজলুল হক এ দেশের মানুষের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। ১৯৬২ সালের ২৭শে এপ্রিল তার দৈহিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তিনি তার কর্মের মাধ্যমে এখনো বেচেঁ আছেন এবং ভবিষ্যতে বেচেঁ থাকবেন।
একজন মহৎ লোকের জীবনী
হযরত মুহাম্মদ (সঃ)
 
সূচনাঃ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) জন্মলগ্ন পর্যন্ত আরবে ছিল অন্ধকার যুগ। ইহা ছিল শয়তান এবং উৎপীড়নের সময়কাল। সেখানে তখন কোন বৈধ সামাজিক রীতি নীতি ছিল না। আরবরা ছিল কুসংস্কারে বিশ্বাসী, মূর্খ এবং অবিশ্বাসী। তারা তাদের নৈতিক চরিত্র হারিয়ে ফেলল। আরবরা একবারে নীতিহীন হয়ে পড়ল। এ রকম এক পরিস্থিতিতে আল্লাহ সেখানে আমাদের প্রিয় মহান পুরুষ হয়রত মুহম্মদ (সঃ) কে প্রেরণ করেছিলেন দুষ্ট আরবদেরকে পূণ্যের শিক্ষা দেয়ার জন্য।
 
জন্ম ও কর্মজীবনঃ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ৫৭০ খ্রীস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম ছিল আব্দুল্লাহ। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) জন্মের পূর্বেই পিতাকে হারান। ছয় বৎসর বয়সে তার মাতা আমিনাও মারা যান। তখণ তার দাদা আবদুল মুত্তালিব তাকে লালন পালন করেন। দাদার মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেন।
 
মানব মুক্তির ভাবনাঃ আরবরা তখন মূর্তিপুজক ছিল। তারা মদ পান করত। তারা এক অপরের সাথে ঝগড়া করত। আর ইহা বালক মুহম্মদকে কষ্ট দিত। তিনি সর্বদা এ সকল মন্দ আচরণ দূর করার জন্য চিন্তা ভাবনা করতেন।
 
ইসলাম প্রচারঃ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) খাদিজা নামে এক ধনাঢ্য মহিলাকে বিয়ে করেন। আর ইহাতে তার অভাব দূর হয়। এরপর তিনি আল্লাহর গভীর ধ্যানে মগ্ন হন।হীরা পর্বতের গূহায় তিনি ১৫ বছর আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকেন। চল্লিশ বৎসর বয়সে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করলেন।
 
হিযরতঃ মক্কাবাসীরা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে হত্যার পরিকল্পনা করল। যে কারণে মুহাম্মদ (সঃ) তার অনুসারীদের নিয়ে মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় গমন করেন। আর ইহাকেই হিযরত বলে। তিনি মদিনায় এক সম্রাজ্য স্থাপন করেন। মুসলিম সমাজের তিনিই প্রতিষ্ঠাতা।  ৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বৎসর বয়সে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার শেষ হজ্জব্রত পালন করেন।
 
উপসংহারঃ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) হলেন মুসলিম উম্মাহর মহান পুরুষ। তিনি হলেন সর্বশেষ এবং মহান পুরুষদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি দয়ালু,সত্যবাদি, উদার, নিরহংকার এবং মিষ্টভাষী। তিনি শিশুদের এবঙ সমগ্র মানব জাতিকে ভালবাসতেন।
একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন
 
সূচনাঃ ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন কৌতুহল জনক এবং শিক্ষাপ্রদ। ইহা আমাদের মনকে গৌরবময় অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ইহা আমাদের চোখের সামনে অতীতের স্মৃতিগুলো তুলে ধরে, সম্প্রতি আমি বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক স্থান ময়নামতিতে ভ্রমনে গিয়েছিলাম।
 
ভ্রমনের বর্ণনাঃ আমি আমার তিন বন্ধুর সাথে সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে কুমিল্লাগামী বাসে উঠলাম। আমরা সেখানে রাত ১০টার পৌছলাম । কুমিল্লা শহর থেকে স্থানটির দূরত্ব প্রায় ৬ মাইল। আমরা সেখানে বেবীটেক্সী যোগে গিয়েছিলাম। স্থানটি  ছিল নির্জন। আমাদের মতো অনেক লোক আমরা দেখতে পেয়েছিলাম যারা শালবন বিহার পরিদর্শনে এসেছিল। স্থানটি অসমতল এবং চারিদিকে ছাড়ানো পাহাড়। শালবন বিহারের পুরাতন ধ্বংসাবশেষ দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম। আমরা নিকটবর্তী যাদুঘরে  গিয়েছিলাম । আমরা ইহার বিভিন্ন অংশে ঘুরেছিলাম এবং প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ অবলোকন করেছিলাম । আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে আমি তখন সে  যুগেই অবস্থান করছিলাম। আমি আমার অস্তিত্বের কথা ভূলেই গিয়েছিলাম । এ সকল ধ্বংসাবশেষ আমাদের মনের চোখে পুরাতন যুগের স্মৃতির ইঙ্গিত বহন করে। আমরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে  ভ্রমন করেছিলাম এবং দর্শনীয় সকল জিনিষগুলো কৌতুহল ভরে দেখছিলাম । আমাদের  কল্পনা  সুদুর অতীতে ঘিরে গিয়েছিল এবং প্রবলভাবে আলোড়িত হয়েছিল । আমরা গৌরব অনুভব করছিলাম এই ভেবে যে আমাদের এ ধরনের সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিল। তথ্য ফলক থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম। আমরা যাদুঘরটিতে অনেক বার ঘুরলাম এবং তারপর নিকটবর্তী  একটি রেস্তুরায় গিয়ে নিজেদের পুনরায় কিছুটা সতেজ করে নিলাম। আমরা ক্লান্ত অনুভব করছিলাম এবং ঢাকগামী বাসে চড়ার জন্য আমরা বাস ষ্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম।
 
উপসংহারঃ ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন সর্বদা শিক্ষামূলক। ইহা গৌরবময় অতীত সম্পর্কে আমাদের বাস্তব জ্ঞান দেয়। ইহা আমাদের পাঠ্যপুস্তক থেকে লব্ধ জ্ঞানকে পরিপূরক করে। ঐতহাসিক স্থান পরিদর্শনের স্মৃতিটি আজও আমার মনে সতেজ হয়ে আছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ কেবলমাত্র কয়েক বছর আগে স্বাধীনতা লাভ করল। ইহা একটি ছোট এবং উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশটি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা হল এর খুব জটিল সমস্যা। এখন ইহা একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যাটি আমাদের সকল উন্নতির ক্ষেত্রে এক অন্তরায়।
 
বর্তমান অবস্থাঃ বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি লোক বাস করে। এখনও এ দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৬০টি নুতন শিশু জন্ম গ্রহণ করে। এভাবে যদি নুতন শিশু জন্মগ্রহণ করতে থাকে তাহলে ৩০ বছরের মধ্যে এদেশের লোক সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে যাবে। কিন্তু এদেশের সম্পদ সীমিত। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের অভাবও দিনে দিনে বাড়ছে। ইহা খাদ্য, বাসস্থান এবং বস্ত্র সমস্যার সৃষ্টি করছে। আবার ক্ষুধার্ত এবং পীড়িত শিশুরা জন শক্তিতে পরিনত হতে পারছে না। তার নিশ্চিতভাবে সমাজের জন্য বোঝা হয়ে বেড়াচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্য আমদানি করতে সরকারকে প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।
 
সমস্যার কারণসমূহঃ এদেশের অধিকাংশ লোক মূর্খ । তারা বোঝে না কি  করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয়। পক্ষান্তরে বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহ  প্রথা এবং বঙ্গোপসাগর থেকে সর্বত্র প্রবাহিত মৌসুমী বায়ূ অধিক জনসংখ্যার কারণ। এগুলো ছাড়াও উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা  সুবিধার কারণে মৃত্যুর হার হ্রাস পাচ্ছে। যে কারণে আমাদের  দেশের  লোকসংখ্যা  দ্বিগুন হয়ে যাবে। আর তখন ইহা হবে বিপদজনক।
 
সমস্যার সমাধানঃ এ সমস্যা প্রতিরোধের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই প্রাকৃতিক সম্পদের  ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। জন্মনিয়ন্ত্রণ  পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদেরকে জন্মের হারও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বহু বিবাহ প্রথা এবং বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি, আমাদেরকে ধর্মীয় কুসংস্কার ত্যাগ করতে হবে।
 
উপসংহারঃ জন্মহার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিৎ। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অধিক জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন অবস্থান ও পরিবেশ সম্পর্কে শিক্ষা নিতে হবে। যদি এখনও জনসংখ্যার এই উদ্বেগজনক বৃদ্ধি রোধের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে জাতির জন্য ভবিষ্যৎ হবে খুবই অন্ধকার।
আমাদের দেশ
 
সূচনাঃ আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। সবুজ মাঠ এবং অসংখ্য গাছপালায় ভরপুর বাংলাদেশ বিশ্বের সুন্দরতম দেশগুলোর অন্যতম। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ লোক তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিল।
 
অবস্থান এবং আয়তনঃ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাংশে অবস্থিত। ইহা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পূর্বে ভারত ও মায়ানমার এর সীমানা এবং পশ্চিম ও উত্তরে শুধু ভারতের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত । নদীসহ এর মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার ।
 
জনসংখ্যাঃ বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ কিন্তু এর জনসংখ্যা অধিক। আমাদের দেশের বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি । এই লোকসংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
 
প্রধান প্রধান নদী সমূহঃ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের শত শত ছোট বড় নদীগুলো জালের মত ছড়ানো। এ দেশের  বড় বড় নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র এবং কর্ণফুলী উল্লেখযোগ্য।
 
প্রধান শস্য এবং ফলঃ বাংলাদেশের মাটি খুব উর্বর। ইহা প্রচুর পরিমানে বৃষ্টির পানি এবং সূর্যের আলো পায়। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমানে ধান, পাট, আখ এবং চা জন্মে। বাংলাদেশে নানা জাতের ফলও জন্মে। ইহাদের মধ্যে কাঁঠাল, আম, কলা, আনারস, পেয়ারা প্রভৃতি ফল অধিক বিখ্যাত।
 
বিশিষ্ট কবিঃ বাংলাদেশে অনেক কবি আছেন। কাজী নজরুল ইসলাম হলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি যিনি অনেক বছর আগে মারা গেছেন। জসিমউদ্দিনও একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন। কবি সুফিয়া কামাল এবং সামছুর রহমান হলেন অধিক বিখ্যাত।
 
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই মনোমুগ্ধকর। সুন্দরবন, রাঙ্গামাটি এবং সিলেটের চা বাগানগুলো খুবই চিত্তাকর্ষক। কক্সবাজারের সবুজে ঘেরা সমুদ্র তীর দেখতে খুবই চমৎকার। একে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রতীর বলা হয়।
 
উপসংহারঃ বাংদেশ একটি সুন্দর দেশ কিন্তু অধিকাংশ লোক দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে। তারা কাঠোর  পরিশ্রম করে। তবুও তারা পর্যাপ্ত খাবার খেতে পায় না। অধিকন্ত আমাদের সরকার দারিদ্রতা বিমোচনের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেছেন। আমরা আশাকরি যে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে আমাদের দেশ ক্ষুধা এবং দারিদ্র মুক্ত হবে।
বাংলাদেশের ঘুর্নিঝড়
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ প্রায় প্রতি বছর ঘূর্নিঝড়ে আক্রান্ত হয়। আর ইহার কারণ হচ্ছে এর ভৌগলিক অবস্থান। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ উপরের দিকে চলিত হয় এবং ইহা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় আঘাত হানে।
 
কারণঃ প্রথমে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  সূর্যের গরম রশ্মি সাগরের উপরিভাগে পড়ে। কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার বাতাস হাল্কা হয়ে উপরে উঠে যায়। আর তখন চারিপার্শ্বের ভাড়ী ঠান্ডা বাতাস এসে ঐ খালি জায়গাটা দখল করে। এভাবে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ গতি সঞ্চার করে এক প্রবল বেগে সম্মুখে উত্তর পূর্ব দিকে ধাবিত হয়। বায়ু তখন প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত হয়। সাগরের ঢেউ উত্তাল হয়ে ওঠে। আর এভাবে ঘুর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় এবং স্থলভাগে প্রচন্ডভাবে আঘাত হানে।
 
১৯৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ঃ ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল চট্রগ্রাম এবং তৎসংলগ্ন এলাকা দিয়ে এক প্রচন্ড ঘুর্নিঝড় বয়ে গিয়েছিল। আমাদের দেখা এ যাবৎ পর্যন্ত ঘুর্নিঝড়ের মধ্যে ইহা ছিল সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী। কয়েক দিনের জণ্য সেখানে অসহনীয় গরম ছিল। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন এবং ভারী গাছগুলোকে বিমর্ষ মনে হচ্ছিল। ইহা ছিল সোমবার। রাত ৯টার দিকে দমকা বাতাস প্রবাহিত শুরু করল। বজ্রপাতের প্রচন্ড গর্জন মনে হচ্ছিল। রাত ১২টার দিকে ঘুর্নিঝড় ভয়ংকর  রূপ ধারণ করতে শুরু করল। ইহা আনুমানিক প্রায় চার ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল। পরবর্তী দিন সকাল নয়টার দিকে ঘুর্ণিঝড় সম্পূর্ণভাবে দূর্বল  হয়ে পড়েছিল।
 
১৯৯১ সালের ঘুর্নিঝড় পরবর্তী ফলঃ ১৯৯১ সালের ঘুর্নিঝড় পরবর্তী ফল ছিল ব্যাপক। গাছপালা এবং ঘর-বাড়ি বাদামের খোসার মতো উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। চট্রগ্রামে অনেক জাহাজ স্থল ভাগের  অনেক ভিতরে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গবাদি পশু এবং ধন সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রায় ৫ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল।
 
উপসংহারঃ সমূদ্র তীরবর্তী এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। ঘুর্ণিঝড় সতর্কীকরণ ব্যবস্থারও আধুনিকীকরণ করতে হবে।
আমাদের স্কুল গ্রন্থাগার
 
সূচনাঃ গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডার। ইহা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের গ্রন্থাগার প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ ছাত্রদের জন্য নির্দেশিত পাঠ্য পুস্তকের জ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে সরবরাহকৃত বই পড়ে পরিপূরক হতে পারে। তাই আমাদের স্কুলেও একটি গ্রন্থাগার আছে।
 
গ্রন্হাগারের বর্ণনাঃ আমাদের স্কুলের গ্রন্থাগারটি আকারে বেশ বড়। এর দুইটি অংশ আছে । এর এক অংশে রয়েছে পড়ার কক্ষ। পড়ার কক্ষে বই সরবরাহের জন্য একটি টেবিল আছে। গ্রন্থাগারের অপর অংশে অনেক আলমারি রয়েছে। এগুলোতে বই সারিবন্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। আমাদের বিদ্যালয়ের গন্থাগারটি হচ্ছে একটি দ্বিতল বিশিষ্ট আধুনিক দালান। ইহাকে গ্রন্থাগার ভবন বলা হয়। এটি আমাদের বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের পার্শ্বে অবস্থিত।
 
বইয়ের সংখ্যা এবং প্রকারভেদঃ আমাদের স্কুলের গ্রন্থাগারটি খুব সমৃদ্ধ। ইহাতে প্রায় ছয় হাজার বই আছে। ইহা বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন প্রকার দরকারী বই রাখে। ইহা উপন্যাস, নাটক, গল্পের বই এবং আত্মজীবনীমূলক বই প্রভূতি রাখে। মানবিক, বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য বিভাগের বিভিন্ন বই এর সংগ্রহে আছে। শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য গ্রন্থাগারের নির্দেশনামূলক বইও রয়েছে।
 
বই নেয়ার পদ্ধতিঃ একজন গ্রন্থাগারিক এবং তার একজন সহকারী দ্বারা গ্রন্থাগারিট সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বই ধার নেয়ার জন্য লাইব্রেরী কার্ড জমা দিতে হয়। সহকারী গ্রন্থাগারিক নির্দিষ্ট বইগুলো খূঁজে বের করেন এবং সেগুলো ছাত্রদের সরবরাহ করেন। ছাত্রদেরকে শুধুমাত্র এক সপ্তাহ বই রাড়ীতে রাখার অনুমতি দেয়া হয়। শিক্ষকরা নির্দেশনামূলক বইগুলো ধার নিতে পারেন। কিন্তু ছাত্রদের নির্দেশনামূলক বই ধার নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না। তার সে বইগুলো শুধু স্কুলের পড়ার কক্ষে বসে পড়তে পারে।
 
কতটা উপকারীঃ আমাদের বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটি আমাদের খুব উপকার করে। আমরা ইহা থেকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সুবিধা পাই। যখন আমরা গ্রন্থাগারের বই পড়ি তখন আমরা ইহা থেকে প্রত্যক্ষ সুবিধা পাই।
 
উপসংহাঃ আমাদের বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটি আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করে কারণ ইহা লেখাপড়া এবং শিক্ষার জন্য একটি পবিত্র স্থান। আমাদের বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটির জন্য আমরা সত্যিকারের জন্য আমরা সত্যিকারভাবে গর্বিত।
বাংলাদেশের বন্যা
 
সূচনাঃ বন্যা একট প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বর্তমানে বন্যা বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশ  প্রতি বছর বন্যার কবলে পড়ে ।
 
বন্যা কিঃ ভারী বর্ষন বা অন্য কারণে যখন নদী বা খালের কিনারা উপছিয়ে পানি প্রবাহিত হয় এবং গ্রাম ও শহর ভাসিয়ে নিয়ে যায় তখন তাকে বন্যা বলে।
 
বন্যার কারণঃ বন্যার কারণ বিবিধ। প্রধানত: অতি বর্ষনের কারণে বন্যা হয়। সাইক্লোন, জলোচ্ছাস বা পাহাড়ের উপরস্থ তুষার গলার ফলেও বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
 
বাংলাদেশের বন্যাঃ প্রায় প্রতি বছরই আমাদের দশে বন্যা হয়। ১৯৫৪, ১৯৬০, ১৯৭৪ ১৯৮৪ এবং সালের সংঘটিত বন্যা ছিল ভয়ংকর। ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল নজিরবিহী্ । ইহা অতীতের সকল ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে। ইহা বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ এলাকাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর প্রভূতি শহর এলাকা গুলোতেও ইহা গ্রাস করেছে আর তখন জনসাধারনের দুঃখ দুর্দাশার কোন সীমা ছিল না।
 
বন্যার ফলে ক্ষতিঃ বন্যা জীবন, সম্পদ এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ইহা গ্রাম, রাস্তাঘাট এবং এমনকি ঘরবাড়ী ভাসিয়ে নিয়ে যায়। অনেক মানুষের জীবন হানি ঘটে। সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। আর তখন তারা উঁচু রাস্তা, স্কুল এবং কলেজে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
 
বন্যার পরবর্তী ফলঃ বন্যার পরবর্তী ফল খুবই ভয়ান। বন্যার পরবর্তীতে মহামারী এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বন্যায় দূর্গত এলাকা কর্মমাক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির যথেষ্ট অভাব দেখা দেয়। দৈনন্দিন জীবনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়।
 
সুবিধাঃ বন্যা আমাদের উপকারও করে থাকে। ইহা আমাদের জমিকে উর্বর করে। ইহা ময়লা আবর্জনা ধুয়ে নিয়ে যায়।
 
ত্রানঃ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকদেরকে যথাযথভাবে ত্রান সামগ্রী দেয়া উচিত। তাদেরকে পূনর্বাসন করা উচিত। তাহাদেরকে সহজ কিস্তিতে ধান এবং বীঝ সরবরাহ করা উচিত।
 
বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা /প্রতিকারঃ আমাদের দশের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন । দীর্ঘ মেয়াদী বা স্বল্প মেয়াদী উভয় ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। অধিক পানি বহনের জন্য আমাদের নদী গর্ভস্থিত সঞ্চিত পলি খনন করতে হবে। নদীর কিনারা দিয়ে যথোপযুক্ত বাধ নির্মাণ করতে হবে।
 
উপসংহারঃ প্রতি বছর বন্যা আমাদের দেশের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। তাই যে কোন উপায়ে হোক আমাদের অবশ্যই বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ঢাকা শহর
 
সূচনাঃ ঢাক একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। ইহা বাংলাদেশের রাজধানী শহর। আমি ঢাকা শহরে বাস করি।
 
অবস্থানঃ ঢাকা শহর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। ইহা প্রায় দশ মাইল দীর্ঘ এবং তিন মাইল প্রশস্ত। এ শহরের লোক সংখ্যা প্রায় এক কোটি। শহরটি দুটি অংশে বিভক্ত- পুরাতন শহর এবং নুতন শহর। নুতন শহরের রাস্তাঘাট এবং ঘরবাড়ী পুরাতন শহরের চেয়ে বড় এবং সুন্দর।
 
ইতিহাসঃ সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ইসলাম খান কর্তৃক ঢাকা শহর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকে ইহা ছিল বাংলার রাজধানী। তাই সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ইহাকে জাহাঙ্গীরও বলা হতো।
 
গুরুত্বপূর্ণ ভবনঃ ঢাকাতে ভবন এবং মসজিদের শহর বলা হয়। এখানে ভবন, মসজিদ, মন্দির এবং গীর্জা আছে। লালবাগ দূর্গ আমাদেরকে ঢাকার অতীত গৌরব স্বরণ করিয়ে দেয়। এছাড়াও বঙ্গভবন, হাই কোর্ট, সুপ্রীম কোট, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, বাইতুল মোকাররম, মিরপুর চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, গণভবণ, সংসদ ভবন, প্রধান ডাকঘর, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা  রেলওয়ে ষ্টেশন প্রভূতি দেখার জন্য উল্লেখযোগ্য।
 
যোগাযোগঃ  ঢাকা শহর ট্রেন, বাস এবং লঞ্চ যোগাযোগের মাধ্যমে সকল জেলা শহরের সাথে সংযুক্ত । দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং বিশ্বের সাথে ঢাকা শহরের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।
 
শিক্ষা কেন্দ্রঃ ঢাকা হচ্ছে বাংলাদেশের  সর্ববৃহৎ শিক্ষা কেন্দ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরী শিক্ষা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারী ইসলামিয়া কলেজ এবং আরো অনেক বা আধা সরকারী স্কুল কলেজ হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করে থাকে।
 
ব্যবসাঃ ব্যবসা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো টংগী, তেজগাও এবং মিরপুরে অবস্থিত। এ শহরে কিছু সংখ্যক ক্ষুদ্র শিল্প কারখানাও আছে ।
 
উপসংহারঃ ঢাকা একটি পুরাতন এবং জনবহুল শহর। অনেক সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের জন্য শহরটি বিখ্যাত। এখন ইহা বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম। শহরটি বর্তমান অবস্থার উন্নতির জন্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদেক্ষেপ নেয়া উচিত ।
বাংলাদেশের বসন্তকাল
 
সূচনাঃ বসন্তকাল সকল ঋতুর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ইহা সকল ঋতুর মধ্যে সর্বোত্তম, চমৎকার এবং অধিক সুন্দর। বিভিন্ন দেশের কবিরা বসন্তকালের প্রসংসা  করে গান গেয়েছেন। শীতের পরে বসন্তের আগমন ঘটে এবং ইহা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বসন্তকালে প্রকৃতি এবং মানুষ নুতন জীবন ফিরে পায়। আর এজন্য আমি বসন্তকে অধিক পছন্দ করি।
 
বর্ণনাঃ শীতকালে গাছের পাতা বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং ঝড়ে পড়ে। মাঠগুলো শক্ত হয়ে যায় এবং সবুজ রং বিবর্জিত হয় পড়ে। বসন্তকালে প্রচুর পরিমানে ফুল ফোটে । প্রকৃতি চমৎকার রূপ ধারণ করে। বসন্তের সৌন্দর্যে পৃথিবী হাসে । কোকিলসহ নানা জাতের গানের পাখি সানন্দে গান গায় । মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে এবং কৃষকেরা তাদের শস্য সংগ্রহ হতে মুক্ত থাকে। তাদের আত্মীয় স্বজনেরা এক বছরান্তে তাদের পিতামাতার বাড়ীতে বেড়াতে যায়। এই সুন্দর ঋতুতে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। গ্রাম্য ছেলে মেয়েরা ধানের মাঠে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করে এবং বড়রা গল্প করে রাত্র উপভোগ করে। বসন্তকালে ধানের ক্ষেতে যাত্রা, গ্রাম্য মেলা, গরুর দৌড় এবং পালগান অনুষ্ঠিত হয়।
 
মৌসুমী ফসলঃ এই ঋতুতে সরিষা, পাট এবং রোরো ধানের বীজ বপন করা হয়। এ সময়ে মিষ্টি জাতীয় ফল পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া যায়। বিভিন্ন জাতের শাকসবজি এবং মাছ সস্তায় বিক্রি হয়।
 
স্থায়িত্বঃ এই ঋতুটির স্থায়িত্ব খুব কম সময়। কখন ঋতুটি শেষ হয়ে যায় তা আমরা অনুভব করতে পারি না বললেই চলে। কারণ ইহার স্থায়িত্ব স্বল্প সময়ের জন্য এবং সবাই এই ঋতুর আগমন দীর্ঘ আগ্রহের সাথে কামনা করে।
 
গানের মৌসুমঃ বসন্তকালে সারাদিন মৃদু বাতাস প্রবাহিত হয়। নদীতে ছোট ছোট ঢেউয়ের কল কল ধ্বনি শোনা যায়। গানের পাখিরা সারাদিন মিষ্টি সুরে গান গায়।  মৌমাছি গুনগুন শব্দ করে, মাঝি এবং রাখালেরা মিষ্টি গান গায়। প্রজাপতি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়।
 
উপসংহারঃ বসন্তকাল সব ঋতুর মধ্যে অধিক সুন্দর এবং চমৎকার । আমাদের উচিৎ এই ঋতুকে যথাযথ কাজে লাগানো।
বাংলাদেশের বর্ষাকাল
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ ষড় ঋতুর দেশ। প্রত্যেকটি ঋতু মোটামুটি দুই মাস নিয়ে গঠিত। আষাঢ় এবং শ্রাবণ মাসকে বর্ষাকাল বলা হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে বাংলাদেশের বর্ষাকাল আশ্বিণ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়।
 
বর্ননাঃ বর্ষাকালে আকাশ ভয়ানক দেখায়। বৃষ্টিযুক্ত ভারী কালো মেঘ আকাশে ঘুরে বেড়ায়। এ মেঘগুলো পৃথিবীর উপরি পৃষ্ট থেকে খুব কাছে অবস্থান করে। প্রচন্ড বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। সূর্য দিনের পর দিন মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এবং মাঝে মাঝে এক পশলা বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও কয়েকদিন স্থায়ী হয়। নদী, জলাশয় এবং ডোবা সবগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। নদীর পানি ঘোলা হয়ে যায় এবং কিনারা উপছিয়ে প্রবাহিত হয় এবং তখন মাঠগুলোকে বিশাল সমুদ্র বলে মনে হয়। গ্রামের লোকদের তখন নৌকায় চলাফেরা করতে হয়। স্থল ভাগের দৃশ্যগুলো তখন সবুজ দেখায়। পাখিরা যেমন সারস এবং বক ছোট মাছের সন্ধানে নীরবে পানিতে দাঁড়িয়ে থাকে। জলচর পাখিরা মাছ শিকারের জন্য পানিতে ভেষে বেড়ায়। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নৌকায় চড়ে মাছ শিকারে যায় এবং পানিতে কাগজের নৌকা ভাসায়।
 
এর কারণঃ মৌসুমী বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প বহন করে আমাদের দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় যখন ইহা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসে। তারপর এই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন ইহা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসে। তারপর এই জলীয় বাষ্প মেঘে পরিনত হয় এবং কয়েক দিনের জন্য বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং আমরা ইহাকে বর্ষাকাল বলি।
 
এর গুরুত্বঃ বর্ষাকাল আমাদের দেশের জন্য এক আর্শীবাদ। বৃষ্টি আবহাওয়াকে বিশূদ্ধ করে এবং ভূপৃষ্ঠের উপরিস্থত আবর্জনা ধুয়ে নিয়ে যায়। দিনের তাপমাত্রা কমে যায়। কৃষকেরা মাঠের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা তাদের জমি চাষ করে এবং বীজ বপন করে।
 
ফলাফলঃ বাংলাদেশে বর্ষাকাল বিভিন্ন অসুবিধার সৃষ্টি করে। দিনের পর দিন অতি বর্ষন আধাপাঁকা রাস্তাগুলোকে কর্দমাক্ত করে তোলে। কৃষকেরা এবং দিন মজুরেরা কাজের জন্য বাহিরে যেতে পারে না। কাজেই তাদেরকে মাঝে মধ্যে অনাহারে থাকতে হয়। ক্রীড়া এবং বাহিরের কাজকর্ম  অসম্ভব হয়ে পড়ে। জীবন বিষাদময় হয়ে উঠে। গ্রাম অঞ্চলে ম্যালেরিয়া, কলেরা এবং আমাশয় রোগ ছড়াইয়া পড়ে। সাপ তখন তাদের গর্তে বাস করতে পারে না। তাই তারা ঘন বসতিপূর্ণ উঁচু এলাকায় চলে আসে এবং কখনও কখনও মানুষ কামড়ায়। কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি বন্যার সৃষ্টি করে। বন্যায় ফসল ভেসে যায়। গবাদি পশু মারা যায় এবং গরীব মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।
 
উপসংহারঃ অসুবিধা সত্বেও বর্ষাকাল বাংলাদেশের মঙ্গল করে।
বাংলাদেশের ফল
 
সূচনাঃ ফল আল্লাহর এক বিস্ময়কর দান। ফল সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। সকল মানুষ, শিশুরা অথবা পূর্ণবয়স্ক লোকেরা সমভাবে ফলকে পছন্দ করে। বাংলাদেশ হচ্ছে ফলের একটা বাগান স্বরূপ। বিভিন্ন জাতের এবং বিভিন্ন বিশেষ সময়ের ফল আমাদের দেশে জন্মে। জন্মানুসারে আমাদের দেশের ফলকে সকল মৌসুমের ফল এবং কোন বিশেষ সময়ের ফল এ দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
 
মৌসুমী ফলাদিঃ গ্রীষ্মকালীন অনেক ফল আছে। এগুলো রসালো এবং সুস্বাদু। এগুলোর মধ্যে কিছু ফল মিষ্টি এবং কিছূ ফল টক। এ ফলগুলোর মধ্যে আমকে বলা হয় রাজা। আম বিভিন্ন জাতের হয়। ল্যাংরা, ফজলী, গোপালভোগ এবং মোহনভোগ হচ্ছে উৎকৃষ্ট ধরণের আম। কাঠাঁল আমাদের জাতীয় ফল। এটি অমসৃন আকৃতির একটি অতি পরিচিত সাধারণ ফল। ইহা খেতে খুব সুস্বাদু। পেয়ারা, জাম, লিচু এবং কুল আকারে খুবই ছোট ফল। এ ফলগুলো শিশুদের কাছে খুবই প্রিয়। তরমুজ, তেতুল, বাতাবী, আপেল, আনারস এবং লেবু খুব রসালো ফল।
 
সব ঋতুর ফলঃ কলা, পেঁপে এবং নারিকেল হল সব ঋতুর ফল। এগুলো সারা বছর জম্নে। কলা এ ফলগুলোর মধ্যে অতি পরিচিত। কলা বিভিন্ন জাতের হয় যেমন সবরী, কবরী, চম্পা, সাগর প্রভৃতি। সকল জাতের কলার মধ্যে সবরী কলা উত্তম। সাগর কলা আকৃতিতে সবচেয়ে বড়। নরসিংদি এবং রামপালের সাগর কলা খুব বিখ্যাত কলা। পরবর্তী অতি পরিচিত ফল হলো কলা এবং পেঁপে অসু্স্থ্য লোকের খাদ্য হিসেবে এবং কাঁচা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নারিকেল দিয়ে অনেক মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরী হয়। খুব ভাল তৈলো ইহা দিয়া তৈরী হয়। ইহা সোফা তৈরী করতে ব্যবহৃত হয়।
 
উপকারিতাঃ সলক বয়সের মানুষ বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য ফল খুবই উপকারী। সব ধরনের ফলই পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। অনেক ফলই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় । কাজেই আমাদের উচিৎ আমাদের দেশে অধিক ফল জন্মানো।
 
উপসংহারঃ ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী কিন্তু আমরা ফলের ব্যাপারে খুব যত্নবান নই।
বাংলাদেশের ফুল
 
সূচনাঃ ফুল সৌন্দর্যের প্রতিক। ইহা আল্লাহর একটি সর্বোৎকৃষ্ট সুন্দর সৃষ্টি। এটি শুধু প্রতৃদির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না বরং সব কিছুরই সৌন্দর্য বাড়ায়। কাজেই সবাই ফুলকে অধিক পছন্দ করে।
 
কোথায় ও কখন জন্মেঃ বাংলাদেশ ফুলে সমৃদ্ধ। এদেশে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফুটে এবং সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করে। বসন্ত কালে এদেশের ঝোপ এবং বাগানগুলো নানা রঙের ফুলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অন্যান্য ঋতু গুলোতেও বিশেষ ধরনের ফুলের সমারোহ ঘটে।
 
ফুলের শ্রেণী বিভাগঃ হাসনাহেনা, বেলী, গন্ধরাজ, চামেলী, কবরী, জুঁই এবং মালতীফুল জনপ্রিয় ফুলগুলোর অন্যতম। এ ফুলগুলো তাদের মিষ্টি সুগন্ধের জন্য বিখ্যাত। কসমস, ডালিয়া এবং অন্যান্য কোন বিশেষ সময়ের ফুলগুলো শীতকালে আমাদের বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের বনগুলোতে প্রচুর ফুল দেখতে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কিছু কিছু ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। এ ফুলগুলোর মধ্যে কৃঞ্চচুড়া সবচেয়ে বেশি সুন্দর। কিছু কিছু ফুল সুন্দর এবং সুগন্ধিো বটে। কিছু কিছু ফুল শুধু দেখতে সুন্দর কিন্তু তাদরে কোন সুগন্ধ নেই । তথাপিও সবাই  সব ফুলকে পছন্দ করে।
 
ফুল ধরাঃ  গোলাপকে ফুলের রানী বলা হয়। এটি সকল রঙের এবং গন্ধের ফুলের মধ্যে উৎকৃষ্ট। পদ্ম এবং গাদা অতি পরিচিত সাধারণ ফুল। এগুলো নানা জাতের হয়ে থাকে। সূর্যমুখী ফুল দেখতে সুন্দর। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আকৃতির সূর্যমুখী ফুল দেখতে সুন্দর। বিভিন্ন আকৃতির সূর্যমুখী ফুল দেখতে পাওয়া যায়।
 
উপসংহারঃ বাংলাদেশ ফুলে ভরপুর। যেখানেই দৃষ্টিপাত করি সেখানেই আমরা কোন না কোন ফুল দেখতে পাই।
ডাক পিয়ন
 
সূচনাঃ ডাক পিয়ন হল নিম্ন বেতনভূক্ত সরকারী কর্মচারী। তিনি ডাক অফিসে কাজ করেন। শহর এবং গ্রামের সকল মানুষের কাছে তিনি সুপরিচিত। তিনি হলেন সাধারন লোকের ঘনিষ্ট বন্ধু ।
 
তার পোষাকঃ তিনি খাকি পোশাক পরিধান করেন। তাহার মাথায় টুপি থাকে। তিনি কাঁধ বরাবর আড়াআড়ি একটা ব্যাগ বহন করেন। টাকা এবং অনান্য মূল্যবান জিনিস তিনি এ ব্যাগের মধ্যে রাখেন। মাঝে মাঝে তিনি সাইকেলে চড়ে চলাফেরা করেন।
 
তার কাজঃ ডাক পিয়নকে অনেক কাজ করতে হয়। তার দৈনন্দিন কাজ সকাল থেকে শুরু হয়। প্রথমে তিনি ডাক অফিসে যান। তিনি প্রাপকদের কাছে চিঠি , মানি আর্ডার এবং অন্যান্য অপরিহার্য জিনিষ বিতরণ করেন। গ্রামাঞ্চলে তিনি পোস্ট কার্ড এবং খাম বিক্রি করেন। তাহার দায়িত্ব যথাসময়ে শেষ করার জন্য তাকে অনেক পথ হাঁটতে হয়।
 
তার জীবনঃ ডাক পিয়নের কর্মজীবন সহজতর নয়। তাহার কাজকর্ম খুব দায়িত্বপূর্ণ । তাহাকে দায়িত্ব পালনে নিয়মানুবর্তী হতে হয়। তাকে ব্যস্ত অধ্যবসায়ী এবং দায়িত্বপূর্ণ জীবন যাপন করতে হয়। তাহার দায়িত্ব যথাসময়ে পালনের ব্যর্থতা জনসাধারণের অনেক লোকসান বা ক্ষতির সৃষ্টি করতে পারে।
 
ডাক পিয়নের গুনাবলীঃ একজন ডাক পিয়নের অনেক গুনাবলী থাকে। তিনি সব সময় দায়িত্ববান এবং আন্তরিক। তিনি তার দায়িত্বের  ব্যাপারে নিয়মানুবর্তী, সৎ এবং সচেতন। তিনি হলেন নীরব সেবার প্রতীক। ডাক পিয়ন আমাদের খুব উপকারি সেকব। তাহার সেবা ব্যতিত আমরা চলতে পারি না। তিনি আমাদের দেশ বিদেশের খরব পৌছে দেন। আমরা তার আগমনের আশায় আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করি।
 
উপসংহারঃ ডাক পিয়ন সামান্য বেতন পান। কিন্তু তাহার কাজ কর্ম খুবই দায়িত্বপূর্ণ। কাজেই তাকে ভাল বেতন দেয়া উচিৎ যাতে করে সে তার দায়িত্ব মনোযোগ সহকারে যথাযথভাবে পালন করতে পারে।
আমার প্রিয় কবি
 
সূচনাঃ পশ্চিম বঙ্গে বর্ধমান নামে একটি জেলা আছে। কাজী নজরুল ইসলাম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৩০৬ খ্রীস্টাব্দের জৈষ্ঠ্য মাসে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল কাজী ফকির আহমেদ এবং মাতার নাম ছিল জায়েদা খাতুন। শৈশব কালে তাকে দুখুমিয়া নামে ডাকা হত। তিনি আমার প্রিয় কবি।
 
শৈশব জীবনঃ নজরুল ইসরাম তার গ্রামের একটি মক্তবের ছাত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র। কিন্তু তিনি ছিলেন দুষ্ট প্রকৃতির । যখন তার বয়স ছিল এগার বছর তখন তিনি মক্তবের লেখাপড়া শেষ করেন। অতপর তিনি ঐ মক্তবে শিক্ষক হিসেবে  কাজ করেন । আর এ সময়েই তার পিতা মারা যান এবং তিনি ইন্টিনারেট নাট্য দলে যোগদান করেন। দলের জন্য তিনি অনেক নাটক এবং গান লিখেন। যখন দশম শ্রেণীতে পড়ছিলেন তখন তিনি সেনা বহিনীতে যোগদান করেন এবং হাবিলদার হন। সেনা বাহিনীর প্রধান দফতর থেকে তিনি কলকাতা পত্রিকার পত্রিকায় প্রকাশের জন্য অনেক কবিতা এবং ছোট গল্প পাঠান।
 
প্রথম বিশ্ব যুদ্ধঃ প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর তিনি কলকাতা ফিরে আসেন এবং সেখানে বসবাস কতে শুরু করেন। তিনি বিদ্রোহী নমে একটি কবিতা লিখেন। এই কবিতাটিই তাকে খ্যাতি এনে দেয়। এ কবিতাটির জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছিল । ব্রিটিশ শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি অনেক কবিতা লিখেছিলেন। কবিতা লেখার দায়ে তিনি অনেকবার ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠীর দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছিলেন।
 
কবি হিসেবেঃ তিনি ছিলেন সমভাবে বহু বিষয়ে পন্ডিত। প্রায় বিশ বছর তিনি কবিতা, উপন্যাস, ছোট গল্প, নাটক এবং গান রচনা করেন। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা। তার কিছু বিখ্যাত বই হল অগ্নিবীনা, বিষের বাশি, চক্রবাক, সিন্ধু হিল্লোল, ব্যাথার দান, আলেয়া প্রভূতি। তাহার সকল কবিতা বিদ্রোহী চেতনায় পূর্ণ। তিনি সব ধরণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন। তিনি একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন।
 
উপসংহারঃ নজরুল ইসলাম আজ আর আমাদের মাঝে নেই। আমাদের জাতীয় কবি হিসেবে তিনি খুবই সম্মানিত। নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট ঢাকায় পরলোক গমন করেন। বাঙ্গালী জাতির কাছে তিনি চিরদিন স্বরণীয় হয়ে থাকবেন।
মজার যে লোকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল
 
সূচনাঃ আমাদের সামাজিক জীবনে আমরা প্রত্যেক দিন অনেক লোকের সাথে মিলিত হই। আমরা যে সকল লোকের সাথে মিলিতি হই তারা স্বভাবে এবং আচার আচরণে এক নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব আছে। এই ব্যক্তিত্ব সন্তোষজনক হতে পারে কিংবা সন্তোষজনক নাও হতে পারে। আমরা সব কিছুকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করি যদি সেখানে কোন কিছু খুব অস্বাভাবিক না থাকে। মাঝে মাঝে আমরা এমন ধরনের কিছু লোকের সাথে মিলিত হই যাদের মধ্যে কিছু বিশেষ গুন রয়েছে এবং যাহা তাহার প্রতি আমাদের আকৃষ্ট করে তোলে। বিগত শীতকালীন ছুটিতে আমি দিনাজপুরে এ ধরনের একজন মানুষের সাক্ষাৎ লাভ করেছিলাম। তাহার গুনাবলী আমাকে তার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে তুলেছিল।
 
সে কেঃ আমি দিনাজপুরে যে চমৎকার লোকের সাক্ষাৎ লাভ করেছিলাম তিনি হলেন জনাব আহমেদ ।  তিনি হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি একজন বৃদ্ধ বিপত্নীক । তিনি আমার বন্ধু হকের পরিবারের একজন সদস্য। তিনি হলেন হকের পিতার বড় ভাই । সেখানে তিনি আহমেদ চাচা হিসেবে পরিচিত।  স্কুল শিক্ষক হিসেবে তিনি বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন এবং ব্যপক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এখন তার বয়স ৬২ বছর । কিন্তু তাকে ততটা বৃদ্ধ মনে হয় না। প্রকৃতপক্ষে তাকে সর্বদা চঞ্চল মনে হয়।  তিনি টানটান পোষাক পরিধান করেন। পরিবারের সবচেয়ে বেশী বয়স্ক সদস্য হিসেবে সবাই তাকে শ্রদ্ধা এবং মান্য করে । আমি যখন গত শীতকালীন ছুটি কাটানোর জন্য দিনাজপুর আমার বন্ধুর বাড়ীতে যাই তখন আমি এই আহমেদ চাচার সাক্ষাৎ লাভ করি।
 
গুনাবলীঃ আহমেদ চাচা খাদ্য এবং কাপড়ের ন্যায় যে কো ক্ষুদ্র জিনিষ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন না কারণ তিনি খুব খুঁত  খুঁতে স্বভাবের মানুষ। যখনই তিনি পরিবারের অন্য সদস্যের সাথে মিলিত হন তখন তিনি তাকে জিজ্ঞস করেন  কেন সে ইহা করেছে এবং কেন সে ্হা করেনি। কেন প্রশ্ন করার জন্য পরিবারের সাবই তাকে ভয় পায়। কাজেই তার পরিবারের সবাই তাকে এড়িয়ে চলার জন্য তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে। আহমেদ চাচা প্রশ্ন না করে নীরব থাকতে পারেন না। যখন পরিবারের কোন স্কুলগামী বালক তার সম্মুখীন হয় তখন তাকে তিনি নানাভাবে শিক্ষা সম্পর্কিত অনেক প্রশ্ন করেন। তার প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে সাবই বিরক্ত হয়ে যান। যদি কেউ তার কোন প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি তাকে অকর্মন্য বলেন । অবশ্য আমিও তাকে ভয় পেতাম । কারণ এমনকি অতিথি যদি স্কুলের ছাত্র হয় তাহলে তাকেও তিনি প্রশ্ন করতে দ্বিধাবোধ করেন না। যখন তিনি স্কুলের ছাত্র কোন মেহমানের সাক্ষাৎ লাভ করেন তখন তিনি তার ব্যাপক অভিজ্ঞতার পুনঃ হিসাব করেন। হয়তেবা  ঐ মেহমান খুব ব্যস্ত লোক হতে পারেন কিন্তু তা বোঝার চেষ্টা করেন না । তিনি প্রায়ই ব্যস্ত লোকের সান্নিধ্য লাভ করেন তার অতীত অভিজ্ঞতার পুনৎ হিসাব নিকাশ করার জন্য। তাদেরকে একই গল্প বার বার শুনাচ্ছেন একথা তিনি সম্পূর্ণরূপে ভূলে যান। যার ফলশ্রুতিতে কেওই তার কথা শুনতে পছন্দ করেন না। আহমেদ চাচা একজন নিঃসঙ্গ লোক।
 
উপসংহারঃ আহমেদ চাচার জন্য আমি খুব দুঃখ অনুভব করি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নিঃসঙ্গ মানুষ । তাহার ব্যাপক অভিজ্ঞতা তাকে খুব নিঃসঙ্গ করেছে। যদি সে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটিয়ে বই লেখার চেষ্টা করে তাহলে সে তার নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে উঠতে পারে। এক সময় যখন সমাজ তার অভিজ্ঞতাকে অধিক গুরুত্বর সাথে মূল্যায়ন  করা হবে । 
গ্রাম্য ডাক্তার
 
সূচনাঃ গ্রাম্য ডাক্তার গ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ।  তিনি গ্রামের  সকল পুরুষ মহিলার কাছে সুপরিচিত এবং অধিক সম্মানিত ব্যক্তি গরীব গ্রাম্য  লোকদের  তিনি চিকিৎসা সেবা দেন। সাধারনত একজন গ্রাম্য ডাক্তার যোগ্য ডাক্তার নন । এখনও কিছু কিছু গ্রাম্য ডাক্তার আছেন যারা মেডিকেলের অধীনে কাজ করেন এবং ঔষধ সম্পর্কে কিছু  জ্ঞান অর্জন করেন।
 
একজন গ্রাম্য ডাক্তারের প্রাত্যাহিক জীবনঃ একজন গ্রাম্য ডাক্তারের বাড়ীতে একটি ঔষধালয় থাকে। আর সেখানে একটি বা দুইটি আলমারিতে ঔষধ মজুদ করা থাকে। তার নিজের ব্যবহারের জন্য সেখানে একটি চেয়ার ও একটি টেবিল এবং রোগীদের বসার জন্য একটি বেঞ্চ থাকে ।  রোগীরা খুব সকালে তার বাড়ীতে আসে। তিনি কোন কম্পাউন্ডারের সাহায্য নেন না। অপেক্ষমান রোগীদের তিনি ঔষধের ব্যবস্থা করেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করেন। উপস্থিত রোগীদের প্রস্থানের পর তিনি বাইরের যে সব বাড়ীতে ডাক পরে সেখানে  রোগী দেখতে যান। দুরে যাওয়ার জন্য তার হয়তোবা একটি বাই সাইকেল থাকে । তার পারিশ্রমিক কম এবং রোগী যদি গরীব হয় তাহলে তাদের তিনি বিনা পরিশ্রমিকে চিকিৎসা সেবা দেন।
 
একজন গ্রাম্য ডাক্তারের দায়িত্বঃ একজন গ্রাম্য ডাক্তার তার রোগীদের বিশেষভাবে যত্ন নেন। মাঝে মাঝে তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা তার রোগীর পাশে একত্রে বসে থাকেন এবং সতর্কতার সাথে রোগীর অসুখ নিয়ে গবেষনা করেন। মাঝে মধ্যে কোন মরাত্নক অসুখের ক্ষেত্রে তিনি তার রোগীর কাছে সারারাত ধরে বসে থাকেন এবং রোগীকে ঔষধ দেন। তিনি গ্রামবাসীদের উত্তম বন্ধু।
 
উপসংহারঃ গ্রাম্য ডাক্তার চাল চললে অতি সাদাসিদে। সবাই তাকে ভালবাসে এবং সম্মান করে। শুধুমাত্র গরীব লোক নয় ধনীরাও তার সাথে বিনয়ী আচরণ করে। আমাদের জনপ্রিয় সরকার যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম্য ডাক্তারদের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন।
রেল ভ্রমণ
 
সূচনাঃ বিগত গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি এক আনন্দ ঘন ভ্রমণ করেছিলাম। আমি এক মনোহর রেল ভ্রমণে গিয়েছিলাম।
 
কোথা থেকে ও কখন যাত্রা শুরু হলঃ তখন ছিল গ্রীষ্মের ছূটি। আমার বড় ভাই এবং আমি সকাল ৮টায় ফেঞ্চুগঞ্জের উদ্দেশ্যে ঢাকা ষ্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম। ঠিক ১৫ মিনিট পূর্বে আমরা ষ্টেশনে পৌঁছেছিলাম ইতিমধ্যে ঘন্টাধ্বনি বেজে উঠল । রেলগাড়ির গার্ডের বাঁশীর আওয়াজ দেয়ার দেয়ার সাথে সাথে ট্রেন চলতে শুরু করল ।
 
ভ্রমণ পথের দৃশ্যঃ ইহা ছিল ভরা জ্যোৎস্না রাত্রিঅ বাহিরের নিস্তব্ধ প্রকৃতির তুষার ধবল সৌন্দর্যে আমার চোখ জুড়িয়েছিল। সবুজ মাঠের ভিতর দিয়ে ট্রেন ধাবিত হচ্ছিল। ইহা ছিল দুরপাল্লার রেলগাড়ি এবং ইহা সকল ষ্টেশনে থামেনি। যাত্রা পথে ইহা শুধু শুধৃমাত্র টংগী, ভৈরব, আখাউড়া প্রভৃতি ষ্টেশনে থেমেছিল। সকালে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আমি ষ্পষ্টতই পরিবর্তন অনুধাবন করতে পেরেছিলাম। আমরা তখন পাহাড়ী এলাকা অতিক্রম করছিলাম । যেহেতু আমরা সামনের দিকে যাচ্ছিলাম তাই রাস্তায় উভয় পার্শ্বের পাহড়গুলোকে পিছনের দিকে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। পুরো দৃশ্য আমার চোখে প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। আমার বড় ভাই আমাকে বলল যে আমরা কুলাউড়া ষ্টেশন অতিক্রম করে চলে এসেছি এবং এক ঘন্টার মধ্যে আমরা ফেঞ্চুগঞ্জে পৌছাব। আমরা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করতে ভূলে গিয়েছিলাম।
 
ভ্রমণ সমাপ্তিঃ আমাকে রেল গাড়ীর ঝাঁকুনি এবঙ হকারদের টিৎকার স্মপর্কে আগেই সচেতন করে দেয়া হয়েছিল। রেলগাড়ি এসে ফেঞ্চুগঞ্জ পৌছল এবং আমাদের ভ্রমণ শেষ হইল।
 
উপসংহারঃ আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ ভ্রমণ আমার জন্য ছিল এক নুতন অভিজ্ঞতা। ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা এই সুন্দর শহরটির কথা আমি কখনও ভূলবো না।
নৌকা ভ্রমণ
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। আমাদের দেশে নৌকা ভ্রমণ খুবই চিত্তাকর্ষক এবং উপভোগ্য। গত শরতের ছুটিতে আমরা এক আনন্দঘন ভ্রমনে গিয়েছিলাম।
 
ভ্রমণের সময়ঃ আমার একবার নৌকা ভ্রমণ উপভোগ করার সুযোগ হয়েছিল। কয়েক মাস পূর্বে আমার এক বন্ধু আর একমাত্র বোনের বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ করেছিল। আমি আমার বন্ধুর গ্রাম বরিশালের উদ্দেশ্যে নৌকা যোগে যাত্রা করিছিলাম।
 
বর্ণনাঃ দিনটি ছিল ২০০০ সালের সালের ১৫ই অক্টোবর রোজ বৃহস্পতিবার। আমি এবং আমার বন্ধুদের আরো দুইজন মিলে একটি সুন্দর নৌকা ভাড়া করলাম। আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে জাগলাম। অতঃপর আমরা নদীর কাছে গেলাম। আমাদের নদী দিয়ে বয়ে যাবার জন্য সেখানে একটি নৌকা প্রস্তুত ছিল। নৌকায় দুইজন মাঝি ছিল। সকাল ৭-৩০ মিনিটে আমরা নৌকায় উঠলাম। আকাশ ছিল পরিস্কার । নদীর তীর দিয়ে নৌকাটি ধাক্কা দিয়ে যাত্রা শুরু করল অতঃপর ইহা নদীর ভিতর দিয়ে সামনের দিকে চলতে শুরু করল। আমরা নদীতে বিভিন্ন ধরনের নৌকা দেখতে পেলাম। কিছু কিছু নৌকায় পাল ছিল। আর সেগুলো বাতাসের দ্বারা চালিত হচ্ছিল। কিছু কিছু নৌকা পাট বহন করছিল। আর কিছু কিছু নৌকা প্রচুর কলা বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। জেলেরা এদিক সেদিক তাদের তাদের জাল নিক্ষেপ করতেছিল। তাদের জালের কাঠিগুলো দেখা যাচ্ছিল। তাদের ছোট ছোট নৌকাগুলো উপরে নীচে দুলতেছিল। ভ্রাম্যমান পানিতে জলন্ত উদ্ভিদ ভাসছিল । নদীর তীর থেকে বহু দুরে খুব বড় বড় গুদাম এবং সুন্দর বাংলো ছিল। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছিল। কিন্তু আমরা যখন একটি গ্রাম অতিক্রম করছিলাম তখন সেখানকার গরীব অনাবৃত ছেলে মেয়েরা যাদের মুখে আঙ্গুল দেয়া ছিল আমাদের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। সেখানে ঝড়ে উপড়ে পড়া অনেক ঘর বাড়ী ছিল।
 
উজ্জল রোদ ছিল। আমরা গান গাইতে শুরু করলাম। আমাদের নৌকা তীরের নিকটবর্তী ছিল। কিছুক্ষণ পরে আমরা গান গাওয়া বন্ধ করলাম। আমরা যখন বরিশাল ঘাটে পৌছলাম তখন আমরা সেখানে নেমে পড়লাম। ঘাটের উভয় পার্শ্বে লোক পরিপূর্ণ ছিল। তাদের মধ্যে কিছু লোক গোছল করছিল। বালকেরা সাঁতার কাটছিল। কিছু মহিলা মাটির কলস ভর্তি পানি নিয়ে বাড়ীতে যাচ্ছিল। আমরা কৃষকদের মাঠে কাজ করতে দেখছিলাম। চারিপার্শ্বের দৃশ্যাবলী ছিল খুবই মনোমুগ্ধকর। সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছিল। আর সূর্যকে তখন নদীর পানির মধ্যে ডুবে যাচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল। আমরা এসকল দৃশ্যাবলী উপভোগ করেছিলাম। এভাবে আমাদের নৌকা ভ্রমণ শেষ হয়েছিল।
 
উপসংহারঃ এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে অধিক মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ। এ ভ্রমণ আমাকে গ্রামের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী দেখার সুযোগ এনে দিয়েছিল। আমি ইহা কখনও ভূলবো না।
আমার প্রেয় খেলা
 
সূচনাঃ আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ঘেলা প্রচলিত আছে। এ সকল খেলার মধ্যে আমি ফুটবল অধিক পছন্দ করি। ইংল্যান্ডে ইহা প্রথম খেলা হয়েছিল। এখন সারা বিশ্বে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
 
কেন প্রিয়ঃ ফুটবল আমার প্রিয় খেলা কারণ এতে কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। ইহা ক্রিকেট খেলার মতো ততোটা ব্যয়বহুল নয় । ইহা আমাদের প্রচুর আনন্দ দেয়। ইহা খুব উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। ইহা খেলোয়ার এবং দর্শক উভয়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
 
বর্ণনাঃ ফুটবল উম্মুক্ত স্থানের খেলা। এ খেলার জন্য বড় মাঠের দরকার। আর মাঠের দৈর্ঘ্য হতে হবে ১২০ গজ এবং প্রস্থ ৮০ গজ। প্রত্যেক প্রান্তে দুইটি করে গোল পোস্ট থাকে। দুইটি দলের মধ্যে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রত্যেক দলে এগার জন করে খেলোয়ার থাকে। এদের মধ্যে একজন হল গোল রক্ষক, দুই জন ফুল ব্যাক, তিন জন হাফ ব্যাক এবং পাঁচজন ফরোয়ার্ড । খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি থাকে।
 
কিরূপে খেলা হয়ঃ খেলার প্রারম্ভে প্রথমে বলটি মাঝখানে রাখা হয়। রেফারির বাশি বাজানোর সাথে সাথে খেলা শুরু হয়। অতঃপর প্রত্যেক দলের খেলোয়ারেরা বিপক্ষের গোল পোস্টে বল প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা হাত দিয়ে বল স্পর্শ করতে পারে না। একমাত্র গোল রক্ষক বলটি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারে এবং ধরতে পারে । খেলার মাঝে ১০ মিনিট বিরতি থাকে। বিরতির পর প্রান্ত পরিবর্তিত হয়। যে দল বেশী গোল করতে পারে তাদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
 
গুনাবলী /উপকারিতা/সুবিধাঃ ফুটবল খেলা আমাদেরকে আইনের প্রতি আনুগত্য হতে শিক্ষা দেয়। ইহা আমাদের আরো শিক্ষা দেয় শৃঙ্খলা, সহযোগীতা এবং নেতৃত্ব সম্পর্কে। ইহা খেলোয়ারদের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে এবং তাদেরকে তৎপর, যত্নবান, শক্তিশালী এবং পরিশ্রমী করে তোলে।
 
উপসংহারঃ যদিও ফুটবল খেলায় আহত হওয়ার ঝুকি রয়েছে তথাপি সবাই এ খেলা পছন্দ করে।
স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
 
সূচনাঃ পুরস্কার বিতরণী উৎসব কোন স্কুলের জন্য একটি আনন্দের দিন। এ আনন্দের দিনে সভার মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল ভবন এবং ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করে তোলে। তারা আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে গান গায়। নাচে এবং কবিতা আবৃতি করে।
 
বিদ্যালয়ের উৎসবঃ আমাদের স্কুলের এ বছরের পুরস্কার বিতরণী উৎসব গত রবিবারে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪ টায় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সভাপতিত্ব করেন। সভাপতি কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করল। প্রধান শিক্ষক চুড়ান্ত ফলাফল পাঠ করেন। ছাত্র - ছাত্রীরা গান গাইল, নাচল, কবিতা আবৃতি করল এবং একটি এক অঙ্কের নাটক মঞ্চস্থ করল।
 
পুরস্কার বিতরণীঃ অবশেষে সভাপতি পুরস্কার বিতরণ করলেন। প্রত্যেকটি পুরস্কার ছিল কিছু দরকারী বই নিয়ে গঠিত। বইগুলো সুন্দরভাবে বাঁধানো ছিল। অতিরিক্ত শিক্ষা সহায়ক হিসেবে কিছু পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছিল। আমার এক বন্ধু ভাল আচরণের জন্য একটি পুরস্কার পেয়েছিল।
 
সভাপতির ভাষণঃ অবশেষে সভাপতি উঠে দাঁড়ালেন । সুন্দর বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি পুরস্কার বিজয়ীদের ধন্যবাদ জানালেন । তিনি অন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও কঠোর পরিশ্রম করতে বললেন যাতে তারা পরবর্তী বছর পুরস্কার লাভ করতে পারে। এ ধরণের অনুষ্ঠাণ আয়োজনের জন্য তিনি শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানালেন।
 
উপসংহারঃ পরিশেষে ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্র বিদায়ী গান গাইল। সভাপতি এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে প্রধান শিক্ষক তার আন্তরিক ধন্যবাদ জানালেন। বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত হল।
ক্রিকেট
 
সূচনাঃ ক্রিকেট একটি ইংরেজ দেশীয় উম্মুক্ত স্বাস্থের খেলা। আজকাল বিশ্বের মধ্যে এটি একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশেও এটি একটি জনপ্রিয় খেলা । ছাত্র এবং অন্য সাবই এটি খেলে থাকে।
 
খেলোয়াড়, খেলার মাঠ এবং সরঞ্জামাদিরঃ এগার সদস্য বিশিষ্ট দুটো দলের মধ্যে এ খেলাটি হয়ে থাকে। এতে খুব মসৃণ একটি মাঠ প্রয়োজন হয় যাতে বলটি সহজেই গড়িয়ে যায় । দুটো বেল সহ দুটি উইকেট, দুটো ব্যাট ও একটি বল এ খেলার জন্য প্রয়োজন  হয় । উইকেট দুটো মধ্যবর্তী স্থান থেকে ২২ গজ দুরে থাকে।
 
কিভাবে খেলা হয়ঃ দু'দলের মধ্যে এ খেলাটি সংঘটিত হয়ে থাকে। ব্যাট করার জন্য এক পক্ষ আসে এবং অন্য পক্ষ তা প্রতিহত করার জন্য ফিল্ডিং এ নিয়োজিত হয়। একদল থেকে দুজন খেলোয়ার ব্যাটিং এ আসে এবং অন্যদলের সাবই বল নিক্ষেপ করতে এবং  উইকেট প্রতিহত করতে চেষ্টা করে। এভাবে ব্যাটিং পক্ষের উইকেটদের পতন হতে হতে দশ জনই বের হয়ে যায়। এতে দু'জন আমপায়ার থেকে যারা খেলাটি নিয়ন্ত্রণ করেন। এভাবে এক তার উইকেট হারিয়ে খেলার সর্বোচ্চ স্কোর সংগ্রহ করে।
 
জনপ্রিয়তাঃ ক্রিকেট একটি স্বাস্থ্যপ্রদ খেলা। দেহের সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং মাংসপেশী সঠিকভাবে অনুশীলিত হয়ে থাকে। ইহা দলের প্রেরনা যোগায়। এ খেলাটি খেলোয়াড়দের বাধ্যতা, শৃংখলা, অধ্যবসায়, সহিঞ্চু এবং অন্যান্য গুণাবলীর শিক্ষা দিয়ে থাকে।
 
উপসংহারঃ বিশ্বের সর্বত্র এ খেলাটি জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও ইহা জনপ্রিয়। আমরা আশা করি বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়েরা বিশ্বে প্রচুর যশ ও খ্যাতি অর্জন করবে।
হা-ডু-ডু
 
সূচনাঃ বাংলাদেশে অনেক গ্রাম বা স্থানীয় খেলা আছে। এগুলোর মধ্যে হা-ডু-ডু অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং চিত্তাকর্ষক খেলা। ইহা উম্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত খেলাগুলোর অন্যতম। হা-ডু-ডু খেলার অনুরূপ খেলা কাবাডি যা হল আমাদের জাতীয় খেলা। এ খেলাটি আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের সমতল মাঠে খানিকটা খেলা হয়। ইহা অধিক ব্যয়বহুল খেলা নয়।
 
দল এবং খেলার মাঠঃ হা-ডু-ডু খেলা উম্মুক্ত মাঠে দুইটি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক দলে সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে। খেলোয়ারের এ সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। এ খেলায় সাধারত ৬ থেকে ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠন করা হয়। খেলার মাঠ সমান দু'ভাগে বিভক্ত থাকে। প্রত্যেক দলের নিজ নিজ এলাক চিহ্নিত করার জন্য মাঠের ঠিক মাঝখানে একটি রেখা টানা হয়।
 
কিরূপে খেলা হয়ঃ প্রত্যেক দলের খেলোয়াড়রা নিজ নিজ এলাকায় দাঁড়ায়। তারা সারিবদ্ধভাবে  অর্ধরেখা বরাবর একে অপরের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রথম দলের একজন খেলোয়াড়কে সজোড়ে বিপক্ষ এলাকায় পাঠানো। সর্বক্ষণ তাকে শ্বাসের সাথে মিল রাখিয়া হা-ডু-ডু শব্দটি উচ্চারণ করতে হয়। শ্বাস রেখে তাকে প্রাণপণ চেষ্ঠা করতে হয়। বিপক্ষ দলের এক বা একাধিক খেলোয়াড়কে স্পর্শ করার এবং নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরে আসার। যদি সে বিপক্ষ সে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়কে স্পর্শ করার পর নিজ এলাকায় ফিরে আসতে পারে  তাহলে সে জীবিত থাকে। মৃত খেলোয়াড় বা খেলোয়াড়বৃন্দ খেলা থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কৃত হয়। অপরদিকে সে যদি বিপক্ষ দলের খেলোয়ার কর্তৃক ধৃত হয় তাহলে তাকে মৃত ঘোষনা করা হয়। এভাবে দলগুলো পর্যায়ক্রমে তাদের খেলোয়াড়দেরকে বিপক্ষ দলের এলাকায় আক্রমন করার জন্য পাঠায়। বিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড় মৃত্যুর বিনিময়ে একজন মৃত খেলোয়াড় পুনরায় জীবিত হতে পারে। যখন একটি দলের সকল খেলোয়াড়কে মৃত ঘোষণা করা হয় তখন খেলা শেষ হয়ে যায়। আর যে দলটির খেলোয়াড় জীবিত থাকে তাদেরকে বিজয়ী দল বলা হয়।
 
খেলার মনোমুগদ্ধকর অংশঃ হা-ডু-ডু খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই খুব আনন্দদায়ক। আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ খেলাকে আরো বেশী চিত্তাকর্ষক করে তোলে। দর্শকবৃন্দ ঐ ধরনের দৃশ্যাবলী খুব আনন্দের উপভোগ করে। যখন হা-ডু-ডু উচ্চারণরত একজন খেলোয়াড়কে তার বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা চেঁপে ধরে আর সে তখন খুব অসহায়ের মত তাদেরকে পরাভূত করার চেষ্টা করে।
 
উপসংহারঃ হা-ডু-ডু আমাদের দেশের একটি স্থানীয় খেলা। এ খেলা কান ব্যয় ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইহা আমাদের শক্তিশালী এবং কর্মঠ করে। একদা ইহা ছিল খুব জনপ্রিয় খেলা। আধুনিক যুব সমাজের কাছে এখন ইহা তাদের আবেদন হারিয়ে ফেলেছে। এ খেলাকে পুনরায় জনপ্রিয় করে তোলার জন্য আমাদের উচিৎ যুব সমাজকে এ খেলার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলার যথাযথ পদেক্ষেপ নেয়া।
আমার দেখা একটি ফুটবল খেলা
 
সূচনাঃ বহির্বিভাগের সকল খেলার মধ্যে আমি ফুটবল খেলা অধিক পছন্দ করি।  ইহা হল ইংরেজদের খেলা। এ খেলাটি আনন্দ এবং উত্তেজনায় ভরা। কাজেই অল্পবয়সী এবং মধ্যবয়সী লোক এ প্রতিযোগীতাপূর্ণ খেলাটি দেখার জন্য আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে। আমি বর্তমান মাসের ১২ তারিখে প্রতিযোগীতামূলক একটি ফুটবল খেলা প্রত্যক্ষ করেছিলাম। ইহা আমাদের স্কুলের ফুটবল দল এবং আমাদের শহরের শ্রেষ্ঠ একাদশ দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইহা চাঁদপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
 
খেলা হিসেবে ফুটবলের প্রতি আমার আগ্রহঃ ফুটবল একটি জাতীয় খেলা। ইহা বড় এবং খেলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক লোক এ খেলা উপভোগ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এ খেলাটি উত্তেজনায় ভরপুর। এ খেলার সময়কাল বেশী দীর্ঘ নয়। অপরপক্ষে ইহা আমাদের নিয়মবর্তিতা এবং পারস্পরিক সহযোগীতা শিক্ষা দেয়। এ সকল কারণে আমার শৈশব কাল থেকে আমি ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহী।
 
কিরূপে খেলা শুরু হয়ঃ খেলা শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পূর্বে উভয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ মাঠে প্রবেশ করে। রেফারি সকল খেলোয়াড়বৃন্দকে এবং উভয় দলের পরিচালককে আমন্ত্রণ জানান। অতঃপর তাদেরকে প্রধান অতিথির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তারপর রেফারি উপরের দিকে মুদ্রা নিক্ষেপ করেন। আমাদের স্কুল দল মুদ্রা নিক্ষেপে জয় লাভ করল। খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ অবস্থান নিল। রেফারি বাঁশি বাজালেন এবং বলে লাথি মরার সাথে সাথে খেলা শুরু হল। অতঃপর উভয় দলের খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ খেলা চালিয়ে গেল।
 
খেলার প্রথমার্ধঃ খেলার প্রথমার্ধ উভয় দল বেশ কয়েকটি বিক্ষিপ্ত আক্রমন রচনা করে কিন্তু কোন ফল আদায় করে নিতে পারেনি। ইহা ছিল খুব কঠিন প্রতিযোগীতা কেহই জানত না কোন দল জয়ী হবে।
 
খেলার দ্বিতীয়ার্থঃ খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও উভয় দল বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত আক্রমন রচনা করে। কিন্তু উভয় দলের প্রতিরক্ষাভাগের খেলোয়াড়রা বিপক্ষ দলকে আক্রমন করতে ব্যর্থ হল। খেলার অবস্থা বেশ জটিল আকার নিল। যে কোন মুহুর্তে যে কোন ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মাত্র এক মিনিট খেলা শেষ হওয়ার বাকী রইল। ভাগ্য আমাদের স্কুল দলের অনুকূলে গেল। মাঝ মাঠের এক খেলোয়াড় ডান প্রান্তের এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে খুব সুন্দর একটি ভল পেল এবং সাথে সাথে বলটি জাঁলে জড়িয়ে দিল। চারদিক প্রচন্ড উল্লাস এবং করতালিতে মুখর হয়ে উঠল। হঠাৎ খেলার সময় শেষ হয়ে গেল।
 
উপসংহারঃ আমার মনে হয় ইহা ছিল একটি ভাল প্রতিযোগীতা। প্রায় সকল শিক্ষকবৃন্দ এবং ছাত্র -ছাত্রীরা খেলাটি উপভোগ করেছিল। এ খেলাটির কথা আমার চিরদিন স্বরণ থাকবে।
একটি ধর্মিয় উৎসব/ ঈদুল ফিতর
 
সূচনাঃ সকল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুর  ফিতর একটি বড় উৎসব। এদিনে মুসলমানগণ দান খয়রাত করে এবং গরীবদের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ বা খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করে থাকে। ইহাকেই বলা হয় "ফিতরা" আর এ জন্যেই এর নাম হয়েছে ঈদুল ফিতর।
 
বর্ণনাঃ এদিনে সারা দেশে আড়ম্বর করে কাটায়। ছেলে মেয়েরা অতীব উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে রাত কাটায় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেয়। কেহ কেহ আতশবাজি পোড়ায়, কেহ বা বাড়ি সাজায় ও আলোকিত করে। যত শীঘ্র সম্ভব তারা ভোরে ঘুম থেকে উঠে পুকুরে বা নদীতে স্নান করে পাক সাফ হয়। তারপর তারা নুতন ও সুন্দর সুন্দর জামা কাপড় পরে, আতর গোলাপ ব্যবহার করে ও বন্ধুদের একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে। সবাই সেমাই ও মিষ্টি গ্রহণ করে। গরীব লোকেরা ধনীদের বাড়িতে ভীর জমায় এবং তাদেরকে খাওয়ানো হয়। সর্বত্রই আনন্দের ঢেউ বইতে থাকে।
 
প্রার্থনাঃ এরপর সবাই ঈদগাতে বা ময়দানের দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং সেখানে প্রার্থনার জন্য সকলে জমায়েত হয়। বিপুল সংখ্যক ছেলেমেয়ে ও লোকজনের সমাবেশ হয় ময়দানে। যখন নামায শেষ হয় তখন ইমাম সাহেব খুতবা পেশ করেন। তিনি দ্বীনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য করেন। তিনি তাদেরকে শত্রুতা, হিংসা ও দ্বন্দ্ব ভূলে নাজাতের জন্য মোনাজাত করেন।
 
উপসংহারঃ মোনাজাত শেষ করে অবশেষে লোকজন মাঠে একে অন্যের মধ্যে শুরু হয় আলিঙ্গন এবং একে অন্যের বাড়িতে দাওয়াত দেয়া নেয়ার পালা। বিকালে তারা আত্মীয়দের বাড়ি ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে বেড়ানোর আনন্দে মেতে উঠে। এ দিন দ্বন্দ্ব ও শত্রুতা ভূলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবন্ধ হওয়া আমাদের বিশেষ কর্তব্য।
মে দিবস
 
সূচনাঃ মে দিবস একটি জাতীয় দিবস। মে মাসের প্রথম দিনটিকে মে দিবস বলা হয়। সারা বিশ্বে এ দিনটিকে ছুটি হিসেবে উপভোগ করা হয়। এ দিনটিতে সাধারণ লোক উৎসবের মাধ্যমে ঐ সকল শ্রমিকদের স্মৃতি রক্ষা করে যারা ১৮৮৬ সালে সিকাগো শহরে ত্যাগ স্বীকার করেছিল।
 
দিনটির পটভূমিঃ ইহা স্বরণাতীত যে পুঁজিপতিরা তাদের শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের সাথে তাদের স্ত্রী পরিজন এবং সন্তানদের নিযুক্ত করত এবং দীর্ঘ সময় তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হত। তাদেরকে অল্প মজুরী দেয়া হত এবং তা দিয়ে শ্রমিকরা তাদের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারত না। তাদের অবস্থা ছিল খুব শোচনীয় এবং বেদনাদায়ক। শুধু তাই-ই নয় শ্রমিকরা ভিবিন্নভাবে অত্যাচারিত এবং উপেক্ষিত হত। তাই শ্রমিকরা শোষনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করল। সর্ব প্রথমে সিকাগো শহরে এ  আন্দোলন দেখা দিল। তারা কিছু সুযোগ-সুবিধা এবং কাজের নির্দিষ্ট সময় দাবী করল। পুজিপতি সরকার এবং তার প্রতিনিধিরা আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল। ১৮৮৬ সালের ১লা মে তারা শ্রমিকদের মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি চালায় এবং তাতে কিছু সংখ্যক শ্রমিক মারা যায়। তাদের কর্তৃক আরো শত শত শ্রমিক আহত হয়েছিল। কিছু সংখ্যক নেতাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। স্বভাবতই ইহা ছিল অমানবিক এবং বর্বরোচিত। এই দুঃখজনক ঘটনাটি শ্রমকিরা এবং বিশ্বের সচেতন লোকেরা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিল। এ দিনটিতে শ্রমিকদের জন্য অনেক কিছু অর্জিত হয়েছিল। কাজেই ১৮৮৬ সালে সংঘটিত হত্যাকান্ড থেকে অনুপ্রেরনা লাভের জন্য প্রতি বছর এ দিনটিকে সারা বিশ্বে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।
 
অর্জিত বস্তুঃ সিকাগো শহরে শ্রমিকদের মহান আত্মত্যাগ মানব সভ্যতার ইতিহাসে কে নুতন অধ্যায়ের সৃষ্টি হল। এ ঘটনার পূর্বে শ্রমিকদের দৈনিক ১২ ঘন্টা অথবা ১৩ ঘন্টা কাজ করতে হত। এখন তাদের ৮ ঘন্টা কাজ করার দাবী গৃহীত হল। অবশ্য তাদেরকে জীবন ধারনের কিছু সুযোগ সুবিধাও প্রদান করা হয়েছিল।
 
দিনটির তাৎপর্যঃ এদিনটি হল অবিচার, অত্যাচার এবং নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে স্বরূপ। ইহা সকল শ্রেণীর শ্রমিকদের যে কোন অন্যায়ের রিরুদ্ধে তাদের  ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের অনুপ্রেরনা যোগায়।
 
উপসংহারঃ ১৮৮৬ সালে সিকাগো শহরের শ্রমিকদের মহান আত্মত্যাগ শ্রমিকরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বরণ করে এবং শোষণমুক্ত সমাজ ও অর্থনৈতিক ন্যায় বিচার দাবী করে। এ দিনটিতে শ্রমিকদের এ মহান আত্মত্যাগ মূল্যায়িত হউক।
একুশে ফেব্রুয়ারি/ শহীদ দিবস
 
সূচনাঃ ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক দিন। এ দিনটি অমর একুশে হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। ইহা বাংলাদেশীদের জন্য উদ্যম এবং অনুপ্রেরনার উৎস। ইহা শোষণ এবং অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ। এদিনটি সরকারী ছুটির দিন। প্রতি বছর এ দিনটিকে আমরা মর্যদা সহকারে উদযাপন করি।
 
দিনটির পটভূমিঃ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ভাষা শহীদরা এক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল এবং দিনটি স্বরণীয় হয়ে রইল। পূর্ব পাকিস্তানে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলাম। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত। তারা স্পষ্টত বুঝতে পারল যে সংখ্যা গরিষ্ঠদের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘস্থায়ী হবে না যদি আমাদের ভাষা এবং সাহিত্যকে দাবিয়ে রাখা না হয়। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা উর্দুকে পাকিস্তানের জন্ম লগ্ন থেকে তেমন কোন জোঁড়ালো প্রতিবাদের সম্মুখীন হল না। পাকিস্তানের জন্ম লগ্ন থেকে বিরোধী শিবির সংঘঠিত ছিল না। রাজনৈতিক দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা ছিল সংবেদনশীল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহসী ছাত্ররা এ দাবি মোকাবেলায় এগিয়ে আসল তার ঐ ঘোষণার রিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাল এবং আন্দোলন শুরু করল। আর এ আন্দোলনকে ভাষা আন্দোলন বলা হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এই অবৈধ এবং অপরিকল্পিত ঘোষণার প্রতিবাদে মিছিল বের করে। পাকিস্তানি শাসকরা বন্ধুকের নলের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল। কিন্তু অনেক নাম না জানা ছেলেরা তাদের স্বীয় জীবনের বিনিময়ে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিল। শুধু তাই-ই নয়, ভাষা শহীদদের রক্তে বাংলাদেশী জাতীয়তার জন্ম হয়েছিল।
 
বিশ্ব স্বীকৃতিঃ আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করল।
 
কিরূপে দিনটি উদযাপন করা হয়ঃ একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের একটি জাতীয় দিবস। কিন্তু আজ ইহা আন্তর্জাতিক দিবস। জাতি মর্যদা সহকারে এ দিনটি উৎযাপন করে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। প্রত্যুষে খালি পায়ে পদযাত্রা বের করা হয়। আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের মাজার জিয়ারত করা হয় এবং সেখানে ফাতেহা পাঠ করা হয়। সকল সংবাদ মাধ্যম, অফিস আদালত, প্রতিষ্ঠাণ, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, সমিতি প্রভৃতি তাদের নিজ নিজ অনুষ্ঠাণমালা পালন করে থাকে। দিনের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাণ, প্রদর্শনী, প্রতিযোগীতা প্রভৃতি।
 
উপসংহারঃ ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের অন্যায় এবং শোসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিক্ষা দেয়। ইহা আমাদের মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষাকে ভালবাসতে শিক্ষা দেয়। ইহা আমাদের নিজেকে উদঘাটন করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ একটি গর্বিত দেশ কারণ গৌরবময় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে এর আত্মপ্রকাশ। যদিও আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা সত্যিকারার্থে এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
 
স্বাধীনতা যুদ্ধের অতীত ইতিহাসঃ বাংলাদেশ ব্রিটিশদের কাছে তার স্বাধীনতা হারায় যখন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে হেরেছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারতকে ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীণ রাষ্ট্রে বিভক্ত করে। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের লোক ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারপরও তারা সকল ধরনের ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হল। বাংলাদেশ পশ্চিম পাকিস্তানের একটি উপনিবেশে পরিণত হল। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জনগণ ইহা সহ্য করতে পারল না এবং এ অবস্থা থেকে তাদের মুক্তির জন্য তারা জোরালো আন্দোলন শুরু করল।
 
স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিঃ শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের আরো কিছু সংখ্যক দেশ প্রেমিক তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠে সোচ্চার হয়ে উঠলেন। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আরো কিছু সংখ্যক বাংলাদেশীকে আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে একটি মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হল। কিন্তু বাংলার জনগণ এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে প্রচন্ড আন্দোলন শুরু করে। আইয়ুব খান তাদেরকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। তারপর ইয়াহিয়া খান আসেন এবং তিনি ১৯৭০ সালে সাধারন নির্বাচনের ঘোষনা দেন। শেখ মুজিবুর রহমানের দল নিশ্চিতরূপে জাতীয় বিধান সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা হস্তান্তর করলনা বরং তিনি জাতীয় বিধান সভার সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেন যার ফলে শেখ মুজিবুর রহমান অহিংসাত্মক অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। ইয়াহিয়া শেখ মুজিবুরের সাথে মিথ্যা সংলাপ শুরু করেন এবং একই সাথে তিনি সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করতে লাগলেন।
 
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামঃ ২৫শে মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো রাত্রি। সে রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা বাংলার নিরস্ত্র জনগনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এবং পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়। যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু  হয়ে গেল তখন রাতারাতি নুতন মুক্তিযোদ্ধা জন্ম নিতে লাগল এবং নির্বিঘ্নে তার দক্ষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সৈন্যদের মোকাবেলা করতে লাগল। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুজিব নগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার গঠন করা হয় কিন্তু পাকিস্তানিরা একটি জাতিকে জিম্মায় রেখে নির্মূল করার জন্য পৃথিবীর জঘন্যতম কাজ চালিয়ে গেল। মহিলাদের ধর্ষন এবং হত্যা করা হলো। বিশ্বের জনতা পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার নিপীড়ণ যে সকল সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল তা অনুমান করতে পারল। লক্ষ লক্ষ নিষ্পাপ বাঙালী তাদের জীবনের ভয়ে সীমানা পাড় হয়ে পালিয়ে গেল। যখন তাদের অপরাধ চরমে পৌছল তখন তারা ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের মিলিত বাহিনীর সাথে সরাসরি আক্রমনে আসল।
 
১৬ই ডিসেম্বরঃ শেষ অবস্থায় বিজয় ছিনিয়ে আনতে মাত্র দুইদিন লেগেছিল এবং গৌরবময় ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা আত্মসমর্পন করল। আমাদের বিজয় দিবস বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত হল।
 
উপসংহারঃ যদিও আমরা অনেক রক্ত ঝরার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা একটি শক্তিশালী জাতি প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমার মনে হয় ১৯৭১ সালের আমাদের মহান আত্মত্যাগের কথা ভূলে গিয়েছি। কাজেই আমাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিৎ এ দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা।
বিজয় দিবস
 
সূচনাঃ ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে ইহা একটি স্বরনীয় দিন। আমাদের বিজয় দিবস বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করে। তাই আমাদের জাতীয় জীবনে ইহা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন।
 
স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিঃ শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের কিছু সংখ্যক দেশ প্রেমিক প্রতিবাদী কন্ঠে সোচ্চার হয়ে উঠেন। ১৯৬৮ সনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আরো কিছু সংখ্যক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে পরিচিত একটি মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু বাংলার জনগন এই মিথ্যা মামলার রিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। আইয়ুব খান তাদেরকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলেন। অতঃপর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসেন এবং তিনি ১৯৭০ সালে সাধারন নির্বাচন ঘোষনা করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের দল সত্যিকারভাবে জাতীয় বিধান সভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেন। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ক্ষতমা হস্তান্তর করলেন না বরং তিনি জাতীয় বিধান সভার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেন। যার ফলে শেখ মুজিব অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। ইয়াহিয়া মুজিবের সাথে মিথ্যা সংলাপ শুরু করেন এবং একই সাথে তিনি সৈন্যের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
 
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামঃ ২৫শে মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো রাত্রি। সে রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা বাংলার নিরস্ত্র জনগনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এবং পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়। যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু  হয়ে গেল তখন রাতারাতি নুতন মুক্তিযোদ্ধা জন্ম নিতে লাগল এবং নির্বিঘ্নে তার দক্ষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সৈন্যদের মোকাবেলা করতে লাগল। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুজিব নগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার গঠন করা হয় কিন্তু পাকিস্তানিরা একটি জাতিকে জিম্মায় রেখে নির্মূল করার জন্য পৃথিবীর জঘন্যতম কাজ চালিয়ে গেল। মহিলাদের ধর্ষন এবং হত্যা করা হলো। বিশ্বের জনতা পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার নিপীড়ণ যে সকল সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল তা অনুমান করতে পারল। লক্ষ লক্ষ নিষ্পাপ বাঙালী তাদের জীবনের ভয়ে সীমানা পাড় হয়ে পালিয়ে গেল। যখন তাদের অপরাধ চরমে পৌছল তখন তারা ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের মিলিত বাহিনীর সাথে সরাসরি আক্রমনে আসল।
 
বিজয়ের তাৎপর্যঃ এদিনটি মহান বিজয়ের দিন। ইহা হল অত্যাচারীতদের বিজয়। এ দিনটিতে আমাদের শপথ নেয়া উচিৎ এদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে পূনর্গঠন করে তোলার কাজেই আমাদের উচিৎ প্রতি বছর এ দিনটিকে জাতীয় মর্যদায় ভাবগার্ভীর্যপূর্ণ মনোভাব সহকারে উদযাপন করা।
 
কিরূপ দিনটি উদযাপন করা হয়ঃ  ইহা সরকারী ছুটির দিন। আমরা এ দিনটিকে  ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ মনোভাবে উদযাপন করি। খুব সকালে সরকারী, আধা সরকারী এবং বেসরকারী অফিস আদালত এবং বাড়ী ঘরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের মঙ্গল কামনা করে বিভিন্ন মসজিদ, গীর্জা এবং মন্দিরে প্রার্থনা করা হয়। রেডিও এবং টেলিভিশন বিশেষ অনুষঠানমালা সম্প্রচার করে থাকে। স্কুল এবং কাগজগুলো এদিনটিকে ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ মর্যদায় উপভোগ করে। বিকালবেলা বিভিন্ন ধরনের  ক্রীড়া এবং কেলাধূলায় কাটে। সন্ধ্যাবেলা ঘরবাড়ী এবং দালান কোঠা আলোকিত করা হয়।
 
উপসংহারঃ জাতীয় দিবস আমাদের দুঃসাধ্য স্বাধীনতা অর্জনকে স্বরণ করিয়ে দেয়। ইহা আমাদের স্বাধীনতাকে যে কোন মূল্যে ধরে রাখতে দৃঢ়সংকল্প করে তোলে।
আমার জীবনের লক্ষ্য/ উদ্দেশ্য
 
সূচনাঃ উদ্দেশ্যহীন মানুষ মাস্তুলবিহীন জাহাযের মত। সে উদ্দেশ্যহীনভাবে জীবন যাপন করে এবং জীবনে উন্নতি করতে পারে না। তাই প্রত্যেক মানুষকে তার জীবনের শুরুতে একটি বিশেষ পেশা বেছে নিতে হয়। ইহা ব্যক্তিগত রুচির উপর নির্ভর করে। কেহ অর্থ উপার্জন করতে চায় এবং কেহ সুনা অর্জন করতে চায়।
 
আমার লক্ষ্যঃ মানুষের সেবা করা আমার লক্ষ্য। নির্যাতিত মানব জাতির সেবা করার একটি মন আমার আছে। আমার এ আকাঙ্খা পূরণ করার জন্য আমি চিকিৎসা পেশা বেছে নিতে চাই। আমার মতে এটাই সবচেয়ে উত্তম পেশা। যাই হোক আমি একজন ডাক্তার হতে চাই।
 
প্রস্তুতিঃ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পাস করার পর আমি একটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হব। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন,সেখান থেকে এইচ,এস,সি ডিগ্রি অর্জন করার পর বি,বি,এস ডিগ্রি'র জন্য আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হব।
 
সেবাঃ যদি আল্লাহর রহমতে আমি নিজেকে চিকিৎসা পেশার জন উপযোগী করে তুলতে পারি তবে আমি কোন সরকারী চাকুরী নেব না। কিন্তু আমি আমার নিজ গ্রামে যাব। বাংলাদেশের গ্রাম দেশেরে মেরুদন্ড কারণ এখানে বেশিরভাগ লোকেরা বাস করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে আমাদের গ্রামগুলো ধ্বংসের পথে। সেখানে ম্যালেরিয়া, কলেরা এবং অন্যান্য রোগ প্রাধান্যভাবে রাজত্ব করে। আমি ঐ সকল অসহায় লোকদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করব। প্রতি ক্ষেত্রেই আমি তাদেরকে সাহায্য করব। আমি তাদের কাছ থেকে কোন ফিস নেব না এবং তদের বিনামূল্যে ঔষধ দেব। কিন্তু আমি ধনীদের কাছ থেকে পয়সা নেব। আমি আমার গ্রামে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমি তাদেরকে স্বাস্থ্য বিষয়ক ছোটখাট নিয়ম-কানুনগুলো শেখাব যাতে তারা ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয় এবং ইচ্ছেমত জীবন উপভোগ করতে পারে।
 
উপসংহারঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করব না। আশা করি আমি এভাবে আমার ভবিষ্যতের জন্য এবং মানুষের জন্য ভাল কিছু করতে সক্ষম হব।
আমার দৈনন্দিন জীবন
 
সূচনাঃ প্রত্যেকেরই দৈনন্দিন কাজের একটি ধারা থাকে। আমি একজন ছাত্র। তাই আমারও একটি কর্মের ধারা আছে। এ দৈনন্দিন কর্মের ধারা অনুসারে আমি আমার দৈনন্দিন কাজ করে থাকি।
 
সকালের করণীয়ঃ আমি সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠি। প্রকৃতির ডাক সম্পন্ন করার পর আমি দাঁত মাজি, হাত-মুখ-ধুই এবং ফজরের নামাজ পড়ি। তারপর আমি মুক্ত বাতাসে হাঁটতে যাই। আমি সকাল ৭:৩০ মিনিটে প্রাতঃরাশ খাই। তারপর আমি আমার পড়া র ঘরে যাই এবং সকাল ১০:০০ ঘটিকা পর্যন্ত পড়া তৈরি করি। সকাল দশটায় আমি গোসল করতে যাই। তারপর আমি খাওয়া খাই এবং সাড়ে দশটায় স্কুলে রওয়ানা হই। স্কুল শুরু হওয়ার পূর্বে আমি পৌছে যাই।
 
বিদ্যালয়ে করণীয়ঃ বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত আমি স্কুলে থাকি। আমি সব সময় দ্বিতীয় বেঞ্চে বসি এবং শিক্ষক যা বলে তা শুনি। পড়ার সময় আমি কখনও গোলমান করি না। বেলা দু'টায় আমরা বিশ্রাম নেই। বিশ্রামের সময় আমি নাস্তা খাই। তারপর মসজিদে যোহরের নামাজ পড়ি। বিকেল ৫:৩০ মিনিটে স্কুল ছুটি হয়। তখন আমি সোজা বাসায় ফিরে আসি।
 
অপরাহ্নে করণীয়ঃ বাড়ি ফেরার পর আমি নাস্তা খেয়ে খেলার মাঠে যাই। আমি ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলা করে থাকি  সূর্যাস্তের পূর্বে আমি বাড়ি ফিরে আসি।
 
সন্ধ্যায় করণীয়ঃ সন্ধ্যা বেলা আমি পড়ার ঘরে যাই।
 
রাতে করণীয়ঃ আমি রাত ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত শিখি। তারপর বাবা-মায়ের সাথে রাতের খাবার খাই। এরই মধ্যে আমি এশার নামাজ পড়ি। এরপর আমি বিছানায় গিয়ে ভালভাবে ঘুমাই।
 
উপসংহারঃ দৈনন্দিন জীবন আমাদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট জীবন। এ জীবন থেকে আমরা নিয়মানুবর্তিতা শিখি। ইহা আমাদের ভবিষ্যতের সুখ আনয়ন করে। তাই এ কর্ম ধারা আমাদের অনুসরণ করা উচিৎ।
ছাত্র জীবন
 
সূচনাঃ প্রত্যেকের জীবনে ছাত্র জীবন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমাদের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ এর উপর নির্ভর করে। ছাত্র জীবনকে জীবনের বীজ বপনের সময় বলা হয়।
 
প্রধান কাজঃ ছাত্র জীবনে আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা। এজন্য আমাদের ভাল বই পড়া উচিৎ। আমাদের খবরের কাগজ এবং সাময়িকী পড়া উচিৎ। এগুলো আমাদের মানসিকভাবে সমুদ্ধ করবে। স্কুলে বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা উচিৎ। আমাদের সাময়িকী অথবা স্কুল ম্যাগাজিন রচনা করা উচিৎ। এসব আমাদেরকে ভাল বক্তা এবং লেখক হতে সাহায্য করবে। এগুলো আমাদেরকে জীভন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করবে।
 
চরিত্র গঠনঃ চরিত্র মানুষের মুকুট স্বরূপ। ইহা সদাচারণ, সততা, সত্যবাদিতা, আত্মনির্ভরশীলতা ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে। এ ধরনের গুনাবলী অর্জনের জন্য ছাত্র জীবনই উপযুক্ত সময়।
 
সমাজ সেবাঃ দীর্ঘ ছুটির সময় আমরা সামাজিক কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারি। আমরা সেবামূলক সংগঠন গড়ে তুলতে পারি  মহামারী এবং দূর্ভিরক্ষের সময় আমরা বিভিন্নভাবে মানুষকে সাহায্য করতে পারি। জীবন যুদ্ধে ইহা আমাদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
 
একজন ছাত্রের সব সময় পড়াশোনা করা উচিৎ নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কল্যাণের জন্য তার অনেক কিছু করার আছে। স্কুল সময় পার হওয়ার পর আমাদের ব্যায়াম করা উচিৎ। আমরা বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করতে পারি। এগুলো আমাদেরকে শক্তিশালী করে থাকে। এগুলো আমাদেরকে নিয়মানুবর্তিতার মূল্য শিক্ষা দিয়া থাকে।
 
উপসংহারঃ ছাত্র জীবন আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের কাল। এ সময়ে আমরা দুশ্চিন্তামু্ক্ত থাকি। বন্ধুদের সহচর্যে আমরা আনন্দ পাই। কিন্তু আমাদের অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা উচিৎ। যারা ধুমপান করে এবং বাজে কথা বলে তাদের সাথে সঙ্গ দেয়া আমাদের উচিৎ হবে না।
শৃংখলা
 
সূচনাঃ শৃংখলা বলতে গুরুজনের নিয়ম-কানুন এবং আদেশ মেনে চলাকে বুঝায়। ইহা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শৃংখলা ব্যতিত কোন সমাজ, সংগঠন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা এমনকি একটি পরিবারের অস্তিত্বও টিকে থাকতে পারে না। শৃংখলার অভাব বিশৃংখলা, অস্থিরতা বা সন্দেহ আনয়ন করে। ইহা হল সত্য জীবনের যথাযথ ভিত্তি।
 
শৃংখলার অভাবঃ যদি আমরা কোন পরিবারের প্রতি তাকাই এবং দেখতে পাই যে, সে পারিবারের সকল সদস্য তার নিজ ইচ্ছানুযায়ী চলে তাহলে সে পরিবার অনতিবিলম্বে ধ্বংস হয়ে যাবে। আবার যদি পরিবারের প্রধানকে কেউ মান্য না করে তাহলে সে পরিবারও অচিরে খন্ড বিখন্ড হয়ে যাবে। ইহা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি শিক্ষকবৃন্দ প্রধান শিক্ষকের এবং ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষকদের আদেশ মান্য না করে তাহলে এমনকি একটি স্কুলও ঠিকমত চলতে পারেনা। যদি কোন রাষ্ট্রের নাগরিক সে দেশের আইনের প্রতি সম্মান এবং আনুগত্য প্রদর্শন না করে তাহলে সে দেশের ধ্বংশ অনিবার্য।
 
দৈনিক জীবনের নিয়মানুবর্তিতাঃ নিয়মানুবর্তিতা একজন সৈনিকের জন্য একান্ত অত্যাবশ্যকীয়। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা মানে পরাজয় এবং ধ্বংস।
 
খেলার মাঠে নিয়মানুবর্তিতাঃ খেলার মাঠে খেলোয়াড়দেরকে অবশ্যই খেলার নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় এবং একই সাথে দলপতি এবং রেফারির আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হয়। অধিকন্তু শৃংখলা ব্যতিত কোন দল এমনকি কোন  শক্তিশালী দলও খেলায় জয়লাভ করতে পারে না।
 
শৃংখলার প্রয়োজনীয়তাঃ যখন আমরা প্রাপ্ত বয়স্ক হই এবং বিভিন্ন অফিস আদালত বা ব্যবসা পতিষ্ঠানে চাকুরি নেই তখন অথবা এমনকি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সব সময়ের জন্য নিয়মানুবর্তিতা একান্ত প্রয়োজন। আমাদের অবশ্যই অফিস সংক্রান্ত নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিৎ। অফিসের কাজে আমাদের অবশ্য অধ্যবসায়ী হওয়া উচিৎ। অফিসের নিয়মনীতির প্রতি আমাদের অবশ্যই আনুগত্য প্রদর্শন করা উচিৎ এবং যথাযথ সময়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা হওয়া উচিৎ।
 
উপসংহারঃ শৃংখলাহীন জীভন হালবিহীন জাহাজের সাথে তুলনীয়। তাই আমাদের প্রত্যেকটা ধাপে অবশ্যই শৃংখলা মেনে চলা উচিৎ।
সংবাদপত্র
 
সূচনাঃ সংবাদপত্র হল জ্ঞানের ভান্ডার। ইহা আমাদের দেশ বিদেশের সংবাদ প্রেরণ করে। প্রত্যেকদিন সকালে চা পানের সময় সংবাদপত্র আমাদের কাছে এসে পৌছে। আমরা ইহাতে গভীর আগ্রহের সাথে দৃষ্টি দেই। যদি ইহা বিলম্বে পৌছে তাহলে আমরা খুব অস্বস্তি বোধ করি। একটি জাতিয় জীবনে ইহা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।
 
সংবাদপত্রের ইতিহাসঃ সর্ব প্রথমে চীন দেশে সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। রাণী এলিজাবেথের সময় ইহা ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়। বিশেষ করে উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমনের পূর্বে কোন সংবাদপত্র ছিল না। "সমাচার দর্পন" নামে প্রথম বাংলা সংবাদপত্র শ্রীরামপুরের মিশনারী কর্তৃক প্রকাশিত হয়। আমাদের দেশে এখন অনেক সংবাদপত্র আছে।
 
সংবাদপত্রের প্রকারভেদঃ সংবাদপত্র বিভিন্ন প্রকার যেমন - দৈনিক সংবাদপত্র, সাপ্তাহিক সংবাদপত্র, পাক্ষিক সংবাদপত্র এবং মাসিক সংবাদপত্র। দৈনিক সংবাদপত্র আমাদের পতিদিনের চলতি এবং তাজা সংবাদ সরবাহ করে। তাই ইহা আগ্রহের সাথে পড়ে।
 
সংবাদপত্রের গুরুত্বঃ সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সংবাদপত্র একটা গুরত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে। ইহা আমাদের বিশ্বের চলতি ঘটনাবলীর সাথে একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখে। সংবাদপত্র পাঠ করে আমরা ভাষা শিখতে পারি। ব্যবসায়ীরা তাদের জিনিসের বিশ্ববাজার দর জানতে পারে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রীয় কার্যধারা প্রচার করতে পারে। ক্রীড়াবিদরা তাদের প্রিয় খেলাধুলার সংবাদ জানতে পারে, রাজনীতিবিদরা তাদের চিন্তা চেতনা প্রকাশ করতে পারে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফল পেতে পারে।
 
আরো বিভিন্নভাবে সংবাদপত্র আমাদের জন্য খুব উপকারী। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, যখন আমাদের দেশের একটা অংশে দূর্ভিক্ষ দেখা দেয় তখন সংবাদপত্রের মাধ্যমে ইহা সমগ্র দেশবাসীর দৃষ্টি গোচর হয় এবং ত্রান পরিকল্পনার ইঙ্গিত ও ধনীদের নিকট সাহায্যের আবেদনও এই সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
 
সংবাদপত্রের অপব্যবহার/সংবাদপত্রের অপকারিতাঃ সংবাদপত্র জাতির জন্য ক্ষতিকারকও হতে পারে। মাঝে মধ্যে ইহা মিথ্যা সংবাদ সরবরাহ করে লোকজনকে ভূল পথে পরিচালিত করে। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিৎ।
 
উপসংহারঃ সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের কাছে নূণ্যতম মূল্যের একটি সংবাদপত্রের গুরুত্ব অনেক। আমাদের ইহা প্রিতিনিয়ত পাঠ করা উচিৎ। সংবাদপত্রের উন্নয়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।
শারীরিক ব্যায়াম
 
সূচনাঃ শারীরিক ব্যায়াম বলতে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের নিয়ম মাফিক নড়াচড়া করাকে বুঝায়। ইহা স্বাস্থ্যকে ভাল রাখে এবং শক্তি বাড়ায়।
 
বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামঃ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যায়াম আছে। সকল ধরনের ব্যায়াম সকলের জন্য উপযুক্ত নয়। বিভিন্ন ধরনের খেলা যেমন -ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাল ব্যায়াম। এছাড়াও হাটা, সাঁতার কাটা, নৌকা বাইচ, সাইকেল চালনা, দৌড় খেলা, ব্যায়াম করা প্রভূতি ভাল ধরনের ব্যায়াম।
 
গুরুত্ব/লাভঃ শারীরিক ব্যায়াম আমাদের স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। ইহা একজন মানুষকে কর্মঠ, শক্তিশালী এবং সকল ধরণের রোগ থেকে মুক্ত রাখে। আমাদের শরীর একটা যন্ত্রের মত। শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ইহাকে ভাল অবস্থায় রাখা যায়। ছাত্র -ছাত্রীদের জন্য শারীরিক ব্যায়াম একান্ত অপরিহার্য। তারা কঠোর মানসিক পরিশ্রম করতে পারে না। তাই তাদের দরকার সুস্থ্য দেহ এবং সুস্থ্য মন যাহা প্রতিনিয়ত শারীরিক ব্যায়ামের উপর নির্ভরশীল।
 
ব্যায়াম না করার কুফলঃ যারা প্রতিদিন ব্যায়াম না করে তাদের স্বাস্থ্য অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়। তারা জীবনে আনন্দ এবং সুখ পায় না। পরিবার এবং সমাজের জন্য সে এক বোঝা স্বরূপ।
 
উপসংহারঃ স্বাস্ব্যই সম্পদ। ইহা সকল সুখের মূল। শারীরিক ব্যায়াম আমাদের এই সম্পদ অর্জনে সক্ষম করে তোলে। ইহা দেহকে সুস্থ্য এবং স্বাস্থ্যবান রাখে। কাজেই আমাদের প্রত্যেক দিন শারীরিক ব্যায়াম করা উচিৎ। কিন্তু আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিৎ যে অতিরিক্ত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শখ
 
সূচনাঃ  শখ বলতে পৃথক সময়ে আনন্দ উপভোগের বস্তুকে বোঝায়। ইহা মানসিক শিথিলতা দেয়। ইহা জীবনকে উপভোগ্য করে তোলে। প্রত্যেকের নিজস্ব একটা শখ থাকে। তাই আমারও একটা শখ আছে।
 
আমার প্রিয় শখঃ ডাক টিকিট সংগ্রহ করা আমার প্রিয় শখ। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের ডাক টিকিট সংগ্রহ করে আমি প্রচুর আনন্দ পাই। এই ডাক টিকিটগুলো ঐ সকল দেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগ করতে আমাকে সাহায্য করে । ইহা আমাকে বিভিন্ন দেশের আচার আচরণ ও প্রথা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করে। ইহা আমাকে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা সম্পর্কেও জ্ঞানার্জনে সাহায্য করে।
 
আমার শখের কারণঃ একটি কারণে ডাক টিকেট সংগ্রহ করাকে আমি আমার শখ হিসেবে বেছে নিয়েছি। আমার পিতা একজন গরীব লোক এবং আমাকে বিদেশে পাঠানোর মতো সামর্থ্য তার নেই যাতে করে আমি বিশ্বের বিভিন্ন জাতির একান্ত সংস্পর্শে গিয়ে তাদের আচার এবং প্রচলিত রীতি সম্পর্কে জানতে পারি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডাকটিকিট সংগ্রহ করার কারণ ইহা আমাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকৃতিক সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন জাতির আচার প্রথা ও প্রচলিত রীতির সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করবে। অবশ্য ইহা আনন্দেরও একটি উৎস্য বটে।
 
উপকারিতাঃ আমার শখ নিয়মতান্ত্রিক কাজের এক ঘেয়েমি থেকে মনকে পুনরায় সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। ইহা আমাকে অবসর সময় আনন্দের সাথে কাটাতেও সাহায্য করে। আমার শখ আমাকে ভাবতে পরিচালিত করে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ এই বিশ্বকে কত বিচিত্ররূপে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলেছেন ।
 
উপসংহারঃ আমার শখ আমাকে প্রচুর আনন্দ দেয়। ইহা আমাতে দৃঢ়তা এবং সহিঞ্চুতা শিক্ষা দেয়।
নিয়মানুবর্তিতা
 
সূচনাঃ নিয়মানুবর্তিতা বলতে কোন কাজ যথাযথ সময়ে সম্পাদন করার গুনকে বুঝায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন সময়নিষ্ট বালক তার পাঠ যথা সময়ে তৈরী করে এবং কখনও সে বিলম্বে ক্লাসে আগমন করে না। স্কুলে  বা কলেজে যেতে সে কখনও বিলম্ব করে না অথবা অথাব সে মাঠে উপস্থিত হতেও বিলম্ব করে না। যদি যথাসময়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে উঠে তাহলে তার কখনও কোন কিছুতে বিলম্ব হয়  না। অপরদিকে একজন অসময়ানুবর্তী বালক তার সব কাজে বিলম্ব করে । সে তার স্কুলে বা কলেজে যেতে বিলম্ব করে। পাঠের একটা অংশ হারায় এবং ক্লাসে বাধার সৃষ্টি করে। সে পড়াশোনর ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতি করতে পারে এবং পরিনামে তার খারাপ অভ্যাসের জন্য তাকে অনুশোচনা করতে হয়।
 
নিয়মানুবর্তিতার সুফলঃ নিয়মানুবর্তিতা সময়কে রক্ষা করে। একটি ট্রেন যা নির্ধারিত সময় ছেড়ে যায় বা পৌছে অথবা কোন যানবাহন যা নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলে প্রচুর সময় বাচাঁতে এবং কোন ব্যক্তিকে অনেক অসুবিধার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এটা সবারই জানা যখন জাহাজ ঠিক সময়ে ষ্টেশনে পৌছে তখন ইহার যাত্রী সেখানে যথা সময়ে উপস্থিত হতে পারে আর তাকে জাহাজ ধরতে ব্যর্থ হতে হয় না বা অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয় না।
 
নিয়মানুবর্তিতার কুফলঃ একজন অসময়ানুবর্তী লোক তার নিজের উপকার করতে পারে না এবং অন্যের প্রতিও তার কোন শ্রদ্ধা থাকে না। পূর্ব র্নিধারিত সময় অনুযায়ী বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ না করা সত্যিকারেই নিন্দনীয় আচরণ। এটা খুবই খারাপ যদি কোন লোক সভার আহবান করে নিজে বিলম্বে আসে, অনেক লোককে অপেক্ষমান রাখে এবং তাদের সময় অপচয় করে। এ ধরনের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমাই যথেষ্ঠ নয়। কোন অফিস অথবা কারখানায় কর্মচারীদের বিলম্বে যোগদান বিশৃংখলার সৃষ্টি করে এবং মাঝে মধ্যে ইহা কাজের মারাত্মক সন্দিচ্যুতি ঘটায়। ইহা নিয়মিত উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটায়। এখানে অবাক হওয়ার কিছু্ই থাকবে না যদি ইহা কোন দুর্ঘটনার মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হয়।
 
নেপোলিয়ান বেনাপোর্ট ওয়াটারলগড যুদ্ধে পরিজিত হয়েছিল কারণ তার এক জেনারেল তাকে যথা সময়ে সাহায্য করেতে ব্যর্থ হয়েছিল।
 
উপসংহারঃ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা একান্ত অপরিহার্য। অতএব বাল্যকাল থেকেই নিয়মানুবর্তিতার বীজ বপন করতে হবে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সকল ক্ষেত্রে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সময়ের মূল্য
 
সূচনাঃ আমাদের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। ইহা ধন সম্পদের চেয়ে অধিক মূল্যবান। আমাদের জীবন হল কতকগুলো মূহুর্ত এবং ঘন্টার সমষ্টি। কাজেই সময়ের অপচয় মানে জীবনকে খাট করা।
 
সময় ও স্রোতঃ সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময় একবার চলে গেলে আর কখনও ফিরে আসে না। কিন্তু তারা একে অপরের থেকে ভিন্নও বটে। স্রোত কখনও বৃথা প্রবাহিত হয় না। ইহা চলার পথে ভূমিকে উর্বর করে। সময়ের অপব্যবহার জীবনকে নীরস করে। আবার সময়ের সদ্ব্যবহার আমাদেরকে সূখী করে।
 
সময়ের সদ্ব্যবহারঃ জীবনের সফলতা সময়ের সদ্ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। আমাদের জীবন ক্ষনাস্থায়ী। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই আমাদের অবশ্যই নিয়মানুবর্তী হতে হয়। পড়ার জন্য, খেলার জন্য, অন্যান্য কাজ করার জন্য, বিশ্রামের জন্য এবং প্রার্থনার জন্য নির্ধারিত সময় থাকতে হবে। সকল মহৎ লোক সময়ের সদ্ব্যবহার করে গেছেন। এমনকি ক্ষুদ্র প্রাণী মৌমাছি এবং পিপড়াঁও সময়ের সদ্ব্যবহার করে।
 
সময়ের অপচয়ঃ যারা সময়ের অপচয় করে তারা জীবনে কখনও উন্নতি করতে পারে না। অলসতা সকল অনিষ্টের মূল। একজন অলস লোক তার নিজের জীবিকা অর্জন করতে পারে না। অধিকন্তু অলস মস্তিস্ক হল শয়তানের কারখানা।
 
উপসংহারঃ সময় অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আমাদের সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিৎ।  কোন কিছুই ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখা আমাদের অবশ্যই উচিৎ নয়।
শ্রমের মর্যাদা
 
সূচনাঃ শ্রম সম্পূর্ণরুপে মর্যাদাপূর্ণ। আমাদের জন্য শ্রম পূর্ব হতে নির্ধারিত করা। কাজ করার জন্য আল্লাহ আমাদের হাত দিয়াছেন। আমাদের উচিৎ এ হাত দিয়ে কাজ করা যতদিন আমাদের শক্তি  এবং সামর্থ্য থাকে। তাই নিজের কাজ নিজ হাতে করাই হল মহত্ব। আমাদের অলস বসে থাকা উচিৎ নয় এবং অন্যের কৃত কর্মের চেয়ে অধিক করার চেষ্টা করা উচিৎ।
 
আশীর্বাদ স্বরুপ শ্রমঃ অন্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া অমর্যদাকর। কাজেই মানুষকে মাথার ঘাম পয়ে ফেলে নিজের আহার নিজে উপার্জন করা উচিৎ। ব্যাপক উন্নয়ন এবং অধিক আরাম আয়েশের জন্য মানুষকে কঠিন থেকে কঠিনতর পরশ্রিম করতে হয়। ইহা মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ফল যে এমনকি সুন্দর নগরী অরণ্যের ন্যায় গড়ে উঠেছে। মানুষ নদীকে জয় করেছে এং পরিশ্রমের দ্বারা ইহার পানি প্রবাহকে কাজে লাগিয়েছে। তারা অনুর্বর মরুভূমিকে উর্বর শস্য ক্ষেত্রে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই মানুষের সকল উন্নয়নের মূলে রয়েছে পরিশ্রম।
 
পরিশ্রমঃ পরিশ্রম ব্যতিত কোন কিছুই করা বা লাভ করা যায় না। যদি আমরা কঠোর পরিশ্রম না করি তাহলে আমরা আমাদের আশা আকঙ্খা পূরণ করতে পারব না। আমরা যদি শ্রম বিমুখ হই তাহলে আমরা জীবনের নূণ্যতম প্রয়োজনীয় জিনিষও লাভ করতে পারব না। সকল দেশে সব সময় শ্রমের মর্যাদা সর্বজন স্বীকৃত।  শ্রম সর্বদা পূজনীয়। ইহা পবিত্র এবং মর্যাদাপূর্ণ। নিজের কাজ নিজ হাতে করার কোন অমর্যাদা নেই।
 
শ্রম জীবনঃ শ্রম পবিত্র কারণ ইহা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। যদি কোন ব্যক্তি পরিশ্রম না করে পরিনামে তাকে অব্যশই কষ্ট ভোগ করতে হবে। কৃষকেরা যদি জমি চাষাবাদে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তারাই শুধু অনাহারে থাকে না বরং সারা জাতিকে অনাহারে থাকতে হয়। মিল-কলকারখানার শ্রমকিরা যদি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে সমগ্র জাতিকে উৎপন্নজাত দ্রব্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই বলা যায়, শ্রম মানব জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
 
উপসংহারঃ শ্রম কোন ব্যক্তিকে আত্নমর্যাদাপূর্ণ এবঙ স্বাধীন এই অনুভবে পরিতৃপ্ত করে তুলে। ইহা তাকে সত্যিকারার্থে সাহস এবং আত্নসচেতনতা  দিয়ে থাকে। সে কখনও ভিক্ষা গ্রহণ করে না বরং শ্রমের দ্বারা সে তার নিজের জীবিকা নিজেই উপার্জন করে। মুচি হওয়া অসম্মানজনক নয়। কিন্তু ভিক্ষুক হওয়া নিশ্চিতরুপে খূবই অসম্মানজনক।
স্বদেশ প্রেম
 
সূচনাঃ স্বদেশ প্রেম বলতে নিজ দেশের প্রতি ভালবাসাকে বোঝায়। ইহা সকল প্রাণচঞ্চল জীব বা বস্তুর একটি সহজাত ধর্ম। এমনকি একেবারে ক্ষুদ্র প্রাণীদেরও তাদের নিজ বাসস্থানের প্রতি একটা ভালবাসা থাকে। এ ধরনের মন মানসিকতা মানুষের আচরণে খুবই প্রবল।
 
কিছু দৃষ্টান্তঃ আমরা যদি ইতিহাস পাঠ করি তাহলে অনেক দেশ প্রেমিককে দেখতে পাব যারা অনেক কষ্ট ভোগ করেছেন এমনকি মাতৃভূমির জন্য তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। আহমদ নগরের চাদ সুলতানা মোঘল সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি তার শাসিত এলাকার স্বাধীনতার জন্য নিজ বীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফ্রান্সের জেয়ান আর্ক তার মাতৃভূমি রক্ষার জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন। নওয়াব সলিমুল্লাহ,মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, শহীদ তিতুমীর, এ, কে, ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আরো অনেকে দেশের জন্য আত্মত্যাগ স্বীকার করে নিজের নামকে অমর করে রেখেছেন। তাদের নাম ইতিহাসে সত্যিকার দেশ প্রেমিক হিসেবে লেখা রয়েছে।
 
প্রকৃত দেশ প্রেমঃ সত্যিকার দেশপ্রেম বিরল। দেশের প্রতি ভালবাসা দাম্ভিক মন মানসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। ইহাকে অঙ্গাভঙ্গীর মাধ্যমে ব্যাখা করা যায় না। আমাদের দায়িত্ব শুধু দেশকে ভালবাসা নয় বরং দেশের মঙ্গলের জন্য আমরা কিছু পেরেছি কিনা তা দেখা। আমরা বলে থাকি যে দেশের  দূর্দশা এবং দূর্বিপাকের দৃশ্য দেখে আমাদের মন কাঁদে। আমরা যখন মহৎ আদর্শ থেকে পতিত হওয়ার কথা চিন্তা করি তখন বস্তুতঃ নিঃশ্ব অনুভব করি। কিন্তু আমাদের অনেকেই সামাজিক বিশৃংখলা দুর করার ব্যাপারে যত্নবান নয়। কাজেই আন্তরিক কর্মীর একান্ত প্রয়োজন যারা দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের আরাম, সুখ এমনকি জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
 
এর গুরুত্বঃ একজন দেশ প্রেমিকের মন সর্বদা তাঁর জন্মভূমির জন্য উৎসুক থাকে এমনকি যখন সে উন্নত বিদেশের মাটিতে বসবাস করে। একজন দেশপ্রেমিক তার দেশের জন্য বেঁচে থাকে এবং দেশের জন্যই মৃত্যুবরণ করে। সর্বোপরি তার দেশের স্বার্থ মানেই তার নিজের স্বার্থ। সে তার নিঃস্বার্থ তৎপরতা এবং উদার মনের জন্য উচ্চ সম্মান লাভ করে থাকে। দেশের সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে সে তার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। একজন সিত্যকার দেশ প্রেমিক দিবারাত্র তার দেশের এবং দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে। দেশে এবং বিদেশে সবাই তাকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করে। তার তৎপরতা আরো অনেকক স্বদেশ প্রেমের ব্যাপারে সম অনুপ্রানিত করে। তার স্বদে প্রেমের প্রশংসা করে কবিতা ও গান রচনা করা হয়। ধর্মীয় মতে, স্বদেশ প্রেম ইসলামের একটি অংশ।
 
উপসংহারঃ সবাই সক্রিয় দেশ প্রেমিক হতে পারে না। কিন্তু সকলেরই অবশ্য দেশের জন্য ভালবাসা থাকা উচিৎ। এর অর্থ এই নয় যে অন্য দেশসমূহকে তার ঘুনা করা উচিৎ। একজন দেশপ্রেমিক ধর্মোন্মত্ত হতে পারে না।
আমার বাল্যকাল
 
সূচনাঃ আমার বাল্যকাল সূখী ছিল। বর্তমানকালে আমি অসুস্থ অবস্থায় যখন আমার বাল্যকালের কথা চিন্তা করি তখন আমার মন আনন্দে ভরে যায়। আমি অতীতের মাঝে শান্তি খুজে পাই। আমি আমার বাল্যকালের স্মৃতিগুলো একান্ত আগ্রহের সাথে স্বরণ করি। আমি আশা করি, আমার সকল দিনগুলো বাল্যকালের ন্যায় সুখি হোক।
 
শৈশবের খেলাধূলাঃ বর্ষা এবং ঝড়ের দিনে আমি বাহিরে যেতে পারতাম না। আমার দাদী আমাকে বাহিরে যেতে দিত না। আমাকে অধিকারে রাখার জন্য তিনি পন্থা অবলম্বন করতেন। মাঝে মধ্যে তিনি একটি কাঠিতে এক টুকরা সূতা বেঁধে আমকে দিতেন এবং বলতেন ইহা হল মাছ ধরার ছিপ। আমার কল্পনাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ইহা ব্যবহৃত হত। হঠাৎ আমি কাঠিটির দিকে তাকাই এবং ক্ষুদ্র কিছু একটা জিনিস সরু ও শক্ত সূতার অপর প্রান্তে শক্ত করে বেঁধে দেই। অতঃপর আমি ব্যাটটি সজোরে উঠানে নিক্ষেপ করতার। আমাদের পুকুর বা নদীগুলো ছিল বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলাশয়। তারপর আমি ঘন্টার পর ঘন্টা কিছু একটা খেলতাম। মাঝে মাঝে আমি অপর ছেলেমেয়েদের সাথে হাট বাজার করা খেলতাম। আমরা উভয়ই দোকান স্থাপন করতাম। সেখানে আমরা পাতা এবং এ ধরনের আরো অনেক জিনিস মজুদ রাখতাম। ভাঙ্গা গাড়ীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলোকে  পণ্যদ্রব্যের মূদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হত। আমরা অনেক ঘন্টা ধরে খেলা করতাম এবং মনে হত আমরা স্বপ্নের জগতে অবস্থান করছি।
 
বাড়ীতে শিক্ষনীয়ঃ বাল্যকালে আমি খুব আনন্দের সাথে আরবী বর্ণ শিখতাম কিন্তু বাংলা বর্ণ শেখা আমাকে কিছুটা কষ্ট দিত। কিন্তু ইহা আমার শিক্ষার সময় নির্বুদ্ধিতার জন্য নয়। আমাদের পরিবারের সকল ছোট ছেলে মেয়েকে আমার বড় বোন সকালে শিক্ষা দিতেন। আর তত্ত্ববধানে এবং নির্দেশনায় আমরা অধিক আগ্রহের সাথে আমাদের পড়া তৈরী করতাম। ইহা উত্তেজনাকর ছিল বটে। আমাদের পাঠগুলো আমরা গানের সুরে বার বার পড়তাম  এবং সব সময় আমরা আমাদের দেহ সামনে পিছনে নাড়াতাম। তাই বিদ্যা শিক্ষা আমাদের কাছে খুবই কৌতুহলময় ছিল।
 
বিদ্যালয়ে শিক্ষনীয়ঃ আমার বড় বোনের বিয়ের পরে আমি অন্য ছেলে মেয়েদের সাথে স্কুলে যেতে আরম্ভ করি। স্কুলের সময় ছিল সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। এ সময়ে আমরা আমাদের পড়া শিখতাম এবং নুতন পড়া নিতাম। অবশ্য স্কুলটির পরিবেশ ছিল মনোমুগ্ধকর। সেখানে আমোদ প্রমোদের অনেক ব্যবস্থা ছিল। আমরা সেখানে প্রফুল্ল চিত্তে লেখাপড়া শিখতাম। স্কুল ছূটির পরে আমি বাড়ীতে চলে আসাতাম। দিনের বাকী সময়টা আমি আমার ইচ্ছামত কাটাতাম। আমার সমবয়সী আমার তিনটি চাচাত ভাই ছিল। আমি তাদের সাথে খেলতাম। সে দিনগুলো যদি না চিরদিন অবিচ্ছিন্ন থাকত। আমি কখনও আমার সেই সূখী বাল্যকালের আশ পোষন করি।
 
উপসংহারঃ সর্বোপরি, আমার বাল্যকাল ছিল খুবই কর্মমুখর কিন্তু মনোমুগ্ধকর।
মাতা পিতার প্রতি আনুগত্য
 
সূচনাঃ মাতা-পিতার পতি আনুগত্য বলতে তাদের আদেশ মেনে চলাকে বোঝায়।
 
পিতা-মাতার করণীয়ঃ আমাদের পিতা-মাতা বাল্যকালে আমাদের খুব ভালবাসেন। আমাদের খাদ্য ও শিক্ষা দেয়ার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তারা আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। আমাদের সফলতায় তারা আনন্দ অনুভব করেন এবং দুর্দশায় দুঃখ অনুভব করেন।
 
আমাদের দায়িত্বঃ আমাদের পিতা-মাতাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসা উচিৎ। কারণ শৈশবকালে তারা আমাদের স্নেহ ভালবাসা দিয়ে লালন-পালন করেছেন। আমাদের অসুখের সময় তারা সেবা করেছেন এবং বাল্যকালে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
 
দুষ্ট ছেলেরা কি করেঃ কিছু কিছু দুষ্ট ছেলে আছে যারা তাদের পিতা-মাতার প্রতি তেমন যত্ন নেয় না। তারা সর্বদা তাদের অবজ্ঞা করে। এমনকি বৃন্ধ বয়সে তারা তাদেরকে ভিক্ষা করার জন্য ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের অবাধ্য ছেলেরা জীবনে কখনও উন্নতি লাভ করতে পারে না।
 
উপকারিতাঃ যে সকল ছেলেরা তার পিতামাতাকে ভালবাসে তারা তাদের নিজ দেশের লোককে ভালবাসতে পারে। একজ অবাধ্য ছেলে কখনও তার দেশকে ভালবাসতে পারে না। কারণ সে জানে না কিভাবে অপরকে ভালবাসতে হয়। একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে, "মাতা এবং মাতৃভূমি এমনকি স্বর্গ হতেও শ্রেষ্ঠ"। কাজেই আমাদের এ শিক্ষা নেয়া উচিৎ কিভাবে দেশেকে এবং নিজ দেশের মানুষকে ভালবাসা যায়।
 
উপসংহারঃ জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য আমাদের উচিৎ মাতা পিতাকে প্রতিনিয়ত মান্য ও শ্রদ্ধা করা।
বিজ্ঞানের মূল্য
 
সূচনাঃ প্রকৃতির নিয়ম কানুন চর্চাই হল বিজ্ঞান। আমাদের যুগ বিজ্ঞানের যুগ। আমরা সর্বদা বিজ্ঞানের প্রভাব অনুভব করি।
 
বিজ্ঞানের প্রকারভেদঃ বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান আছে। ইহা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। বিজ্ঞানের সুফল শহরাঞ্চলে অধিক উপভোগ্য। এখানে রাস্তাঘাট এবং ঘরবাড়ী বিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত করা হয়। অফিস আদালতগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয় এবং বৈদ্যুতিক বাতিগুলো অফিসের একেবারে উপরের তলায় অবস্থিত কর্মচারীদের নিকট পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়। বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সাহায্যে পরিশ্রাবন করা পানি সরবরাহ করা হয়। টেলিফোনের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সংবাদ নিয়ে থাকে। সংবাদ, গান এবং বক্তৃতা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়। প্রচুর সংখ্যক সংবাদপত্র, বই এবং সাময়িকী ঘূর্নায়মান মুদ্রন যন্ত্রের মাধ্যমে ছাপা হয়। চলচ্চিত্র পর্দায় প্রানবন্ত হয়ে উঠে। মিল এবং শিল্প কারখানা বিজ্ঞাপনের সাহায্যে পরিচালিত হয়। বিভিন্ন দেশের মানুষ তার যন্ত্রের মাধ্যমে ভাবের আদান প্রদান করে  এবং বিমানের সাহায্যে ঘুরে বেড়ায়। রান্না এবং উত্তপ্ত করার কাজে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
 
চিকিৎসা বিজ্ঞান রঞ্জনরশ্মি দ্বারা আলোকচিত্র গ্রহণ নিশ্চিত করে এবং ঘাতকব্যাধির সাথে লড়াই করার জন্য বিস্ময়কর ঔষধ আবিস্কার করে। বিজ্ঞানের আর্শীবাদের জন্য গরীব মূর্খ লোকের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার লাভ করে। সর্বোপরি আধুনিক সভ্যতা সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বিস্ময়কার আবিস্কার হল রকেট।
 
বিজ্ঞানের অভিশাপঃ বিজ্ঞান অমিশ্রিত আর্শীবাদ নয়। ইহা আমাদের জীবনকে জটিল করেছে এবং হস্ত শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিজ্ঞান এখন মারনাস্ত্র তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। অধিক সমৃদ্ধশালী একটি শহর ধ্বংস করতে একটি আণবিক বোমাই যথেষ্ট। দূর্ভাগ্যক্রমে যদি তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আবির্ভাব ঘটে তাহলে রাশিয়া কর্তৃক আনবিক বোমা এবং হাইড্রোজেন বোমা ব্যবহৃত হতে পারে। আমেরিকা এবং চীন এ বিশ্ব থেকে মানুষের বাসস্থান হয়তবা ধ্বংস করে দিতে পারে।
 
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এ কথা স্বরণ রাখা উচিৎ যে বিজ্ঞান স্বয়ং খারাপ নয় বরং মানুষ ইহাকে ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করে।
 
উপসংহারঃ বিজ্ঞান মহান আশীর্বাদ স্বরুপ যদি না ইহাকে ধ্বংসাত্মক কাজে প্রয়োগ করা না হয়। ইহা একটি নতুন অঞ্চলকে সুখ ও সমৃদ্ধির অধীনে নিয়ে আসবে।
সিনেমা
 
সূচনাঃ সিনেমা বলতে আলোক রশ্মি প্রক্ষেপক যন্ত্রের সাহায্যে  পর্দার উপর চলমান ছবিকে বোঝায়। এর প্রথম দিকে শুধু ছবি নড়াচড়া করতে পারত কিন্তু কথা বলতে পারত না। কিন্তু এখন ইহা নড়াচড়া করতে পারে এবং কথা বলতে পারে। তাই একে সবাক চলচ্চিত্র বলে। টমাস আলভা এডিসন ১৯৮০ সালে আলোক রশ্মি প্রক্ষেপক যন্ত্রটি আবিস্কার করেন। ঐটি ছিল একটি ক্যামেরার মত।
 
এর কাজঃ শক্তিশালী ক্যামেরার সাহায্যে চলমান এবং সবাক মানুষের ছবি ফিল্মে ধারণ করা হয়। এ ছবিগুলোকে উন্নতি সাধন করা হয়। যখন এই ছবিগুলোকে আলোক যন্ত্রের সাহায্যে  পর্দার প্রক্ষেপণ করা হয় তখন মানুষগুলোকে পূর্বের মত নড়চড়া করতে এবং কথা বলতে দেখা যায়।
 
এর উপকারিতাঃ সিনেমা বিনোদনের এক প্রকার উৎস। দিনের কঠোর কাজের পর শহরের লোকজন সিনেমা দেখে নিজেদেরকে সতেজ করে। এর একটি শিক্ষা বিষয়ক মূল্যও রয়েছে। সিনেমা আমাদেরকে ইতিহাস, ভূগোল, সমাজিকতা, সাহিত্য এবং চিকিৎসা বিদ্যাও শিক্ষা দিতে পারে। ভাল লেখকের ভাল বই ছবি তৈরির মাধ্যমে মানুষকে দেখানো হয় এবং তারা এগুলো থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। ছবি শিল্পের মাধ্যমে কিছু কিছু লোক অনেক অর্থ আয় করে থাকে। একটি ভাল ছবি দেশের জন্য সুনাম এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। একটি ভাল সিনেমা সমাজকেও পূণর্গঠন করে।
 
এর অপকারিতাঃ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে খারাপ ছবি তৈরী করা হয়। এগুলো কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর এবং সমাজের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। আসলে, যারা মানসিকভাবে পরিপক্ষ নয় তাদের সিনেমা দেখা উটিৎ নয়।
 
উপসংহারঃ ছবি তৈরীর সময় প্রযোজকদেরকে দেশের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তাকে অবশ্যই এমন ছবি নির্মাণ করতে হবে যা প্রাথমিকভাবে দর্শকদেরকে শিক্ষা ও আনন্দ দিতে পারে এবং অর্থ উপার্জন করতে পারে। অন্যথায়, সিনেমা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।
ডিশ এন্টেনা
 
সূচনাঃ এটি নিশ্চিত যে টেলিভিশন বিনোদনের একটি উত্তম মাধ্যম। ডিশ এন্টেনার সাহায্যে আমরা সমগ্র বিশ্বের অনুষ্ঠান সমূহ দেখতে পাই।
 
বিজ্ঞানের এক চমৎকার অবদানঃ এটি বিজ্ঞানের এক চমৎকার অবদান। ডিশ এন্টেনার সাহায্যে আমরা সমগ্র বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি। ডিশ এন্টেনা আধুনিক সভ্যতার এক বড় গৌরবের বিষয়।
ডিশ এন্টেনা এবং সমগ্র পৃথিবীঃ ডিশ এন্টেনা বিশ্বের বিচ্ছিন্ন দেশ সমূহকে একত্রে করেছে। ডিশ এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা দেশে বসে পৃথিবীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখেতে পাই এবং শুনতে পাই। এভাবে এটি সমগ্র বিশ্বকে একত্র করেছে।
 
ডিশ এন্টেনার গুরুত্বঃ নিম্নে গুরুত্বসমূহ উল্লেখ করা হলোঃ
ক) ডিশ এন্টেনা পৃথিবীকে ছোট করে নিয়ে আসে।
খ) ডিশ এন্টেনা পৃথিবীর পারস্পরিক সহযোগীতা এবং যোগাযোগ বৃদ্ধি করে।
গ) বাণিজ্যিক পণ্য পাওয়ার জন্য এটি একটি বিরাট মাধ্যম।
ঘ) বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ভূমিকা রয়েছে।
ঙ) এটি আমাদের সংস্কৃতি এবং শিক্ষাকে বিশুদ্ধ করে ইত্যাদি।
 
ডিশ এন্টেনার খারাপ দিক সমূহঃ
ক) ডিশ এন্টেনা পৃথিবীর মানুষকে অতি আধুনিকতা এবং উচ্ছৃংখল জীবনে পরিচালিত করে।
খ) এটি আমাদের সংস্কৃতি এবং ধর্মকে বিনষ্ট করে।
গ) টেলিভিশনের মাধ্যমে ডিশ এন্টেনা অশালীন দৃশ্য এবং শব্দ প্রদর্শন করে।
ঘ) ডিশ এন্টেনা আমাদের যুব সমাজকে নৈতিক অধঃপতনে প্রভাবিত করে।
ঙ) ইহা বাণিজ্যিক পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে অত্যুক্তি করে।
 
ডিশ এন্টেনা এবং বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ বিদেশী অশ্লীলতার স্বীকার হয়েছে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। কিন্তু সম্প্রতি ইহা অনেক ডিশ এন্টেনা আবদানী করেছে। ইহা বাংলাদেশের সার্বিক শান্তি ও ঐক্যের প্রতি ভীতিকর। আমাদের লোকজন শিক্ষামূলক ভিত্তি হিসেবে ডিশ এন্টেনাকে গ্রহণ করিনি। ইহা আমাদের দেশের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।
 
ডিশ এন্টেনার শিক্ষা বিষয়ক মূল্যঃ টেলিভিশনের সাহায্যে আকাশ -তার টেলিভিশনকে সারা  বিশ্বের অনুষ্ঠান চালু করতে সাহায্য করে। এটি উম্মুক্ত শিক্ষার জন্য উপযোগী। এটি জাতীয় অনুষ্ঠান প্রচারেরও একটি যন্ত্র বিশেষ।
 
এর বাণিজ্যিক মূল্যঃ ডিশ এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশন পর্দায় খারাপ পণ্যকে ভাল পণ্য ভাল পণ্য হিসেবে দেখানো হয়। ফলে, ক্রেতাগণ প্রতারিত হয়। তাই খারাপ পণ্যসমূহ অগ্রগণ্যতা পায়। কিন্তু, আমরা টেলিভিশনের সাহায্যে নুতন পণ্য তৈরীর খবর পাই।
 
উপসংহারঃ টেলিভিশন একটি মাত্র দেশের অনুষ্ঠান প্রদর্শন করতে পারে। কিন্তু ডিশ এন্টেনার সাহায্যে আমরা সমগ্র অনুষ্ঠানাদি  দেখতে ও শুনতে পাই। একজন মহান ইসলামিক চিন্তাবিদ ড. শমসের আলী বলেন, “ডিশ এন্টেনারর অনেক ভাল দিক রয়েছে কিন্তু এর অনেক খরাপ দিকও রয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে আমদের গ্রহণ এবং সমন্বয় সাধনকে বোঝায়”।
নারী শিক্ষা
 
সূচনাঃ শিক্ষা সকলের কাছে খুবই দরকারী। আমাদের সার্বিক জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। নারী সম্প্রদায় যদি নিরক্ষর থাকে তবে কোন জাতীয় উন্নয়ন করা যাবে না। তাই শিক্ষা আমাদের দেশে অবশ্যই প্রয়োজন।
 
প্রয়োজনীয়তাঃ মহিলাদের সাহায্য এবং সার্বিক আন্তরিক সহযোগীতা ছাড়া জাতি উন্নতি করতে পারে না। বাস্তব জীবনে পুরুষের চেয়ে নারীর ভূমিকা কম গুরুত্বের নয়। একজন নারী একজন বোন, একজন মা এবং পরিবারের অভিভাবিকা। একজন নারী শিশুদের লালল-পালন করে, তাহাদের উপযুক্ত নাগরিক এবং নেতা হিসেবে গড়ে তোলে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মহিলারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, পরিবারকে উপযুক্তভাবে চালানোর জন্য একজন পুরুষ তার স্ত্রীর উপর নির্ভর করে। একজন গৃহিনী তার গৃহস্থালীর কাজকর্ম করে, মুরগী পালন করে এবং  এভাবে পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করে।
 
গুরুত্বঃ আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নর এবং নারী উভয়ের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা ব্যতিত একজন মহিলা তার ছেলেমেয়েদের জন্য সঠিকভাবে কোন কিছু করতে পারে না এবং তাদেরকে সঠিক জীবনে পরিচালিত করতে সাহায্যও করতে পারে না।
 
প্রতিবন্ধক সমূহঃ কিছু কিছু গোঁড়া লোক নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলে এবং এর প্রতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বস্তুতঃ এটি একটি বাঁধা। আমরা মহিলাদেরকে অবশ্যই সেবাকর্মে এবং গৃহস্থালী ব্যবস্থাপনায়, শিশু যত্নে, সেলাই কাজে এবং এ ধরনের আরো অনেক বিষয়ে শিক্ষিত করে তুলব। এভাবে, তারা স্বাধীনভাবে তাদের জীবিকা অর্জন করতে পারবে।
 
নারী শিক্ষার বর্তমান অবস্থাঃ আমাদের দেশে সরকার নারী শিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের  জন্য বতেন অবৈতনিক করা হয়েছে। ফলে নারী শিক্ষার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারা দেশের উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিচ্ছে।
 
উপসংহারঃ আমাদের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নারী  শিক্ষা খুবই প্রয়োজন। তাই আমাদের নারী শিক্ষা প্রসারে অগ্রসর হতে হবে।
বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা
 
সূচনাঃ শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। ইহা হল দেহ, আত্মা এবং মনের পূর্নাঙ্গ উন্নয়ন। প্রাথমিক শিক্ষা হল সকল শিক্ষার ভিত্তি। তই ইহা অবশ্যই প্রথমে অর্জন করতে হয়। আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা বলতে যা বোঝায়ঃ বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা বলতে একটি নির্দিষ্ট বয়সের প্রতিটি বালক এবং বলিকাকে সরাসরি সরকারী সাহায্যে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে বোঝায়। সরকার ইহাকে একটি অবশ্যকরণীয় দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। সরকারে এই মহৎ ভূমিকার প্রতি প্রত্যেক বালক এবং বালিকার সাড়া দেয়া উচিৎ। প্রাথমিক শিক্ষার সকল দায়িত্ব সরকার নিয়েছেন। যে কারণে বলা যায় প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে।
 
প্রাথমিক শিক্ষা  অবৈতনিক করার কারণ সমূহঃ
    ১) গরীব পিতা - মাতা দারিদ্রের কারণে তাদের ছেলে-মেয়ে স্কুলে পাঠাতে পারে  না।
    ২) যে প্রকারেই হোক দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীভূত করা একান্ত অপরিহার্য।
    ৩) দেশের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের মতো দারিদ্র দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছে।
    ৪) একটি ভাল জাতি উপহার দেয়ার জন্য সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
 
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে সমূহঃ অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য সমূহ এখানে উল্লেখ করা হলঃ
    ১) নিরক্ষরতা দূর করা।
    ২) শিশুদের দেহ, নৈতিকতা, মনমানসিকতা, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্বের উন্নতি সাধন করা।
    ৩) শিশুদের নাগরিক অধিকার, স্বদেশ প্রেম,কর্তব্য পরায়ণতা এবং কৌতুহল সৃষ্টি করা।
    ৪) অধ্যবসায়ী এবং পরিশ্রমী হওয়া।
    ৫) ভাল আচার আচরণ এবং অন্যান্য মানবীয় গুনাবলী সমূহ শিক্ষা।
    ৬) ইহা শিশুদের পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে প্রস্তুত করে।
 
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাঃ নিরক্ষরতা দুর না করে বাংলাদেশের মতো একটি স্বল্পোন্নত দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। এর কারণ আমাদের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্পূর্ণরুপে শিক্ষার সাথে সম্পর্কযুক্ত। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয় এবং আমরা যদি সামনের দিকে পরিকল্পিত এবং নিয়মানুবর্তী উপায়ে অগ্রসর হতে সক্ষম হই তাহলে আমরা সফল হব।
 
প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পন্থা এবং উপায় সমূহঃ প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশিত পদক্ষেপ সমূহ অবশ্যই  নিতে হবে।
    ১) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শূন্যপদ সমূহ অবশ্যই যোগ্য শিক্ষকদের দ্বারা পূরণ করতে হবে।
    ২) প্রাথমিক শিক্ষাকে অবশ্যই অবৈতনিক করতে হবে এবং অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
    ৩) অবশ্যই বিনা মূল্যে বই এবং পোষাক সরবরাহ করতে হবে।
    ৪) অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।
    ৫) জনসাধারনের মনে শিক্ষা সম্পর্কে আগ্রহ জন্মাতে হবে।
    ৬) সর্বোপরি, শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে শিক্ষা দিতে হবে।
 
উপসংহারঃ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা সফলতার প্রধান ভিত্তি। এ ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ  সত্যিকার অর্থে  প্রশংসার যোগ্য। আমরা আশা করি যে আমাদের জাতি এবং দেশের উন্নয়নের জন্য এ কর্মসূচী বাস্তব রুপ পাবে।
সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা / সততা
 
সততা মানব জীবনে সফলতা এবং সূখ আনয়ন করে। ইহা নামব জীবনের একটি সর্বোৎকৃষ্ট গুন। একজন সৎ লোককে সবাই ভালবাসে, শ্রদ্ধা  করে এবং বিশ্বাস করে।
 
একজন অসৎ লোকের অবস্থানঃ একজন অসৎ লোকের সামাজিক অবস্থান খুবই নিন্দনীয়। সে অসুখী এবং দুঃখজনক জীবন যাপন করে। কারণ যখন তার অসাধুতা প্রকাশ পায় বা  প্রমাণিত হয় তখন কেউ তাকে আর বিশ্বাস করে না। আর তখন তার অতীত ও যশ নষ্ট হয়ে যায়।
 
সততার কিছু উদাহরণঃ বিশ্বের সকল মহৎ লোক সৎ ছিলেন। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ছিলেন সততার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। সক্রেটিস, অ্যারিস্টেটল, হযরত ওমর (রাঃ) হযরত আবু বকর (রাঃ) এবং আরো অনেক লোক তাদের কথা বার্তায় এবং কাজকর্মে সৎ ছিলেন। ইতিহাসে তাদের সততা অমর হয়ে আছে।
 
কিভাবে সৎ হওয়া যায়ঃ গরীব কিংবা ধনী, উচু কিংবা নীচু সকলেই সৎ হতে পারে। সৎ হওয়ার উত্তম পন্থা হল সর্বদা সত্য কথা বলা। যে লোক সর্বদা সত্য কথা বলেন স্বয়ং আল্লাহ তাকে ভালবাসেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানির কাহিনী সত্যবাদী হওয়ার পন্থা এবং মায়ের আদেশের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে। পক্ষান্তরে, মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের অসত্য কাহিনী তার পরিণামের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়।
 
উপসংহারঃ জীবনের প্রকৃত সফলতা সততার উপর নির্ভরশীল। সততা মানুষের আস্থা স্থাপন করে এবং অসাধুতা মানুষকে ধ্বংশ করে। হাদীসে বর্ণিত আছে, “একজন অসৎ লোক কখনও জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাবে না”। কাজেই আমরা যদি জীবনে সফল হওয়ার আশা করি তাহলে আমাদের সৎ হওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিৎ যে সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।
স্বাস্থ্যই সম্পদ /স্বাস্থ্য
 
সূচনাঃ স্বাস্থ্য বলতে নীরোগ এবং দেহের সুস্থ্য অবস্থাকে বোঝায়। মনের শান্তি সম্পূর্ণরূপে সুস্বাস্থ্যের উপর নির্ভরশীল। এ পার্থিব জীবনে কোন মানুষের স্বাস্থ্যই হচ্ছে তার অমূল্য সম্পদ।
 
একজন অস্বাস্থ্যকর মানুষঃ একজন অস্বাস্থ্যকর মানুষ এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অভাগা। সে তার পছন্দ মতো কিছু করতে পারে না। সে কষ্টকর জীবন যাপন করে। সে ধনী হতে পারে কিন্তু সূখী হতে পারে না। সব কিছু তার কাছে নীরস মনে হয়।
 
একজন স্বাস্থ্যবান মানুষঃ একজন রাজা যে তার স্বাস্থ্য নষ্ট করে ফেলেছে তার চেয়ে একজন স্বাস্থ্যবান মানুষ তার পছন্দ মতো সবকিছু করতে পারে এবং খেতে পারে। সে তার জীবন সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারে। কারণ স্বাস্থ্যই সকল সূখের মূল।
 
কিভাবে স্বাস্থ্যবান হওয়া যায়ঃ ইহা সত্য যে “একটি সুস্থ্য দেহের মধ্যে একটি সুস্থ্য দেহের মধ্যে একটি সুস্থ্য মন থাকে”। কাজেই আমরা যদি আমাদের দেহ সুস্থ্য রাখতে পারি তাহলে আমরা আমাদের দৈহিক সকল সুখ উপভোগ করতে পারবো। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যের সকল নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিৎ। খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণের ব্যাপারে আমাদের আত্ম সংযোমী হতে হবে। প্রতিদিন আমাদের সকালে ঘুমাতে যাওয়া উচিৎ এবং সকালে ঘুম থেকে জাগা উচিৎ। আমাদের প্রত্যেকদিন শরীর চর্চা করা উচিৎ। অবশ্যই প্রতিদিন আমাদের দাঁত পরিস্কার করতে হবে, গোসল করতে হবে, কাপড়, চিরুনী এবং চুল পরিস্কার করতে হবে। যে ব্যাক্তি প্রত্যেক দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সে সহজেই নিজেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে।
 
সতর্কতাঃ আমরা জানি যে, অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। কাজেই আমাদের অতিরিক্ত খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণ করা উচিৎ নয়।
 
উপসংহারঃ স্বাস্থ্য হল পার্থিব সকল সুখ এবং গৌরবের  চাবিকাঠি। স্বাস্থ্য জীবনের অমূল্য সম্পদ। আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিৎ যে স্বাস্থ্যই স্পম্পদ।
কারীগরী শিক্ষা
 
সূচনাঃ শিক্ষা আমাদের চরিত্রকে পূনর্গঠন করে। ইহা আমাদের প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষা এবং কারিগরী শিক্ষার মাঝে অনেক পার্থক্য রয়েছে। শিল্পবিদ্যা এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণকে কারিগরী শিক্ষা বলা হয়। ইহা মানে কোন নির্দিষ্ট শিল্পবিদ্যা বা বিজ্ঞান বা হস্তশিল্প বাস্তব সম্মত উপায়ে সম্পাদন করার শিক্ষা লাভ করা।
 
কারিগরী শিক্ষা এবং ইহার সাফল্যঃ কারিগরী দিক থেকে যোগ্য অধিক লোক ব্যতিত কোনজাতি উন্নতি লাভ করতে পারে  না। যন্ত্রবিদদের অভাব আমাদের শিল্পকারখানায় উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তাই আমাদের শিল্পকারখানায় অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে ব্যাপক কারিগরী শিক্ষার প্রয়োজন। অতএব, কারিগরী শিক্ষা ব্যতিত কোন জাতি ব্যাপক উন্নতি লাভ করতে পারে না।
 
সাধারন শিক্ষা এবং কারিগরী শিক্ষাঃ সাধারন শিক্ষা একজন তরুনকে বিশেষ করে করণিক পেশায় গড়ে তোলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন করণিক তৈরীর কারখানা। যদিও ইহা মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মানবীয় গুনাবলীর উন্নতি সাধন করে কিন্তু ইহা যথেষ্ট পার্থিব সাফল্য এনে দেয় না। কিন্তু কারিগরী শিক্ষা কোন ব্যাক্তিকে তার সুন্দর জীবিকা অর্জনে সাহায্য করে। এ বিশ্বকে সুন্দরভাবে উপভোগ করার জন্য ইহা আমাদের সূখী এবং সমৃদ্ধশালী আধুনিক জীবন দান করে।
 
কারিগরী শিক্ষার প্রকারভেদঃ বিভিন্ন ধরনের কারিগরী শিক্ষা আছে যেমন- যন্ত্রবিদ্যা, বাণিজ্য সম্মন্ধীয়  বিদ্যা, চিকিৎসা বিদ্যা, কৃষি বিদ্যা, শিল্প বিদ্যা, খনি সম্মন্ধীয় বিদ্যা প্রভৃতি। ভবঘুরে লোকদের সাহায্য করার জন্য কারিগরী শিক্ষার শাখাগুলোকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করতে হবে। ইহা বিপুল সংখ্যক নাগরিককে চাকুরির সুযোগ প্রদান করে।
 
বাংলাদেশ এবং কারিগরী শিক্ষাঃ বাংলাদেদে  শিল্প বিপ্লব দরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন অগ্রসর নয়। বাংলাদেশে এখন শত শত যন্ত্রবিদ প্রয়োজন এবং অদুর ভবিষ্যতে আরো অধিক যন্ত্রবিদের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে এখানে বিদেশ থেকে যন্ত্রবিশেষজ্ঞ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। আজ হোক বা কাল হাক আমাদের শিল্পকারখানা একদিন নিজস্ব লোক দ্বারা পরিচালিত হবে। আমাদের সরকার এ বিষয়ে গভীর মনোনিবেশ করেছেন।
 
কারিগরী শিক্ষার গুরুত্বঃ কারিগরী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক। এ শিক্ষা বেকার সমস্যার সমাধান করে। কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত লোক কম হলেও সৎ এবং সম্মানজনক উপায়ে জীবিকা অর্জন করতে পারে। প্রধানত ইহা আমাদের দেশের উন্নতি সাধন করে। অর্থনৈতিক দিকে থেকে ইহা আমাদের আত্ম নির্ভরশীল করে তোলে। দ্রুত শিল্পায়নে ইহা একটি সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করে।
 
উপসংহারঃ আমরা যদি কারিগরী শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেই তহলে হয়তবা আমরা এক উজ্জল ভবিষ্যত আশা করতে পারি। কারিগরী শিক্ষার বিষয়সমূহের পাঠদান অধিকার মাধ্যমিক স্তর থেকেই নিশ্চিত এবং প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমরা যদি কারিগরী দিক থেকে উন্নত হই, তাহলে আমরা জাতি হিসেবও সমৃদ্ধশালী হবো।
উপজেলা প্রশাসন
 
সূচনাঃ সকল সরকারের উদ্দেশ্য হল একটা উপায়ে উন্নয়নমূলক তৎপরতার ভিত্তি স্থাপন করা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ।
 
উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বঃ আমাদের দেশের সাধারন লোকের মঙ্গলের জন্য এবং প্রশাসন ও সাধারন জনগনের মধ্যে দুরত্ব কমানোর লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় জন প্রতিনিধিগণ তাদের প্রশাসনিক এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজকর্মে অংশ গ্রহনের সুযোগ পাবে। এ পরিকল্পনা মোতাবেক বাংলাদেশের সকল থানার উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে এবং সেগুলোকে উপজেলা নামকরণ করা হয়েছে।
 
এর গঠনঃ উপজেলা চেয়ারম্যান সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। তিনিই হবেন উপজেলা পরিষদের প্রধান। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হবেন এর কর্ম সচিব। উপজেলার বিভিন্ন অফিসের প্রধানগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যানবৃন্দ হবেন উপজেলা পরিষদের সদস্য।
 
এর প্রয়োজনীয়তাঃ বাংলাদেশ আটষট্রি গ্রাম নিয়ে গঠিত। তাই  বাংলাদেশের উন্নয়ন এ সকল গ্রামের উন্নয়নের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। বর্তমান প্রশাসন ব্যবস্থায় উপজেলাকে সকল প্রশাসনিক কাজকর্মের  কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত করা হয়েছে। সে কারণে স্থানীয় প্রশাসন তাদের অভাব এবং সমস্যা সমাধানের সুযোগ পায়। প্রত্যেকটি উপজেলার একটা নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে।
 
অপকারিতাঃ উপজেলা পরিষদের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীর অফিসারবৃন্দ তাদের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে না। কারণ তারা অনেক স্থানীয় বড় বড় নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হন। অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ লোকজন তাদের সঙ্গত বিচার পায় না।
 
উপসংহারঃ উপজেলা প্রশাসন উন্নত এবং সুখী বাংলাদেশ গড়ার আশা প্রদান করে। তাই আমাদের উচিৎ আমাদের গ্রামগুলোর কাঙ্খিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারকে সহযোগীতা করা।
খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা
 
সূচনাঃ শিক্ষা মানুষকে পূর্ণাঙ্গ করে। শিক্ষা ব্যতিত কেহ উন্নতি লাভ করতে পারে না। প্রকৃত শিক্ষা একজন মানুষকে শান্তিপূর্ণ পথে পরিচালিত করে এবং সে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে বিকাশ লাভ করে। আর এ সকল কারণে আমাদের সরকার “খাদ্যের বিনিমিয়ে শিক্ষা” পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
 
খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কিঃ আমাদের দেশের জনসাধারন খুবই গরীব। তারা দারিদ্র্যের কারণে তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য স্কুলে পাঠাতে পারেন। তাই সরকার আমাদের দেশে শিক্ষিত লোকের হার বৃদ্ধির জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিক্ষাকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য সরকার খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা পরিকল্পনা প্রবর্তন করেছেন। এ পরিকল্পনা নিয়ে বর্ণিত বিষয়গুলো নির্দেশ করে।
    ১) যদি কেহ অধ্যায়ন করে তাহলে সে খাদ্য সামগ্রী পাবে।
    ২) একটি নির্দিষ্ট স্তরের ছাত্র -ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষার জন্য খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হবে।
    ৩) প্রাতি মাসের মোট কর্ম দিবসের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই ৮০% হারে স্কুলে উপাস্থিত থাকতে হবে।
 
খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা এবং আমাদের জনসাধারণঃ আমাদের জনসাধারন এ পরিকল্পনা  দ্বারা কম বেশি মুদ্ধ হয়েছে। এ পরিকল্পনার প্রতি তারা স্বতঃফুর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। ইহা  আশা করা যায় যে, এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে সফল হবে।
 
এ পরিকল্পনার লক্ষ্যেঃ এ মহৎ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য অনেক। এখানে সেগুলো উল্লেখ করা হলোঃ
    ১) প্রতিটা নাগরিককে যথার্থরূপে শিক্ষিত করে তোলার জন্য এ পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে।
    ২) শিক্ষাকে সার্বজনীন করার জন্য এ পরিকল্পনা প্রবর্তন করা হয়েছে।
    ৩) জাতীকে সমৃদ্ধশালী করে তোলার জন্য এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
    ৪) জাতীয় মর্যাদাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করার লক্ষ্যে এর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
 
মহৎ এ পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বাধাসমূহঃ এ পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ বাধা রয়েছে যাহা এখানে উল্লেখ করা হলোঃ
    ১) কুশাসনজনিত সমস্যা।
    ২) মন্দভাবে পরিচালনার সমস্যা।
    ৩) স্থানীয় দালাল গঠিত সমস্যা।
    ৪) কপটনা জনিত সমস্যা।
    ৫) অবহেলা জনিত সমস্যা প্রভূতি।
 
জনসচেতনতাঃ এটা আশাতীত যে জনসাধারনের সচেতনতা যদি দিনে দিনে বৃদ্ধি পায় তাহলে এ পরিকল্পনা  সফল হবে। তাদের এ মহৎ উদ্দেশ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারকে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পরিকল্পনাকে বাস্তবে রুপান্তরিত করার জন্য সকল শ্রেণীর জনসাধারনকে তৎপর এবং সক্রিয় হতে হবে।
 
অবিলম্বে সম্পাদিত পদক্ষেপ সমূহঃ এ পরিকল্পনাকে সফল করতে নির্দেশিত পদক্ষেপসমূহ অবলম্বন করা প্রয়োজন।
    ১) অবশ্যই স্থানীয় জনসাধারনের সহযোগীতা অর্জন করতে হবে।
    ২) বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে অবশ্যই স্থানীয় জন সমর্থন লাভ করতে হবে।
    ৩) কোন অসৎ ব্যক্তি নির্বাচিত হতে পারবে না।
 
পরিসংখ্যানঃ প্রকৃতপক্ষে ইহা সরকারের একটি অতি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। এ পরিকল্পনা পল্লী অঞ্চলের জনসাধারনকে মৌলিকভাবে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রাখছে। তাদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে এ শিক্ষা সব ধরনের সাহায্য করে। ডঃ রাজিয়া আক্তার বানুর মতে “ খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ এবং আমাদের জাতির উপলব্ধি করার মধ্যে যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে।
 
উপসংহারঃ যদি এ পরিকল্পনাকে বাস্তবে রুপান্তিরিত করা যায় তাহলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী শিক্ষার আলো পাবে এবং দেশ পাবে একটি শিক্ষিত জাতি। আর এভাবেই সে হবে বিশ্বের একটি সুন্দর জাতি।
বাংলাদেশের পল্লী বিদ্যুতায়ন
 
সূচনাঃ বাংলাদেশ হল আটষট্রি হাজার গ্রামের সমষ্টি। এ সকল গ্রামের উন্নতির উপর বাংলাদেশের উন্নয়ণ নির্ভরশীল। পল্লী বিদ্যুতায়ন এমন একটি পদক্ষেপ যা বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলগুলোকে বিদ্যুতায়নের চেষ্ট করছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন একটি কঠিন কাজ।
 
পল্লী বিদ্যুতায়ণের প্রয়োজনীয়তাঃ বাংলাদেশের ছোট এবং বড় শহরগুলো বিদ্যুতায়নের সুফল উপভোগ করছে কিন্তু গ্রামগুলো এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। পল্লী অঞ্চলগুলোকে বিদ্যুতায়নের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন। গ্রামবাসীদের জীবনে পল্লী বিদ্যুতায়নের প্রয়োজনীয়তা এতই গুরুত্ত্বপূর্ণ যে ইহা সাধারন লেখনীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় না। পল্লী অঞ্চলের জনসাধারন এরই মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের অবদানের ছোঁয়া পাবে। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ছোঁয়া গ্রামবাসীদের আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে পৌঁছে দিবে।
 
কিভাবে গ্রামসমূহকে বিদ্যুতায়ন করা যায়ঃ বিভিন্ন পরিকল্পনা বা এন.জি.ও এর মাধ্যমে গ্রাম সমূহকে বিদ্যুতায়ন করা যেতে পারে। এ সংস্থাগুলো দ্রুত পদক্ষেপ অবলম্বনের মাধ্যমে এ জটিল কাজ বাস্তবে পরিণত করার লক্ষ্যে তাদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
পল্লী বিদ্যুতায়নে সরকারের পদক্ষেপ সমূহঃ আমাদের দেশের পল্লী অঞ্চলগুলোকে বিদ্যুতায়ন করার জন্য আমাদের সরকার সর্বোত্তম পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকার বুঝতে পেরেছেন যে, এ সকল জীর্ণ গ্রামগুলোকে বিদ্যুতায়ন করা ব্যতিত সারা দেশের উন্নয়ন কোন ক্রমে সম্ভব হবে না।
 
পল্লী বিদ্যুতায়ন এবং গ্রামীন উন্নয়নৎ বর্তমানে আধুনিক যুগে পল্লী গ্রামাঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। পল্লী গ্রামগুলো যদি বিদ্যুৎ পায় তাহলে গ্রামবাসীরা  ছোট বড় শহরগুলোর ন্যায় গ্রামাঞ্চলেও মিল কারখানা স্থাপন করতে পারবে। তারা টেলিভিশন, রেডিও, কম্পিউটার এবং আরো অনেক উপভোগ্য জিনিস উপভোগ করতে পারবে। প্রায়শই তাদের শহরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কাজেই আমাদের অবহেলিত পল্লী গ্রামগুলোকে বিদ্যুতায়িত করতে হবে। আর তাহলেই আমরা শীঘ্রই সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ পাব।
 
উপসংহারঃ প্রবন্ধের পরিশেষে একথাবলা যায় যে, পল্লী বিদ্যুতায়ণ কর্মসূচী যথাযথভাবে তার কার্যক্রম শেষ করবে। যদি আমাদের সমগ্র বাংলাদেশ বিদ্যুতায়িত হয় তবে আমরা একটি সুন্দর সভ্যতা পাব।
সার্ক
 
সূচনাঃ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগীতা সংস্থার সংক্ষিপ্ত নাম হল সার্ক। ইহা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি নুতন সংস্থা। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ আছে। আর এ দেশগুলো হল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ এবং শ্রীলংকা।
 
সার্কের গঠনঃ এটা নিশ্চিত যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন কম ক্ষমতাবান দেশ যেমন-আফগানিস্তান, লেবানন এবং তিব্বতের প্রতি অধিক ক্ষমতাবান দেশের উৎপীড়নমূলক ঝোঁক দেখতে পেয়েছিলেন তখনই তিনি সার্কের প্রায়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। শুধুমাত্র গরীব এবং কম ক্ষমতাবান দেশগুলোকে অধিক ক্ষমতাবান দেশগুলোর অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য তারা একটা সংস্থার মাধ্যমে ঐক্যবন্ধ হওয়ার চিন্তা ভাবনা করল যার সাহায্যে তারা অনাকাঙ্খিত ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা এবং সমাধান করতে পারে। তাছাড়াও এ সংস্থার মাধ্যমে তারা যেন যে কোন ধরনের জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে পারে। ১৯৮৫ সালের ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংস্থা কিছু অপরিত্যাজ্য অবস্থার জন্য আলোর মুখ দেখতে পায়নি।
 
পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে একটি সংস্থা গঠন করা হয়। ১৯৮৫ সালের ৭ই ডিসেম্বর সাত জাতি প্রধানদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে সংস্থাটির নাম সার্ক ঘোষনা করা হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইহার সভাপতি ছিলেন। ইহার নাম দেয়া হয়েছিল ঢাকা ঘোষনা”।
 
সার্কের লক্ষ্যঃ কোন দেশেকে সর্বোত্তম সাহায্য করার মানেই হল সর্ব প্রথমে ঐ দেশেকে গভীর এবং আন্তরিকভাবে ভালবাসা। সকল সদস্যদের সহযোগীতা নিয়ে কোন দেশের জাতীয় সমস্যাসমূহ সমাধান করতে সার্ক বন্য, সাইক্লোন, আগুন লাগা প্রভৃতি জাতীয় জরুরী অবস্থা সমূহের মোকাবেলা করবে। সার্কের সদস্যবৃন্দ অন্যের সর্বময় কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারেও একমত। শিক্ষা, ব্যবসা, যোগযোগ ব্যবস্থা এবং এমনকি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তারা একে অপরকে সাহয্য করতে প্রস্তুত।
 
উপসংহারঃ একশত কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সার্ক  গঠিত হয়। আমরা আন্তিরিকভাবে ‘সার্ক” কে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করি ইহা কখনও সাধারন মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করবে না। আমরা আরো আশা করি, যে উদ্দেশ্য নিয়ে ইহা গঠন করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য পূরণ করবে।
শান্তি চু্ক্তি
 
১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্রগ্রামের জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সংসদের সরকারী দলের চীপ হুইপ জনাব আবুল হাসনাস আবদুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সেন্তু লারমা) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।
 
চুক্তির প্রকৃতিঃ শান্তিচুক্তি বিশ্বকে দেখিয়েছে যে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে পারে। শান্তি চুক্তি পার্বত্য চট্রগ্রামের ১৮ বছরের রক্তপাতের অবসান ঘটিয়েছে। চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত আহবায়ক নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
 
চুক্তির প্রভাবঃ পার্বত্য সমস্যার একটা সমাধান বের কার জন্য অতীতের সকল সরকারই প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন কিন্তু তেমন কোন সফলতা অর্জন করতে পারেনি। পার্বত্য চট্রগ্রামের মৃত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা ১৯৭২ সালে প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন দাবী করেন। তৎকালীন সরকার তার এ দাবী প্রতাখান করেন। ১৯৭৩ সালে জন সংহতি সমিতি “শান্তি বাহিনী” নামে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে। তারপর থেকে অনেক রক্তপাত ঘটে। মানুষকে  নির্বিচারে হত্যা করা হত।
 
বাস্তবতাঃ বাস্তবতা হল এই যে পার্বত্য জেলার সাধারন মানুষ শান্তি ছাড়া কিছু চায় না। তার শান্তিপূর্ণ সাধারন জীবন যাপন করতে চায়। অনেক উপজাতি যারা প্রানের ভয়ে সীমানা পার হয়ে চলে গিয়েছিল। শান্তিচুক্তির পর তারা এখন আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। যারা সরকারের সমালোচনা করে তারা কখনও গ্রহণযোগ্য বিকল্প কিছু নিয়ে এগিয়ে আসেনি।
 
উপসংহারঃ পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কর্তৃক এ শান্তি চুক্তি যথাযথরূপে গৃহীত হয়েছে। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথে পার্বত্য অঞ্চলের উত্তেজনার আকস্কিক অবসান ঘটেছে। সর্বোপরি, আমরা আশা করি এ শান্তি চুক্তি পরবর্তী দিনগুলোতেও যেন উজ্জীবিত থাকে।
নিরক্ষরতা
 
সূচনাঃ শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ব্যতিত কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশে নিরক্ষরতার হার ব্যাপক। যার ফলে আমরা অগ্রসর হতে পারছি না। আমাদের জনসংখ্যা অনেক। আমাদের জনসংখ্যার মাত্র চার ভাগের একভাগ পড়তে ও লিখতে পারে। জনসংখ্যার অবশিষ্ট অংশ নিরক্ষর। ইহা খুবই দুঃখজনক। যদি আমাদের জনসংখ্যা পড়া ও লেখার সামর্থ্য অর্জন করতে পারে তাহলে জাতি আশার আলো দেখেতে পাবে।
 
শিক্ষার গুরুত্বঃ সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, ম্যাগাজিন প্রভূতি তথ্য এবং নির্দেশনায় ভরা। সকল প্রকারের নথি এবং হিসাব বইয়ে রাখা হয়। সব ধরনের দলিলপত্র লিখিত থাকে। গোপন তথ্যাবলী এবং সংবাদ সমূহ চিঠির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী বইয়ে লেখা হয়েছে। ডাক্তাররা ঔষধের ব্যবস্থাপত্র এবং নির্দেশাবলী লিখে দেন। এমনকি পরিত্র কুরআন সহ সকল ধর্মীয় বই লিখিত থাকে। যে সকল লোক পড়তে এবং লিখতে পারে  না তারা শিক্ষার সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সে অজ্ঞই থেকে যায়। অজ্ঞতা অন্ধকারের সামিল। অজ্ঞতার কারণে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারি না।
 
আমাদের অবস্থানঃ আমরা ষ্পষ্টতঃ উপলব্দি করছি যে নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ । আমাদের অবশ্যই নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চাই। আমদের দেশে স্কুল গমনোপযোগী বয়সের অনেক ছেলে মেয়ে আছে। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক স্কুলে যায় এবং অনেকে গবাদিপশু দেখাশুনা করে  অথবা তাদের পিতামাতাকে কৃষি কাজে সাহায্য করে। এভাবেই আমাদের শিশুদের অধিকাংশই নিরক্ষর হচ্ছে। যদি এ অবস্থা চলতে দেয়া হয় তাহলে আমাদের দেশে কখনও নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে না। এখন আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা অবাধ। ইহা খুবই আনন্দের ব্যাপার যে আমাদের সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ছাড়াও বয়স্ক শিক্ষার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইহা সত্য যে সকল অশিক্ষিত বয়স্ক লোককে একই সময়ে এ পরিকল্পনার অধীনে আনা যাবে না। ইহাও সত্য যে পরিকল্পনাধীন এলাকার মাত্র অল্প কিছু সংখ্যক অশিক্ষিত বয়স্ক লোক এ আহবানে সাড়া দিয়েছে। অশিক্ষিত মহিলারা এ কার্যক্রমে এগিয়ে আসেনি। তাদের অজ্ঞতা এবং দারিদ্রতা ইহার কারণ। যদি আমাদের অশিক্ষিত বয়স্ক লোকেরা এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চায় তাহলে বয়স্ক শিক্ষা পরিকল্পনা সফল হবে।
 
উপসংহারঃ বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে হলে আমাদের জনসাধারণের কাছে থেকে উৎসাহমূলক সাড়া পেতে হবে। তাদের সম্মুখে কিছু উজ্জল দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচিৎ আমাদের জনসাধারনকে অনুপ্রানিত এবং উৎসাহিত করে তোলা যাতে করে তারা এ পরিকল্পনাকে সফল করে তুলতে পারে।
অধিক খাদ্য ফলাও
 
সূচনাঃ এক সময় বাংলাদেশ ছিল শস্যের ভান্ডার। কিন্তু সেই সুখী দিনগুলো অতীত হয়ে গেছে। আমাদের অস্তিত্বের জন্য ইহা এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবন্ধটির নামকরণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আমরা অধিক খাদ্য উৎপাদন করি না। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে যা একটি জাতির জন্য অবশ্যই খুব দুঃখজনক।
 
কম খাদ্য উৎপাদনের কারণঃ
    ১) শত্রুভাবাপন্ন প্রকৃতিঃ সাইক্লোন, ঘুর্নিঝড়, বণ্যা এবং খরার ন্যায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের কৃষির জন্য অন্যতম ধ্বংসাত্মক কারণ। কৃষকেরা সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতির দয়ার উপর নির্ভরশীল থাকে।
    ২) প্রাচীন ভূমি পদ্ধতিঃ প্রাচীন ভূমি পদ্ধতি কম খাদ্য উৎপাদনের একটি অন্যতম করণ। ফলে ট্রাক্টরের ন্যায় আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার যা বড় আকৃতির জমিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    ৩) কৃষিবিদ্যার অভাবঃ আমাদের দেশের কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রমী। কিন্তু তাদের কৃষিবিদ্যা আধুনিক এবং বিজ্ঞান সম্মত নয়। প্রতি বছর এক খন্ড জমিতে তার একের অধিক ফসলের চাষ করে না। শস্য এবং শাকসবজির মাঝে তারা বিকল্প ফসলের চাষ করে না।
    ৪) ক্ষুদ্র ভূমিঃ বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ কিন্তু ইহার জনসংখ্যা অনেক। আমরা জমিতে অধিক শস্য উৎপাদন করতে পারি না। জমির স্বল্পতার কারনে ফল এবং অন্যান্য খাদ্য শস্য চাষাবাদের সুযোগ সুবিধা সীমিত।
 
করনীয়ঃ অধিক খাদ্য শস্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারকে অবশ্যই সার বিতরণ অব্যহত রাখতে হবে এবং একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের উপকারিতা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করে তুলতে হবে।
 
প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে চাষের উপযোগী জমি রক্ষা করা খুবই কঠিন কাজ এবং সরকারের একার পক্ষে ইহা সম্ভব নয় বা একদিনে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সরকারের উচিৎ নদীতে বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন এবং মাঠে জল সেচের ব্যাপারে অন্যান্য সকল সংস্থার মিলিত প্রচেষ্টার একটা সমন্বয় সাধন করা। যেহেতু এ সকল কার্যক্রম খুব ব্য সাপেক্ষ তাই কর্তৃপক্ষের উচিৎ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের বন্দোবস্ত করা।
 
ক্ষুদ্র পরিসরেঃ "অধিক খাদ্য ফলাও" শ্লোগান তখনই ইহার যথার্থ অর্থ খুজে পাবে যখন আমাদের গৃহকত্রীরা তাদের বাড়ীর পিছনের আঙ্গিনায় একটা সুন্দর বাগান তৈরী করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি  করবে।
 
উপসংহারঃ বাংলাদেশ সূখী সমৃদ্ধি দেশ হবে না যদি না তারা অধিক খাদ্য ফলাও শ্লোগানকে বাস্তবে পরিণত করতে না পারে।
যানযট
 
সূচনাঃ আধুনিক শহরগুলোতে যানজট একটি বিরাট সমস্যা। বড় শহরের সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত সময়ে সব ধরনের যানবাহনে পূর্ণ হয়ে যায়।
 
এর করণসমূহঃ যানবাহন চালনার নিয়ম সম্পর্কে চালকদের জ্ঞানের অভাব যানজটের সৃষ্টি করে। যানজটের অন্য গুরুতর কারণ হল প্রধান সড়কে রিক্ষা এবং দুই চাকার ঘোড়ার বা গরুর গাড়ী চলাচল। সংবাদপত্রে মুদ্রিত যানজটের ছবিগুলোতে মোটরযানের চেয়ে রিক্সা এবং দুই চাকার ঘোড়ার বা গরুর গাড়ি অধিক লক্ষ্যনীয়। সারা বছর ধরে রাস্তার চেয়ে অধিক হারে নতুন গাড়ি তৈরী হচ্ছে। শহরের পুরাতন অংশের অধিকাংশ রাস্তাগুলো সংকীর্ণ এবং সম্প্রতি রাস্তাগুলোও যথেষ্ট  প্রশস্ত নয়।
 
অন্যান্য কারণ সমূহঃ
    ১) ওয়াসা, টি.এন্ড.টি, পি.ডি.বি এবং গ্যাস পদ্ধতির সাথে সম্পর্কযুক্ত সংস্থাগুলোকে  সারা বছর রাস্তা খনন করতে দেখা যায়। তাদের কার্যকলাপসমূহ সারা বছর যানযজেটর সৃষ্টি করে।
    ২) ফুটপাতের বিক্রেতারা সত্যিকারার্থে যানজট সৃষ্টির জন্য দায়ী। তারা ফুটপাতের উপর ক্ষুদ্র দোকান স্থাপন করে পদব্রজে গমনকারী ব্যক্তিগণকে রাস্তায় ঠেলে পাঠায় যাদের চলাফেরা রাস্তায় অবাধ যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে।
    ৩) পুনঃপূনঃ ভাবে সংঘটিত রাজনৈতিক জনসভা এবং শোভাযাত্রা যানজটের সৃষ্টি করে। ইহা ভাবতেও অবাক লাগে যে, সকল প্রধান রাজণৈতিক দলগুলো রাস্তার উপর জনসভা করতে সংকোচ বোধ করে না। চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী জনগনের কাছ থেকে তারা যথেষ্ট নীরব অভিশাপ পেয়ে থাকেন। যদিও সম্প্রতি সরকার রাস্তার উপর রাজনৈতিক জনসভা এবং শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে আইন প্রনয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
উপসংহারঃ যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সকল পদক্ষেপ নিতে হবে তা হলো যানবাহন চালনার নিয়মকানুন সম্পর্কে চালকদের শিক্ষা দিতে হবে, রাস্তাগুলোকে অধিক প্রসস্ত করতে হবে, নুতন নুতন পথ তৈরী করতে হবে এবং সর্বোপরি ফুটপাতের বিক্রেতাদের তুলে দিতে হবে। আশু যানজট নিয়ন্ত্রনের জন্য অধিক স্থানে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করতে হবে।
মাদকাসক্তি একটি অভিশাপ
 
সূচনাঃ কিছু কিছু ঔষধে উত্তেজক দ্রব্য আছে। এ সকল উত্তেজক দ্রব্য ও ঔষধগুলো পুনঃপূনঃ গ্রহণে উদ্দীপনা দেয়। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সীমিত পরিমান উত্তেজক দ্রব্য মিশ্রিত ঔষধ ঘুম আনয়নের জন্য বা ব্যাথা দূরীকরণের জন্য সীমিত এবং পরিমিতভাবে ব্যবহার করা হয়। অধিক বা বার বার ঔষধ সেবন একজন মানুষকে তার আত্মনিয়ন্ত্রনের অতিরিক্ত উত্তেজনার সৃষ্টি করে। আজকাল কিছু সংখ্যক বিপদগামী বা হতাশাগ্রস্থ লোক এ সকল মাদকদ্যব্য দ্বারা আসক্ত হচ্ছে। এ ধরনের বিপদজনক দ্রব্য গ্রহণ অনেক ব্যক্তিগত এবং জাতীয় সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
 
প্রধান মাদকদ্রব্যসমূহঃ হেরোইন, কোকেইন এবং মরফিন হল নিয়ন্ত্রনাধীন মাদক দ্রব্য। হেরোইন খুবই মূ্ল্যবান মাদকদ্রব্য। ইহা বিপদজনকও বটে। মদ, আফিম এসব নিশিদ্ধ মাদকদ্রব্য সকল বাধা এবং নিশেধ আমাদের তরুন সমাজকে এ সকল বিপদজনক মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে নিবারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
 
মাদকাসক্তির কারণ সমূহঃ মাদকাসক্তির কারণসমূহ অনেক। হতাশাকেই মাদকাসক্তির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়। জীবন সংগ্রামে পরাজয়, বেকার সমস্যা, পারিবারিক স্নেহ-ভালবাসার অভাব, দূর্ঘটনাক্রমে ধন সম্পদের ক্ষতি এবং সর্বোপরি টাকা আমাদের তরুন সমাজের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি  করে। আর এ অভ্যাসটা অসৎ সঙ্গের মাধ্যমে পড়ে উঠে। মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা মাদকাসক্তির আর একটি কারণ।
 
ক্ষতিকর প্রভাবঃ একজন মাদকাসক্ত লোক অনেক খারাপ এবং অসামাজিক কাজ করে। মাদকদ্রব্য মস্কিস্কের কোষ, পাকস্থলি, হৃদপিন্ড এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি সাধন করে। নিশিদ্ধ মাদকদ্রব্য গ্রহনের তাৎক্ষনিক ফল হল প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, টলমল করে চলা, তোতলামী করে কথা বলা এবং কুৎসিত চলাফেরা। মাদকদ্রব্য আসক্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিত অকাল মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়। 
 
সমস্যার সমাধানঃ এ সমস্যা সমাধানের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে ফলপ্রদ সকল মাদকদ্রব্য অবশ্যই নিশিদ্ধ করে দিতে হবে। উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন সব মাদকদ্রব্য ডাক্তারদের সরাসরি নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। পিতামাতা এবং অভিভাবকদেরকে তাদের ছেলে মেয়েদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পিতামাতা এবং অভিভাবকদেরকে তাদের ছেলে মেয়েদের কার্যকলাপের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য ফলপ্রদ পরিকল্পনা নিতে হবে। অবশ্যই খারাপ সঙ্গগুলো পরিত্যাগ করতে হবে। যদি এ সকল পদক্ষেপ সমূহ নেয় হয় তাহলেই সমস্যাটি সমাধান হবে।
 
উপসংহারঃ মাদকাসক্তি একটি জাতীয় সমস্যা। ইহা একটি অভিশাপও বটে। মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর ফলফল সম্পর্কে প্রতিটি নাগরিককে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার, রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, শিক্ষক, সমাজকর্মী, লেখক, সাংবাদিক, চিত্রকরসহ সকলকে এ অভিশাপের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে।
সন্ত্রাস
 
সূচনাঃ সন্ত্রাস উৎপীড়নমূলক কাজ। প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শেনর জন্য এটি করা হয়ে থাকে। উদ্দেশ্য যাচাই হোক, সন্ত্রাস মূলক কার্যকলাপ সাধারন মানুষের বিপক্ষে কাজ করে।
 
সন্ত্রাসের ধরনঃ দুধরনের-রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস। পি.এল.ও স্বাধীন প্যালেসটাইন সংস্থা) এবং আই.আর.এ. (আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সায়ত্বশাসন) তাদের রাজনৈতিক দাবী সমূহ প্রকাশের জন্য সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ খুজে বেড়ায়। পুলিশ বাহিনী কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সংঘটিত হতে পারে যেমনটা হিটলারের পুলিশ বাহিনী কর্তৃক হয়েছিল। বাংলাদেশের সর্বহারা পার্টি একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল।
 
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসঃ বাংলাদেশের সকল শিক্ষাঙ্গন এখন সন্ত্রাসমূলক তৎপরতায় পরিব্যাপ্ত। প্রতিদিন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ছাত্রদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হচ্ছে এবং একে অপরকে হত্যা করছে। শিক্ষাঙ্গন জ্ঞানের স্থলে শক্তি দখল করে নিয়েছে। শিক্ষার পবিত্র ভাবমূর্তি অপবিত্র হচ্ছে।
 
তরুন সমাজ এবং সন্ত্রাসঃ তুরুন সমাজ সন্ত্রাসের শিকার। তারা মানুষকে খুন করে এবং নিজেরাও খুন হয়। তাদের নেতা পশ্চাতে নিরাপদে থাকে।
 
প্রধান কারণঃ অগনতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা সন্ত্রাসের প্রধান কারণ। সরকারী এবং বিরোধী দলসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল চরম রাজনৈতিক দল চরম রাজনৈতিক খেলায় নিয়োজিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সশস্ত্র ক্যাডারদের  দখলে এবং সর্বত্র বুলেটের আঘাতে একের পর এক দেহ  পড়ছে।
 
সমাধানঃ সাধারন লোকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধন করতে হবে। নতুন নতুন  চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে যাতে করে তরুন সমাজ টাকার জন্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে না পারে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিচারপতি এবং পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিৎ। সাধারনতঃ রাজনৈতিক দলগুলোকেই এ সমস্যা সমাধানের জন্য অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
উপসংহারঃ সন্ত্রাসের কোন শেষ নেই। কিন্তু ইহা শুধু নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তরুনরা কাদামাটির মত। সমাজস্থ অভিভাবক কর্তৃক তাহাদেরকে ভূল পথে গড়ে তোলা উচিৎ নয়। এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তাদেরকে রক্ষা করা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
 
সূচনাঃ আমরা খুবই গর্বিত কারণ ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে। ইহা এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে আমাদের মনের আনন্দ প্রকাশের যথার্থ কোন ভাষা যেন নেই।
 
কিভাবে ইহা ঘোষিত হয়েছিলঃ বিশ্বের ইতিহাসে আমাদের শহীদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি একটি অসাধারণ ঘটনা এই বিবেচনায় যে বিশ্বের অন্য কোন দেশেকে মাতৃভাষার জন্য জীবন দিতে হয়নি। এবং অত্যাচার ও সহ্য করতে হয়নি। তাই ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা দেওয়াকে একটি গর্বিত কাজ বলে মনে করেছে।
 
বাংলাদেশে ইহার প্রভাবঃ বাংলাদেশে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যাপক আলোড়িত হয়। রাজনৈতিক দল সমূহ এবং ছাত্র সম্প্রদায়ের কাছে এ সংবাদটি পৌঁছার সাথে সাথে তারা রাস্তায় রাস্তায় দিবসটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করে।
 
বিশ্বের ভাষাসমূহঃ বিশ্বে প্রায় ৪ হাজার অফিস আদালতের ভাষা আছে। প্রায় ২২ কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। ইংরেজি ফ্রেন্স, স্পেনিস, চাইনিজ এবং আরবী হল বিশ্বের কয়েকটি বিখ্যাত ভাষা। কিন্তু ইহা সত্ত্বেও বাংলা ভাষা শীর্ষ স্থানে চলে এসেছে কারণ এর মাধ্যমে এখন অন্য সব ভাষা তাদের সত্যিকার মর্যাদা লাভ করেছে।
 
উপসংহারঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের ভাষার উন্নতি সাধন করা যাতে করে ইহা বিশ্বের প্রথম সারির কয়েকটি ভাষার মধ্যে স্থান পায়। বাক্যের গঠন এবং বানান পদ্ধতিসমূহ আধুনিকায়ন করতে হবে। বাংলা ভাষা শিক্ষা বিদেশীদের কাছে সহজতর করার লক্ষ্যে বুহবিধ পরিকল্পনার উন্নয়ন সাধন করতে হবে।
প্রাত্যাহিক জীবনে বিজ্ঞান /বিজ্ঞানের আশীর্বাদ
 
সূচনাঃ আমরা বিজ্ঞানের যুগে বাস করি। বিজ্ঞানের সাহায্যে অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে। ইহা বিশ্বয়ের পর বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা ইহার উপর একান্ত নির্ভরশীল। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক জীবন বিজ্ঞান ব্যতীত কল্পনা করা যায় না।
 
বিদ্যুৎ: বৈজ্ঞানিক আবিস্কার সমূহের মধ্যে বিদ্যুৎ আবিস্কার একটি মাইলফলক স্বরুপ। ইহা মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। সত্যিকার অর্থে ইহা আমাদের আধুনিক জীবন দান করেছে।
 
দূরত্ব জয়ঃ বিজ্ঞান দূরত্ব জয় করেছে। ইহা আমদের টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টেলিপ্রিন্টার, টেলিভিশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স প্রভৃতি দিয়েছে। আমরা এখন বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সংবাদ প্রেরণ করতে পারি।
 
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ট্রেন, স্টীমার, যান্ত্রিক যানবাহন, বিমান, রকেট, স্পীড বোট, লঞ্চ প্রভৃতি বিজ্ঞানের অবদান। আমরা একস্থান থেকে অন্যস্থানে খুব দ্রুত যাতায়াতের জন্য এগুলো ব্যবহার করি।
 
চিকিৎসা বিজ্ঞানঃ চিকিৎিসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ইহা এখন আর পিছিয়ে নাই। ইহা বিভিন্ন ধরণের জীবন রক্ষাকারী ঔষধ আকিষ্কার করেছে। টিকা, এক্সরে, আন্ট্রাসোনোগ্রাফি, রোগ নির্ণয়ের অন্যান্য সর্বাধুনিক পদ্ধতিসমূহ এবং মরাত্মক রোগসমূহের ঔষধ এ সবই বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিস্কার।
 
চিত্ত বিনোদনঃ বিজ্ঞান আমাদের চিত্তবিনোদনের জন্য অনেক কিছু দিয়েছে। চিত্তবিনোদনের জন্য ইহা আমাদের রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, টেপ রেকর্ড, ভি.সি.আর প্রভৃতি দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ জিনিসগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ গঠন করে।
 
কৃষিঃ কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান অসামান্য সাধন করেছে। ইহা কলের লাঙ্গল, পাওয়ার পাম্ব, গভীর নলকূপ, সার, বিভিন্ন জাতের অধিক উৎপন্ন শস্য দিয়ে আমাদের ঐতিত্যগত কৃষিকাজকে পুনঃস্থাপিত করেছে।
 
মুদ্রনযন্ত্রঃ বিজ্ঞান কাগজ আবিষ্কার করেছে। দ্রুত বিস্তরে সাহায্য করার জন্য ইহা মুদ্রনযন্ত্র, পাইপ রাইটার এবং সাইক্রোস্টাইল মেশিন আবিস্কার করেছে।
 
সাম্প্রতিক আবিস্কারসমূহঃ আণবিক শক্তি, সুপারসনিক বিমান, মহাকাশযান প্রভৃতি বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক কিছু আবিস্কার। কম্পিউটার আধুনকি বিজ্ঞানের আরেকটি বিস্ময়কর অবদান। ইহা এখন জীবনের সকল সকল ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 
উপসংহারঃ আধুনকি বিজ্ঞান আলাদীনের চেরাগের মত। বিজ্ঞানের সাহায্যে অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে। ইহা আমাদের প্রকৃতির উপর অধিকতর শক্তি দিয়েছে। ইহা আমাদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এটা খুবই পরিতাপের ব্যাপারযে বিজ্ঞানের বিস্মযকর আবিস্কারসমূহের অনেকেই এমন প্রদান উদ্দেশ্যে ব্যাপক ভাবে ব্যাবহিত হচ্ছে।
গনশিক্ষা
 
সূচনাঃ শিক্ষা আলোর সাথে তুলনীয়। ইহা অজ্ঞতার অভিশাপ দূরীভূত করে। ইহা দেহ এবং মনের সামগ্রিক উন্নতি সাধন করে। প্রত্যেকের শিক্ষার অধিকার আছে। ইহা তাদের মৌলিক অধিকার।
 
গণশিক্ষাঃ নিরক্ষর লোকদের ব্যাপক শিক্ষা দেয়ার মানই হল গণশিক্ষা। জনসংখ্যার বৃহৎ অংশকে অজ্ঞতার গহবরে রেখে কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। গণশিক্ষা সাধারন লোককে তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্ক সচেতন করে তোলে। ইহা তাদের সুনাগরিক হতে সাহায্য করে। ইহা তাদেরকে দেশ প্রেমিকে পরিনত করে। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান শাসনামলে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এখন আমরা স্বাধীন দেশে বাস করি। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরক্ষর লোকদের শিক্ষা দেয়ার সময় এখন। ইহা আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাড়াবে যদি আমরা আমাদের জনসংখ্যার ৮০% লোককে অজ্ঞতার অন্ধকারে রাখি।
 
সরকারি প্রচেষ্টাঃ আমাদের সরকার জাতীয় এ সমস্যার ব্যাপারে সচেতন। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নেয় হচ্ছে। ইতিমধ্যে শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে রেডিও এবং টেলিভিশন প্রতিদিন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে।
 
আমাদের দায়িত্বসমূহঃ আমাদের উচিৎ গণ স্বাক্ষরতা পরিকল্পনা সফল করে তুলতে সরকারকে সাহায্য করা। প্রত্যেক গ্রামে সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগে নৈশ বিদ্যালয় খোলা উচিৎ। আর এ কাজের জন্য শিক্ষিত বেকার যুবকদের জীবিকা স্বরুপ ভাতা প্রদান করে নিয়োগ করা যেতে পারে। নৈশ বিদ্যালয়ের গরীব ছাত্রদের বিনামূল্যে পড়া এবং লেখার উপকরণ দিতে হবে। প্রতিদিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে কিছু বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
 
স্থানীয় শিক্ষকবৃন্দ এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দকের ব্যবহার করা যেতে পারেঃ এ প্রচারিভিযান পরিচালনার জন্য সরকার স্থানীয় স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দকে ব্যবহার করতে পারে। মসজিদের ঈমাম এবং ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের বার্ষিক পরীক্ষার পর এ ব্যাপারে নিয়োগ করা যেতে পারে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ইহা একটি বিশাল কাজ। এ পরিকল্পনা সফল করার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগীতা একান্ত অপরিহার্য।
 
উপসংহারঃ আমাদের সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে অধিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গণ স্বাক্ষরতা, পরিকল্পনা এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এ ব্যাপারে যদি জোড়ালো পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং সকলের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগীতা পাওয়া যায় তাহলে বাংলাদেশ থেকে অনতিবিলম্বে নিরক্ষরতার অভিশাপ উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে।
সংবাদপত্র পাঠ
 
সূচনাঃ আধুনিক জীবনে সংবাদপত্র একটি অতীতের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমাদের জন্য ইহা সংবাদ এবং চিত্তবিনোদনের অন্যান্য বিষয় বয়ে নিয়ে আসে। ইহা জ্ঞানের উৎসও বটে। সারা বিশ্বে কি ঘটছে সে সম্পর্কে ইহা আমাদের সংবাদ প্রদান করে।
 
এর গুরুত্বঃ আধুনিক জীবনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে বাড়িয়ে বলার কিছু নেই। ইহা হল সামাজিক জীবনের প্রতিফলন। এটি হল সাম্প্রতিক বিষয়াবলী সম্পর্কে সর্বশেষ জ্ঞান অর্জনের সাধারন মাধ্যম। সংবাদপত্র জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে দেশ বিদেশের খবর নিয়ে আমাদের দরজায় হাজির হয়। সংবাদপত্র ব্যতিত কেহ এক দিনের কথাও ভাবতে পারে না।
 
রাজনীতিবিদদের কাছে সংবাদপত্রের গুরুত্বঃ একজন রাজনীতিবিদের কাছে সংবাদপত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না যদি না তিনি তার প্রিয় সংবাদপত্র পাঠ করতে না পারেন। ইহা তার জন্য দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং পরিশিষে বিশ্ব সম্পর্কে তথ্য বয়ে নিয়ে আসে। তাই সংবাদপত্র তার দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
 
একজন ব্যবসায়ীর কাছে সংবাদপত্রের গুরুত্বঃ একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ের প্রয়োজনে সংবাদপত্র পাঠ করে। ইহা তাকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশী বিদেশী তৈজসপত্রের মূল্য সম্পর্কে তথ্য দেয়। ইহা তাকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কেও ধারনা প্রদান করে।
 
একজন ক্রীড়াবিদের কাছে সংবাদপত্রের গুরুত্বঃ সংবাদপত্র খেলাধুলার সংবাদও বহন করে। তাই ইহা একজন ক্রাড়ীবিদের কাছেও খুবই প্রিয়।
 
এর বিভিন্ন তথ্য ধারনঃ সংবাদপত্র পাঠ করে আমরা সাংস্কৃতিক বিষয়াবলী, বিজ্ঞানের সর্বশেষ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ লাভ করে থাকি। ইহা আবহাওয়ার খবর, বাজারের অবস্থা টেলিভিশন ও রেডিও-র অনুষ্ঠান, আমোদ-প্রমোদের বিভিন্ন খবর এবং তথ্য প্রদান করে।
 
সরকারকে উপদেশ প্রদানঃ সংবাদপত্র তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কার্যধারার মাধ্যমে সরকারকে উপদেশ প্রদান করে থাকে। ইহা সরকারকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সম্পর্কে অবগত করে এবং সেগুলো সমাধানের জন্য দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
 
ছাত্রদের কাছে এর গুরুত্বঃ আমাদের পুথিগত বিদ্যা যথেষ্প নয়। সংবাদপত্র আমাদের পুথিগত বিদ্যার পরিপুরক হিসেবে কাজ করে। ইহা বিশ্বের সর্বত্র সকল ক্ষেত্রে সংঘটিত সর্বশেষ উন্নয়নের সংবাদ পরিবেশন করে ছাত্রদের মনকে সমৃদ্ধ করে তোলে। ইহা জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার।
 
উপসংহারঃ সংবাদপত্র আধুনিক সভ্যতার মহৎ অবদানগুলোর অন্যতম একটি দান। সে সকল সংবাদপত্র শুধুমাত্র দলীয় রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত এবং গুজব ছড়ায় সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিৎ। ইহা জনসাধারনের মতামত প্রকাশ করে। কাজেই সংবাদপত্র একটি জাতি গঠনে এবং সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তোমার স্কুলের প্রথম দিন
 
সূচনাঃ মানব জীবন ঘটনা এবং অভিজ্ঞতায় ভরপুর। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা মনের গভীরে স্থান করে নেয় এবং প্রশান্তির মুহূর্তে পুনরায় জাগ্রত হয় এবং ইহা আমাদের গৃহকাতর করে তোলে। আমার স্কুল জীবনের প্রথম দিন এ শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত এবং এমনকি ইহা আমাকে এখনও উৎসাহ দেয়। এ দিনটিই আমার ছাত্র জীবনের ভিত্তি তৈরী করে দিয়েছে।
 
উত্তেজনা এবং আবেগঘন দিনঃ আমি ছিলাম ছয় বছরের এক শিশু। আর এ কারণেই আমি সঠিক তারিখ এবং স্মৃতিগুলো স্মরণ করতে পারছিনা। একদিন আমার পিতা আমাকে বললেন যে আমাকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করবেন  যাহা আমাদের বাড়ি থেকে অতি কাছে অবস্থিত। আমার অনুভুতি ছিল আনন্দ এবং ভয় মিশ্রিত। বাড়ীতে আমার মা আমাকে প্রাথমিক জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। স্কুলের অপরিচিত পরিবেশ সম্পর্কে আমি ভীত ছিলাম। আমার ভয় সম্পর্কে আমি আমার মাকে বলেছিলাম এবং তিনি আমাকে সাহস দিয়েছিলেন। অবশেষে সে দিনটি আসল এবং আমার পিতা আমাকে নিয়ে গেলেন।
 
স্কুল জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতিসমূহঃ ফটক অতিক্রম করে আমি স্কুল এলাকাতে প্রবেশ কররাম। আমি আমার পিতার হাত শক্ত করে ধরলাম। আমার চেহারা ফ্যাকাশে মনে হচ্ছিল এবং শীতের সকাল হওয়া সত্বেও আমি ঘামাচ্ছিলাম। আমাকে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তার স্নেহ সূলভ আচরণ আমাকে উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তিনি আমাকে আমার পরিচয় এবং প্রাথমিক জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিছিলেন। অতঃপর তিনি একজন শিক্ষককে আমাকে শ্রেণীকক্ষে নিয়ে যেতে বললেন। আমি দ্বিতীয় সারির একটি বেঞ্চে বসলাম। আমার কাছে সকলকে অপরিচিত মনে হচ্ছিল এবং আমি আগ্রহের সাথে প্রথম ক্লাস করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তার আচার আচরণ এতই মাতৃসূলভ ছিল যে, আমি সকল হতাশা ভূলে গেলাম। আমার পাশে বসা ছাত্রদের মধ্যে একজন আমার সাথে কথা বলেছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমরা একে অপরের বন্ধু হয়ে গেলাম।
 
অবসর সময় এবং দিনের শেষ মুহূর্তঃ দুইটি ক্লাসের পরে অবসর দেয়া হল এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা শুরু করে দিল কিন্তু আমি খেলাধুলা করলাম না বরং অবসর সময় সময় আমি নতুন বন্ধুদের সাথে গল্প করে কাটালাম। আরো দুইটি ক্লাস হওয়ার পর ঐদিনের জন্য স্কুল ছুটি হয়ে গেল এবং আমি আমার পিতার সাথে বাড়ীতে চলে আসলাম।
 
উপসংহারঃ আমার স্কুল জীবনের প্রথম দিন ভোলার যোগ্য নহে। ইহা এখনও আমার স্মৃতিতে নুতন হয়ে আছে। ইহা হল আমার ছাত্র জীবনের প্রথম দিন।
পরিবার পরিকল্পনা
 
সূচনাঃ এ বিশ্ব একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দন্ডায়মান। ভূপৃষ্ঠের উপরিস্তরের সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরী করা উচিৎ। পরিকল্পিত পরিবার বলতে কাঙ্খিত সংখ্যক ছেলে মেয়ে নিয়ে গঠিত পরিবারকে বুঝায়।
কেন এই পরিকল্পনাঃ আমাদের দেশের জনসংখ্যা প্রতি বছর শতকরা ২.১৬ হারে দ্রুত বেগে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি জনসংখ্যা এভাবে উচ্চহারে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য অতিরিক্ত জিনিসের প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমাদের সম্পদ সীমিত। যার ফলশ্রুতিতে তাদেরকে কষ্ট ভোগ করতে হবে এবং তারা  বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করবে। জ্ঞানীদের মতে ছোট পরিবার মানে সুখী পরিবার। একটি ছোট পরিবার তার সদস্যদের যথাযথ খাবার, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা এবং চিকিৎসা সেবা দিতে পারে। কিন্তু একটা বড় পরিবারের পক্ষে এতসব কিছু করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটা পরিবার অবশ্যই পরিকল্পিত হওয়া উচিৎ।
 
বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনাঃ বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক হওয়া সস্ত্বেও এদেশের নিম্ন শ্রেণীর এবং গ্রামের লোকজনের কাছে পরিবার পরিকল্পনার সূফল এখনও ভীষনভাবে অজানা। পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে তারা এখনও উদাসীন। জন্ম নিয়ন্ত্রনের যে সকল উপকরণ তাদের মাঝে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয় তা অব্যবহৃত থেকে যায়।
 
পরিবার পরিকল্পনার ব্যর্থতাঃ অধিক জনসংখ্যা সমস্যা সম্পর্কে জনসাধারনের দৃষ্টিভঙ্গি অপ্রত্যাশিত। অধিক সন্তান মানে কম খাদ্য এ যুক্তি তারা মানে না। আমাদের দেশে পরিবার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হল শিক্ষার অভাব। নিম্ন শ্রেণীর অনেক মহিলারাই প্রায় প্রতি বছর মা হন। তাই তারা শিক্ষার জন্য যথেষ্ট সময় পান না। পক্ষান্তরে জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রে মহিলাদের অগ্রগামীতা অবিভক্তভাবে সম্পর্কযুক্ত।
 
সরকারের দায়িত্বঃ পরিবার পরিকল্পনা শেষ দায়িত্ব সরকারের উপর নিহিত। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জনসাধারনের ব্যাপক শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং সে সকল শিশু জন্ম গ্রহণ করেছে তাহাদের ভালভাবে দেখাশুনা করা এবং তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সরকারকে অবশ্যই ডিগ্রীপ্রাপ্ত বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
 
কিভাবে একটি পরিবারের পরিকল্পনা করা যায়ঃ আমাদের পরিবার গুলোর সকল প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যদের উচিৎ পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশাবলী অনুসরণ করা। এছাড়াও সরকারের উচিৎ সকল স্তরের লোকজনের মধ্যে সব ধরনের অধিক সুযোগ সবিধা প্রদান করা।
 
উপসংহারঃ উপসংহারে আমি বলতে পারি যদি আমরা আমাদের পরিবারগুলো সুখী করতে চাই এবং আমাদের দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চাই তাহলে আামদেরকে অবশ্যই আমাদের পরিবাগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে তুলতে হতে হবে। আমরা যদি এতে ব্যর্থ হই তাহলে তার পরিনাম হবে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, নিরক্ষরতা, দুঃখ প্রভৃতি।
বৃক্ষ রোপন
 
সূচনাঃ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইহা প্রকৃতিকে অপরুপ সৌন্দর্যে সুশোভিত করে। ইহা আমাদের ফল, ছায়া এবং আশ্রয় প্রদান করে। আমরা বৃক্ষ ব্যতীত কোন স্থানের কথা কল্পনা করতে পারি না।
 
গুরুত্বঃ বৃক্ষ শ্বাস প্রশ্বাসে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। পক্ষান্তরে আমরা কার্বন ডাই-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি এবং অক্সিজেন গ্রহণ করি। আর এভাবেই বৃক্ষ বাতাসে গ্যাসসমূহের ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষ জলীয় বাষ্প নির্গত করে এবং আবহাওয়াকে আর্দ্র রাখে। কোন স্থানে বিপুল পরিমান বৃক্ষ পুনঃ পুনঃ বৃষ্টিপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাতার সবুজ রং আমাদের চোখের জন্য প্রশান্তিময়। তাই পরিবেশের দিক থেকে বৃক্ষ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
 
বৃক্ষ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবঃ অতীতে প্রচুর বৃক্ষ এবং বনাঞ্চল ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে এবং খুব কম লোকই নতুন গাছ রোপনের ব্যাপারে যত্নবান। তাই এখন আমাদের দেশে প্রয়োজনীয় কাঠের যথেষ্ট অভাব। নতুন গাছ রোপনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের সাধারন লোজন একেবারে অজ্ঞ। প্রতি বছর "বৃ্ক্ষ রোপন সপ্তাহ" উদযাপিত হচ্ছে এবং তুলনায় যথেষ্ট নয়।
 
বৃক্ষ রোপনের উপযুক্ত সময়ঃ জুন এবং জুলাই মাস বৃক্ষ রোপনের উপযুক্ত সময়। "বৃক্ষ রোপন সপ্তাহ" শুধু শহরগুলোতে পালন করলে চলবে না। গ্রামের প্রত্যেকটি পরিবারকে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। পুকুরের পার্শ্ববর্তী বাঁধে, রাজপথের উভয় পার্শ্বে , বাঁধের উপর এবং রেল লাইনের পাশে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। শুধুমাত্র অধিক বৃক্ষ তুলে ফেলতে হবে, সার দিতে হবে এবং পানি দিতে হবে।
 
উপকারিতাঃ জনসাধারনকে অব্যশই উপলব্দি করতে হবে যে বৃক্ষ তাদের ফল সরবরাহের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন প্রদান করে থাকে। গ্রামে আমরা খুব কম সংখ্যক আম গাছ, নারিকেল গাছ, জাম গাছ, পেয়ারা গাছ প্রভৃতি দেখতে পাই। এ গাছগুলো আমাদের শুধু ফলই দেয় না বরং ইহা আমদের আসবাবপত্র এবং জ্বালানি কাঠও দেয়। ঘুর্নিঝড়ের হাত থেকে ইহা আমাদের ঘর বাড়ী রক্ষা করে এবং প্রচন্ড সূর্যের তাপে ছায়া দেয়।
 
উপসংহারঃ বৃক্ষ কিছুটা হলেও খাদ্য সমস্যার সমাধান করবে। ইহা ভাতের উপর চাপ কমাবে। বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত মৌসুমী ফল জনসাধারণকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন সরবরাহ করে এবং সুন্দর স্বাস্থ্য গঠনে সাহায্য করে। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের প্রতিটি সদস্য যদি বৃক্ষের গুরুত্ব বোঝে বৃক্ষ রোপন করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেয় তবে আমরা আশা করতে পারি যে আমাদের দেশ একদিন বৃক্ষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।
গরু
 
সূচনাঃ পৃথিবীতে অনেক গৃহপালিত প্রাণী আছে। কিন্তু গরুই আমাদের সর্বাপেক্ষা উপকারী। গরু একটি শান্ত গৃহপালিত প্রাণী।
 
বিবরণ/অবয়বঃ গরুর শরীর ছোট ছোট লোমে ঢাকা। গরুর একটি লম্বা মাথা, দুটো কান, দুটো চোখ এবং দুটো শিং আছে। এর চারটি পায়ে খুর আছে। এ খুরগুলো দু’ভাগে বিভক্ত। এর একটি লম্বা লেজ আছে। লেজের অগ্রভাগে এক গুচ্ছ চুল আছে। সে তার লেজ দিয়ে সহজেই মশামাছি তাড়াতে পারে। গরুর উপরের চোয়ালে দাঁত নেই।
 
জাতসমূহঃ পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের গরু দেখা যায়। শর্টহর্ণ, ফ্রিসিয়ানা ও হরিয়ানাই বিখ্যাত। লাল ও ফিসিয়ানা জাতের গরু দুধের জন্য বিখ্যাত। শর্টহর্ণ জাতের গরু তার সুস্বাদু গোস্তের জন্য বিখ্যাত।
 
কোথায় পাওয়া যায়ঃ গরু পৃথিবীর সর্বত্রই পাওয়া যায়। বনে কিছু বন্য গরুও দেখা যায়।
 
রঙঃ বিভিন্ন রঙের গরু আছে। কতক সাদা, কতক কালো, কতক লাল, কতক আবার মিশ্র বর্ণের।
 
খাদ্যঃ গরু ঘাস, খড়, ভূষি এবং গাছের পাতা খেয়ে থাকে। এটি খৈল এবং শাকসব্জিও খেয়ে থাকে।
 
স্বভাবঃ গরু স্বভাবত শান্ত। সাধারনত এরা প্রতি বছর একটি করে বাছুর দেয়। সে তার বাছুরকে খুব ভালবাসে। গরু একবারে খায় না। অবসরে জাবর কাটে।
 
উপকারিতাঃ গরু আমাদেরকে পুষ্টিকর দুধ ও গোস্ত দেয়। দুধ থেকে আমরা নানা ধরনের মিষ্টি দ্রব্য পাই। গরুর গোবর ভাল সার। এর চামড়া, হাড় ও শিং থেকে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে থাকি। শুকনো গোবর জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইহার চামড়া থেকে জুতা, থলে, সুটকেস ইত্যাদি তৈরী হয়। শিং ও হাড় থেকে চিরুনী ও বোতাম তৈরী হয়।
 
উপসংহারঃ গরু আমাদের অত্যন্ত উপকারী প্রাণী। এটিই আমাদের কৃষকদের একমাত্র সম্পদ। সুতরাং গরুর প্রতি যত্ন লওয়া এবং এর প্রতি ভদ্র ব্যবহার করা আমাদের উচিত।
আমার পোষা প্রাণী / আমাদের গৃহপালিত পোষা
 
সূচনাঃ আমাদের দেশে নানা রকম পোষা প্রাণী আছে। কুকুর এবং বিড়াল আমাদের দেশে খুবই পরিচিত। আমাদের দেশের প্রতিটি গৃহে এই প্রাণী দুটি দেখা যায়। সকল পোষা প্রাণীর মধ্যে বিড়াল অধিক পছন্দ করি। আমার একটি পোষা বিড়াল আছে। এটি দেখতে খুব সুন্দর। আমি একে পুষি বলে ডাকি।
 
বর্ণনাঃ অন্যান্য বিড়ালের মতই পুষির চারটি পা, দুটি কান, দুটি চোখ এবং একটি লম্বা লেজ আছে। এর গোলাকার একটি খুব মাতা আছে। এর সমস্ত শরীর নরম লোমে আবৃত। এটি দেখতে একটি ছোট বাঘের মত।
 
এর সাথে আমার আচরণঃ আমি পুষিকে খুব ভালবাসি এবং পুশিও আমাকে ভালবাসে। যদি আমার স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হয় তবে সে মিউ মিউ করে ডাকে এবং আমাকে খোঁজে। বাড়িতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সে আমার কাছে দৌঁড়ে আসে। আমি প্রায়ই তাকে আমার কোলে নেই। তখন সে ঘড় ঘড় শব্দ করে। আমি যখন এর নাম ধরে ডাকি তখন সে আমার চারিদিকে ঘোড়াফেরা করে এবঙ খুব মিষ্ট করে ডাকে। যখন আমি স্কুলে রওয়ানা হই তখন আমাকে আন্তরিকভাবে বিদায় জানাতে ফটক পর্যন্ত এগিয়ে যায়।
 
প্রকৃতিঃ পুষি খুবই নম্র। সে আমাদের বাসা থেকে কোন খাবার চুরি করে খায় না। সে দুধ ও শুটকি খুব বেশি পছন্ন করে। যখন আমরা খেতে বসি তখন সে আমাদের চারিদিকে মিউ মিউ শব্দ করে ডাকে। আমি তাকে খাবার খেতে দেই। আমাদের বাসার প্রত্যেকেই খুব ভালবাসে এবং খাবার খেতে দেয়। সে আমার ছোট ভাই বোনের সাথে খেলতে পছন্দ করে।
 
উপকারিতাঃ পুষি আমাদের অনেক উপকার করে। রাতের বেলা সে আমাদের বাড়িতে ঘোরাফেরা করে এবং ইদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা-মাকড় মেরে ফেলে।
 
উপসংহারঃ পুষি আমার প্রিয় পোষা। সে আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মত। আমরা সকলেই তার বিশেষ যত্ন নেই কারণ আমরা তাকে আমাদের মঙ্গল ও আনন্দের জন্য পুষে থাকি। আমরা পুষিকে আমাদের পরিবারের একজন বন্ধুর মতই মনে করি।  তাই আমাদের পরিবারের প্রত্যেকেই খুব যত্নের সাথে তাকে লালন পালন করি।
আমাদের বিদ্যালয় / তোমাদের বিদ্যালয়
 
সূচনাঃ আমাদের বিদ্যালয়ের নাম------। ইহা ------জেলায় ----- সড়কের পাশে অবস্থিত। ইহা জেলায় একটি অন্যতম বিদ্যালয়।
 
বর্ণনাঃ আমাদের বিদ্যালয়টি একটি বড় উচ্চ বিদ্যালয়। ইহা দ্বিতল বিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন। এতে  সর্বমোট পঁচিশটি কক্ষ আছে। এতে রয়েছে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ। শিক্ষকদের কক্ষ। গ্রন্থাগার কক্ষ